| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| লাসের উপর বেশ তায় দিল চুয়া | নাপান করিয়া খায় গোটাদশ গুয়া || চরণে নূপুর দিল গাএ সুধাকর | সঙ্গে কব়্যা নিল নটী ছকুড়ি নাগর || সনকা গুরীক্ষা সঙ্গে অপূর্ব সাজনি | প্রমাণ বয়স যেন চাঁদের রুহিণী || পানের সম্পত্ত হাথে নিল জলঝারি | অশেষ নাপানে চলে সুরীক্ষা সুন্দরী || গুয়া পান পড়্যা নিল ওষধ আপার | যার গুণে বন্দী হৈল ছকুড়ি কুমার || আশেপাশে ছকুড়ি নাগর মনুহর | নানা চিত্র পরিধান অমূল্য অম্বর || বসনবিহীনা কেহ গাএ উড়ে খড়ি | ছকুড়ি নাগর সভাকার পাএ বেড়ি || ছাগল গাড়র হয়্যা বেউশ্যার ঘরে | সমস্যা কারণে বন্দী ছকুড়ি নাগরে || রাত্রি হৈলে সুনাগর ফিরে বাড়ি-বাড়ি | দিন হৈলে সভাকার পজে দেই বেড়ি || চামর বিনয়ী পাখা সভাকার হাথে | চলিল নাগর সহ সুরীক্ষার সাথে || লাউসেনে ভুলাতে নটী সত্বরে পয়ান | কড়চে বান্ধিয়া নিল মদনের বাণ || কুঞ্জর সমান গতি চলে পায় পায় | কতখান নাপান সঘনে গড়ি যায় || আশে পাশে চামর বিনয়ী পড়ে বা | মধুস্বরে করে গান কোকিলের রা || কস্তুরী চন্দন অঙ্গে পরম শীতল | অপূর্ব বসনে বেশ অরুণ কমল || মহাশব্দ কুতূহলে করিল গমন | মনে করে নাগরে দেখিব কতক্ষণ || ছকুড়ি নাগর সঙ্গে উভরড়ে ধায় | মনে করে নাগর গৌউড় পাছে যায় || গোলাহাট পশ্চাত করিল নটীশ্বর | দেখিল লাউসেন যায় গৌড় শহর || ধাত্তাধাই গিয়া নটী আগুলিল গন | সমুখে দান্ডাল্য নটী সাক্ষাত সলন || ছকুড়ি নাগর গিয়া করিল বেষ্টিত | তারাগণ শোভে যেন চন্দ্রের সহিত || কর্পূর লাউসেন দেখি মনে সবিস্ময় | অকস্মাৎ পথে কেন অকাল প্রলয় || বিপদ দেখিয়া তবে দুই ভাই কান্দে | রাহু যেন বেষ্টিত করিল আস্যা চান্দে || সুরীক্ষা সুন্দরী হৈল রাহু হেমলতা | কমল কলিকামণি কাঞ্চন মুকুতা || বদনে মিশায় হাসি বিজুরি সঞ্চারে | ভুলিল সুরীক্ষা মন দেখিয়া নাগরে || হাসে নাচে গায় নটী নাপান করিয়া | আলিঙ্গন মাগে সেনে বাহু পসারিয়া || কর্পূর বলেন শুন লাউসেন ভাই | অকস্মাৎ পথে ধর্ম বাড়াল্য বালাই || আসিতে তখন মান্য করিনু বিস্তর | সুরীক্ষা নটিনী এই ছকুড়ি নাগর || তুমি বল সখা মোর শ্রীধর্ম গোসাঁই | সুরীক্ষা সাক্ষাতে তব জানিব বড়াই || এত বলি দুই ভাই করে কানাকানি | যাইতে নারিনু প্রায় গোউড় অবনী || এক দৃষ্টে সুরীক্ষা যাহার পানে চায় | সপিনী দংশিলে যেন বিষ চড়ে গায় || সুরীক্ষা বলেন শুন বৈদেশী নাগর | পরিচয় দেহ তুমি কাহার কুঙর || কোন কুলে জনম নিবাস কোনখানে | কিবা নাম কার সূত বল বিদ্যমানে || কর্পূর বলেন দাদা অবধান কর | পরিচয় দিয়া চল গৌড় শহর || এত শুনি লাউসেন দিল পরিচয় | কর্ণসেনের পুত্র আমি রঞ্জার তনয় || দশবান সোনায় নির্মাণ এই ফলা | ভুবনবিজই নাম লাউসেন বালা || সঙ্গে ছোট ভাই এই কর্পূর পাতর | রাজ সম্ভাষণে যাই গৌড় শহর || মহাপাত্র মামা মাস্বা গৌউড় রাজন | পরিচয় দিনু নটী ছাড়্যা দেহ গন || এত শুনি সুরীক্ষা হাসেন খলখল | শুন রাজা লাউসেন বচন বিরল || সম্বন্ধ পাতায় নটী বাড়ায় পিরিতি | সম্বন্ধে লাউসেন রাজা তুমি মোর নাতি || এত বলি মায়ায় লোচনে বহে লো | কর্ণসেন সম্বন্ধে আমার বন্য পো || তোর পিতা গোউড় যাইত নিরন্তর | মাসী মাসী বলিয়া আসিত মোর ঘর || সর্বকাল সম্বন্ধে তাহার হই মাসী | একদিন থাকিয়া বঞ্চিয়া যাও নিশি || শুন রাজা লাউসেন কর্পূর পাতর | আজি বাসা নিতে চল মোর বাসঘর || একবার আমা প্রতি দিবে আলিঙ্গন | নিরবধি অঙ্গে দিব কস্তুরী চন্দন || আজি গিয়া আমার মন্দিরে লবে বাসা | একদিন থাকিয়া দেশের শুন ভাষা || তিন সন্ধ্যা শুনাইব কিন্নরের গান | মুখে তুল্যা সদাই যোগাব গুয়া পান || ছকুড়ি নাগর হবে তোমার নফর | তুমি নিজ পতি হবে কর্পূর দেওর || গোলাহাটে লাউসেন তুমি হবে রাজা | পাটে বস্যা আনন্দে করিবে ধর্মপূজা || নিরবধি বুকে থুব করিয়া মাদুলি | আমি হব পদ্মফুল তুমি হবে অলি || চামর বিনয়ী বায়ে সুখে নিদ্রা যাবে | নানা পুষ্প পারিজাত শয়নে বঞ্চিবে || ঘৃত অন্ন বিলাস করিবে সুধা ক্ষীর | রতিরসে বিলাস করিবে মহাবীর || এত শুনি বলেন ময়নার তপোধন | শিশুকাল হৈতে কভু পাপে নাই মন || . ****************** . গোলাহাট পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
