| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| ষোল কোশে রহিল রাজার ফরিকাল | দিশা হারাইয়া তবে ভাবে মহীপাল || সরোবর নাই তথা সব শালবন | তৃষায় আকুল হৈল রাজার জীবন || মনে ভাবে লোকের উদ্দিশ পাব কোথা | না জানি কি করে আজি দারুণ বিধাতা || দৈবহেতু বল্লভা-মন্দির দরশন | দিশা হারাইয়া তবে জিজ্ঞাসে রাজন || এই বনে পত্রের মন্দিরে আছ কে | ধর্মপাল রাজা ডাকে পরিচয় দে || নিঃসরিল বল্লভা চিনিল প্রাণনাথ | দন্ডবত চরণে লোচনে অশ্রুপাত || রাণী বলে আইস কাছে বৈস নৃপমণি | জিজ্ঞাসিল কেমন আছহ রাজরাণী || ক্ষুধায় কাতর তনু অন্ন দেহ খাই | তবে পাছু আনন্দ মনের প্রীত পাই || রাজার বচন শুনি বল্লভা পদ্মিনী | প্রণাম করিয়া ভূপে কহে জোড়পাণি || অন্নের অভাব হেথা ফলমূল খাই | তোমা হেতু সই-এর মন্দিরে নহে যাই || শশীমুখী চেড়ী থাকে রাজার সেবনে | উত্তরিল বল্লভা সই-এর নিকেতনে || সই-এর চরণে গিয়া কৈল নমস্কার | বিজয়াকে বলিল স্বামীর সমাচার || অতিথ হয়্যাছে আসি ক্ষুধায় বিকল | চালি ডালি তৈল দিবে নুন চক্রফল || দুই চক্রফল দিয়া বলেন বিজয়া | নিরবধি বল্লভা তোমারে আছে দয়া || বিরলে বসিয়া বলে বিশেষ সম্ভাষি | দ্বাদশ বত্সর কেন তুমি বনবাসী || বনবাস দিল সয়া কিসের লাগিয়া | এই লহ ঔষধ খাওাবে অন্ন দিয়া || কিছু বা মিশাল দিবে ব্যঞ্জনের সাথে | এইরূপে ঔষধ করিবে প্রাণনাথে || প্রবন্ধ ঔষধ নিলা রসের চাতুরী | বসনে ঔষধ বান্ধে বল্লভা সুন্দরী || পুনর্বার সই-এর চরণে অবনতি | রাজার সমুখে রাণী আইল শীঘ্রগতি || বোলচাল নাই রাণী বসিল রন্ধনে | এ পাঁচ ব্যঞ্জন অন্ন রান্ধিল যতনে || ভাজনে ঢালিল অন্ন যেন কুন্দফুল | তায় দিল ঔষধ অনন্ত যার মূল || বিজয়ার বচনে ব্যঞ্জনে কিছু দিল | অন্নের সহিত থালা নাচিতে লাগিল || বল্লভা সুন্দরী কান্দে শিরে দিয়া হাথ | অন্ন খায়্যা মরে পাছে মোর প্রাণনাথ || সেই অন্ন বল্লভা রাখিল বামভাগে | আর অন্ন আনি দিল ভূপতির আগে || ক্ষুধায় ব্যাকুল রাজা করিল ভোজন | আচমন সারি হয়বরে আরোহণ || ভাল মন্দ বল্লভাকে কিছু না বলিল | ঘোড়ায় চাবুক দিয়া গোউড় চলিল || ছয় দন্ডে পাইল রাজা গোউড় ভুবন | বল্লভা কাননে বসি করেন রোদন || স্বামী না দেখিয়া রাণী হায় হায় করে | দ্বিজ রূপরাম গান অনাদ্যের বরে || একমনে শুন সভে অপূর্ব কথন | লাউসেনে তত্ত্ব কন পবননন্দন || তবে রাণী বল্লভা ঔষধ অন্ন নিল | ভাজন সহিত জলে ভাসাইয়া দিল || ভাসিতে ভাসিতে গেল যমুনার জলে | দক্ষিণ সাগর পাইল যথা নীলাচলে || সেতুবন্ধে সেই অন্ন দরশন দিল | মূর্তিমান সমুদ্র যেখানে বস্যাছিল || সুধাময় অন্ন দেখি সূর্যের থালে | ঐমনি ভোজন করে বসিয়া পাতালে || বল্লভার অন্ন সিন্ধু করিল ভোজন | আচম্বিতে ঔষধে চঞ্চল হৈল মন || ক্ষেপা হৈল সমুদ্র বল্লভা বলি ডাকে | দেবতা পাগল হৈল ঔষধের পাকে || যথা ছিল বল্লভা সেখানে দেখা দিল | ধর্মপালসম রূপ সমুদ্র ধরিল || বল্লভার প্রতি বলে আলিঙ্গন দেহ | রক্ষা কর জীবন হাথের পান লেহ || না বলিতে বচন ঐমনি আলিঙ্গন | স্বামীর ভরমে রাণীর কুসুম-শয়ন || দুজনে ভুঞ্জিল রতি অনুহিতময় | বল্লভা চিন্তিল মনে মোর স্বামী নয় || যুবতীকে ছাপা নর স্বামীর বেভার | মায়াধারী কোন জন আইল কোথাকার || বসনে ধরিয়া রাণী কহে পরিতাপ | গঙ্গাজল হাথে নিল দিতে অভিশাপ || আমি নই বৃন্দা সতী অপর অঞ্জনা | কেবা দূর করিল আমার সতীপনা || সতীর বচন শুনি সমুদ্র কাতর | সবিনয় ভাবে বলে আপনি সাগর || পরিচয় কহি আমি সূর্যবংশের নাতি | সাগরের মূর্তি আমি সাগর খিয়াতি || জন্মিবে তোমার গর্ভে রাজা গৌড়েশ্বর | করজাপ্য সমুদ্রকাটারি হাথে ধর || দুই দ্রব্য দিল সেই বল্লভার করে | নহে-বা গৌড়ের রাজা সেই বল ধরে || অনেক দিবসে রাজা ধর্মপাল মৈল | সেই বলে গৌড়েশ্বর বলবন্ত হৈল || পুনরপি যাহ তুমি গোউড় শহর | শুনিঞা চলিল সেন বল্লভার ঘর || অন্তর্ধান হৈল তবে পবননন্দন | থানা করি বীর কালু রহিল তখন || ঘোড়ার রাউত রাজা সত্বর পয়ান | দরশন গোউড়ে বল্লভা বিদ্যমান || দুয়ারে রাখিয়া অশ্ব চরণে পড়িল | সমুদ্রকাটারি দেহ বিরলে বলিল || করজাপ্য মাল্য দেহ কি বলিব আর | কাঙুর মহিম যাব গন্ডকীর পার || সেনের বিনয়ে রাণী দুই দ্রব্য দিল | ঘোড়ার রাউত পুন গন্ডকী আইল || সমুদ্রকাটারি রাখে গন্ডকীর জলে | বানবন্যা সব গেল সপ্তম পাতালে || দলে বলে লাউসেন পাইল বালিচর | মোকামে করিল গড়ে কাঙুর উপর || জোড়া শিঙ্গাসারে কালু বলে ধর ধর | মোকাম করিল সেন গড়ের উপর || অনাদ্যের পদরেণু ভরসা কেবল | দ্বিজ রূপরাম গান ধর্মের মঙ্গল || হেথায় রহিল গীত সভে বল হরি | রথভরে ধর্মরাজ চল স্বর্গপুরী || . রত্নসিংহাসনে ধর্ম ডাললেন গা | . উলুক যোগায় শ্বেত চামরের বা || . ****************** || কাঙুরযাত্রা পালা সমাপ্ত || . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
