| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| হনুমানে বলেন ঠাকুর নিরঞ্জন | অবিলম্বে যাহ তুমি ব্রহ্মার ভুবন || ধর্মের আদেশ পায়্যা পবননন্দন | ব্রহ্মার ভুবনে গিয়া দিল দরশন || সাবিত্রী সহিত ব্রহ্মা বস্যা নিকেতনে | হেনকালে হনুমান পড়িল চরণে || হনুমানে দেখি ব্রহ্মা দিলেন আসন | কেন আইলে হনুমান কহিবে কারণ || এত শুনি হনুমান বলেন হাসিয়া | আপনি অখিলপতি দিলেন পাঠায়্যা || কাঙুরের কামিখ্যা কামিনী রূপে আইসে | অষ্টাঙ্গ থাকিতে নারীর ধাউত কোথা বৈসে || এত শুনি ব্রহ্মার বদনে হৈল হাস | হনুমানে বলে কিছু বিনয় আদ্দাস || শুন শুন হনুমান শুন মোর বাণী | যুবতী ধাউতের কথা আমি নাঞি জানি || তথা হইতে হনুমান সত্বরে গমন | বৈকুন্ঠে বিষ্ণুর কাছে দিল দরশন || লক্ষ্মীর সহিত বিষ্ণু বস্যা একাসনে | হেনকালে হনুমান পড়িল চরণে || হনুমানে বিষ্ণু বহু করিলা আদর | কি কারণে আইলে বাপু পবনকুঙর || এত শুনি হনুমান জুড়ে দুই হাথ | পাঠাইয়া দিল ধর্ম অনাথের নাথ || গোলাহাটে বন্দী হৈল রঞ্জার নন্দন | ঠাকুর পাঠায়্যা দিল ধাউতের কারণ || কাঙুরের কামিখ্যা কামিনী রূপে আইসে | কহ দেখি যুবতীর ধাউত কোথা বৈসে || এত কথা কহিলে ধর্মের পূজা হয় | বল প্রভু যুবতীর ধাউত কোথা রয় || বিষ্ণু বলে হনুমান শুন মোর বাণী | বিষম ধাতুর কথা আমি নাঞি জানি || এত শুনি হনুমান বেগে ধায়্যা যায় | কৈলাসে পড়িল গিয়া শঙ্করের পায় || ভিক্ষা কব়্যা শঙ্কর আইল নিকেতনে | হেনকালে হনুমান পড়িল চরণে || হনুমানে নেহারিয়া হাসেন শঙ্কর | আসনে বসাল্য লয়্যা করিয়া আদর || কহ কহ হনুমান কুশল বারতা | কি কারণে ধাত্তাধাই কহ কোন কথা || এত শুনি কহে হনু পবন-কুঙর | পাঠাইয়া দিলেন ঠাকুর মায়াধর || চারি মুখে ব্রহ্মা যারে না পায় ধিয়ানে | হেন জন পাঠাইল তোমা বিদ্যমানে || কাঙুরের কামিখ্যা কামিনী রূপে আইসে | সর্বাঙ্গ থাকিতে নারীর ধাউত কোথা বৈসে || এই কথা যদি বল ভক্ত রক্ষা পায় | মুখ চায়্যা আমার আছেন ধর্মরায় || এত শুনি শঙ্কর হাসেন খলখল | শুনিঞা ধাউতের কথা শঙ্কর বিকল || পঞ্চমুখে অন্তরে ভাবিল শূলপাণি | নারিল বলিতে ধাউত দেবতার মণি || দন্ড ছয় শঙ্করের মুখে নাই রা | ধাউতের কথা জানে গনেশের মা || শিব বলে হনুমান বৈস এইখানে | জিজ্ঞাসিয়া আসি ধাউত পার্বতীর স্থানে || এত শুনি হনুমান পবন-কুঙর | শ্বেত মাছি রূপে গেল পার্বতীগোচর || সখিসঙ্গে পাশা খেলে গনেশ-জননী | দুর্গাকে ডাকিয়া ধাতু বলে শূলপাণি || অপরূপ কথা গৌরী দেখিনু সপনে | তিলেক না পাই সুখ তোমার বিহনে || দেবতার চূড়া তুমি সভাকার গুরু | তুমি গোপী গোবর্ধন বাঞ্ছাকল্পতরু || অপরঞ্চ শুন গৌরী যুবতীর কলা | ষোলকলা পূর্ণ হয় রতিরস বেলা || কাঙুরের কামিখ্যা কামিনী রূপে আইসে | সর্বাঙ্গ থাকিতে নারীর ধাউত কোথা বৈসে || এই কথা বল গৌরী জিজ্ঞাসি তোমারে | লাজে হেঁট মাথা গৌরী শঙ্কর-গোচরে || উত্তর দিলেন গৌরী ঈষত হাসিয়া | ধাউতের কথা জানে কোচনীর মেয়্যা || যার সঙ্গে অনুক্ষণ রসের কাহিনী | সেজন কহিব ধাউত শুন শূলপাণি || এত শুনি ধরে শিব গৌরীর বসনে | তুমি বই ধাউতের কথা কেবা জানে || এত শুনি হাসেন অভয়া কাত্যায়নী | বলেন শিবের পায় শুন শূলপাণি || এই কোন ছার কথা শুন মহাশয় | যুবতী-নয়নে ধাউত সর্বক্ষণ রয় || বিষ্ণু অগোচর বাণী বলিল ঈশ্বরী | পায় পড়ে হনুমান রাখিয়া চাতুরী || দশবার দেবীর চরণে করে গড় | তত্ত্বকথা শুন্যা বীর উঠ্যা দিল রড় || কৈলাস রাখিল বেগে স্বর্গগঙ্গাতীর | গোলাহাট একলাফে পাইল মহাবীর || লাউসেনের পাএ বেড়ি কর্পূর অচল | আপনি সদত সখা ভকত-বত্সল || হেনবেলা হনুমান আইল সন্নিধানে | ধাউতের কথা বলে লাউসেনের কানে || শুন রাজা লাউসেন বাক্যে দেহ মন | যুবতীর চক্ষে ধাউত রহে অনুক্ষণ || এই কথা ঈশ্বরী বলিল ত্রিলোচনে | কৈলাসে বসিয়া আমি শুনিনু শ্রবণে || বাক্য শুনি হাসেন কর্পূর লাউসেন | বেউশ্যাকে ডাকিয়া উত্তর তবে দেন || উপবাসী লাউসেন বলে অতি রোষে | সর্বাঙ্গ থাকিতে নারীর চক্ষে ধাউত বৈসে || এই কথা বলিতে বন্ধন খস্যা পড়ে | সাক্ষাতে সমস্যা কথা শুন্যা প্রাণ উড়ে || হেঁটমাথা বেউশ্যা বসিল বিদ্যমান | কর্পূর বলেন মাগীর কাট নাক কান || লাউসেন বিজই হইল গোলাহাটে | মাথার লোটন নটীর নাক চুল কাটে || গোলাহাটে বেউশ্যার কাটে নাক কান | যেন, সূর্পনখার লক্ষ্মণ করিল অপমান || উদ্ধার করিয়া গেলা দেব নিরঞ্জন | বৈকুন্ঠে গেলেন ধর্ম পবন-নন্দন || ছকুড়ি নাগর বন্দী ছিল গোলাহাটে | ক্রমান্বয়ে সভার বন্ধন দশা কাটে || নানা ধনে গৌরব সভারে দিল রায় | আশিস করিয়া তারা নিজ দেশে যায় || হেন বেলা কর্পূর করেন নিবেদন | অবিলম্বে চল যাই গৌড় ভুবন || তোমার পূণ্যেতে দাদা সর্ব ঠাঁই জয় | পার হৈলে ভৈরবী মনের ঘুচে ভয় || . ****************** . গোলাহাট পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
