| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| এতদিনে বিধাতা করিলা সর্বনাশ | কলিযুগে ধর্মপূজা না হল্য প্রকাশ || ওহে ধর্মঠাকুর এমন কেন ঘটে | বিষ খায়্যা নিশ্চয় মরিব গোলাহাটে || কমল বদন ছিল হইল মলিন | কুলশীল কপালগুণেতে হৈল হীন || জনক জননী পুনু না দেখিব আর | বল দাদা উপদেশ লাউসেনকুমার || লাউসেন বলে ভাই মনঃকথা নাঞি | আমার সারথি বটে শ্রীধর্ম গোসাঞি সুরীক্ষা বলেন আসি অন্ন খায়্যা রায়|| নতুবা সত্যের হেতু জন্মিব আপায় | আপনি করিলে সত্য সভার সাক্ষাত || আমার হাতেতে তুমি খাত্যে চাইলে ভাত | যদি রাজা লাউসেন সত্য কর দূর || সত্য লঙহিলে ধর্ম হবেন নিষ্ঠুর | হরিশ্চন্দ্র মহারাজা সত্যের লাগিয়া || বনবাসে গেল তিঁহ দ্বিজে রাজ্য দিয়া | সিংহাসনে রাখিয়া অরণ্য সার করে || বালক বনিতা বন্দী পাটনীর ঘরে || বেউশ্যার বচনে ময়নার তপোধন | লোচনযুগল বহে জাহ্নবীজীবন || লাউসেন বলে শুন প্রভু ধর্মরাজ | পূরবে করিলে দূর দ্রৌপদীর লাজ || দ্রুপদরাজার কন্যা পাশায় হারিল | সভামধ্যে দুঃশাসন উলঙ্গ করিল || বস্ত্ররূপী সখা হয়্যা লজ্জা কৈলে হর | শুনিঞা ভরসা মনে হয়্যাছে বিস্তর || তোমার মহিমা প্রভু শুন্যাছি পুরাণে | বিষ অন্ন প্রসাদে রাখিলে নারায়ণে || পঞ্চম পাপের পাপী অজামিল ছিল | তব নাম নিতে পাপী স্বর্গ চল্যা গেল || এত বলি কর্পূরের বদন মুছি রায় | বেউশ্যার অন্নে খাত্যে লাউসেন যায় || মণিরাম ভাবিয়া বসিল দুই ভাই | অন্ন কোলে মনঃকথা জন্মিল বালাই || দুই ভাই করেতে লইল জলার্চন | লোচনে বহিয়া যায় গঙ্গার জীবন || পুনরপি লাউসেন নিল জলার্চন | দুই আঁখি মুদিয়া সঙরে নিরঞ্জন || মহাভারথের কথা সব পড়ে মনে | অর্জুনের সখা গুরু শুন্যাছি পুরাণে || বিদুর উদ্ধার পাইল প্রহ্লাদ মুকতি | পরীক্ষিত মুক্ত হৈল চতুর্ভুজ গতি || কেবল ভরসা মনে ও-রাঙ্গা চরণ | সুরীক্ষার অন্নে প্রভু করহ তারণ || অভয় চরণে মতি অনুক্ষণ যার | রণে বনে সলিলে সকলে হবে পার || এত বলি ধর্ম জপে মুদিয়া নয়ান | মনে হোম মনে যজ্ঞ মনে অর্ঘ্যদান || মনে মনে সঙরণ করে বারে বার | হেনকালে বৈকুন্ঠে জানিল করতার || বেউশ্যার অন্ন কোলে করে জলার্চন | ব্রহ্মাদি দেবতা ডাক্যা কহে নিরঞ্জন || আমার বচন সভে শুন মন দিয়া | কশ্যপনন্দনে মহী দিনু পাঠাইয়া || এত বলি সত্বর চলিলা ভগবান | অনেক দেবতা সঙ্গে চলে হনুমান || যম হইল কোকিল ইন্দ্র হইল কাক | বেউশ্যার চালে আস্যা জুড়িলেক ডাক || কাক ডাকে কোকিল সুনাদ ঘন পুরে | শুনিঞা ভরসা হৈল লাউসেন অন্তরে || হনুমানে বলেন ঠাকুর মায়াধর | সূর্যকে আনিতে যাহ সুমেরু শিখর || এত শুনি গেল হনু সূর্যের ভুবনে | ধাত্তাধাই ঐমণি চলিল নিরঞ্জনে || জলার্চনা করিতে বস্যাছে দুই ভাই | সেইখানে দিল দেখা শ্রীধর্ম গোসাঞি || শ্রীধর্ম বলিয়া জল লইল সাক্ষাতে | হেনকালে ধরে ধর্ম দুজনার হাথে || দুজনার করেতে ধরিয়া নিরঞ্জন | যেন, বিষ অন্নে প্রসাদে রাখিল নারায়ণ || ঠাকুর বলেন বাছা মনঃকথা নাই | পরিচয় দিল আমি শ্রীধর্ম গোসাঞি || ভকত ভাবিলে মনে অনুক্ষণ পায় | গাভীর পশ্চাতে যেন বত্স তার ধায় || একদন্ড বিলম্ব করিবে তপোধন | ঐমনি লাউসেন নিবারে জলার্চন || ভক্ত লয়্যা এখানে রহিলা মায়াধর | সুর্যের ভুবন পাইল পবন-কুঙর || ধর্মের আজ্ঞায় ধর্মের দাস গায় | পলাসনের বিলে যারে হৈলে বরদায় || সূর্যের সাক্ষাতে হনু দিল দরশন | চরণে ধরিয়া বলে পবন-নন্দন || সপ্তম পাতালে সূর্য আছ লুকাইয়া | হনুমান বলে বাণী দ্রুতগতি হয়্যা || সুমেরু উদয় হৈতে করহ গমন | গোলাহাটে রক্ষা পায় রঞ্জার নন্দন || সঙ্কেতে কহিল হনু সকল বিধান | রাত্রের ভিতরে কর সুমেরু পয়ান || এত শুনি সূর্য বড় ক্রোধিত হইল | বীর হনুমানে কিছু বলিতে লাগিল || বনের বানর তুমি স্বভাবে গোলক | আমি কুড়াইতে যাব সংসার পাতক || অবনীমন্ডলে যত মহাপাপ হয় | সেই সব পাতক আমার রথে বয় || দশদন্ড শর্বরী গগনে শেষ হৈল | পুন উদয়ের নামে পরাণ উড়িল || বিষয় রাখিব গিয়া দেবতার মাঝ | হেন ছার বিষয়ে আমার নাঞি কাজ || এত শুনি জ্বলন্ত হইল হনুমান | মনে নাঞি পড়ে বেটা বাল্মীক পুরাণ || . ****************** . গোলাহাট পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
