রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
এত বলি করজাপ্য ধরিয়া দেউলে |
সমুখে দুয়ারে কালু বান্ধে কুতুহলে ||
মাল্য দরশনে দুঃখ মরমে বাজিল |
দেহারা ভাঙ্গিয়া দেবী উভরড় দিল ||
কৈলাস শিখরে দুর্গা দিল দরশন |
শূন্য হইল শনিবারে কাঙুর ভুবন ||
দেউলের চূড়া ধ্বজ পড়িল ভূতলে |
বিপত্ত পড়িল বড় রাজা কর্পূরধলে ||
নানা অমঙ্গল ঘটে দৈব হৈলে বাম |
মনে করে কালুসিংহ জিনিষ সংগ্রাম ||
কাছাড়িয়া পাটহাথি বধিব এখন |
কর্পূরধল সহিত অবশ্য দিব রণ ||
এত অনুমান মনে করিল বিশাল |
শহরে আরম্ভ করে বিষম জঞ্জাল ||
ঢালী পাকি পালাইতে পদ্ধতি না পায় |
বীর কালু দেখি তবে চিন্তিল উপায় ||
কুন্তল ধরিয়া কার মনস্তাপ দেই |
ঢাল খড়্গ কবচ ধনুক তীর লেই ||
ব্রহ্মচারী আছিল হেত্যার বান্ধে আগে |
কাঙুরের নিশাপতি পরিচয় মাগে ||
রাজার কোটাল আমি নাম রণজয় |
ভেকধারী তপস্বী হেত্যার নাহি বয় ||
পিঙ্গল বরণ জটা বিভূতিভূষণ |
এত পরাক্রম দেখি কিসের কারণ ||
এহার উচিত শাস্তি পরিণামে পাবে |
লম্পট ভূতলে যেন বুলে অন্যভাবে ||
কঠিন কর্পূরধল কাঙুর ভূপতি |
যার বাক্যে ইন্দ্র যম সদা মন্দগতি ||
এগার সিন্ধুর পতি পাইল পরাজয় |
গোউড় মান্ধাতা কাছে কথা নাঞি কয় ||
এই রাজ্যে নাহিক যমের অধিকার |
পদ্ধতি উপরে লহ হাথের হেত্যার ||
তীর্থবাসী হইয়া এমন করে কে |
ক্ষেমিলাম তপস্বী হেত্যার পেলি দে ||
এইরূপে তস্কর ডাকাত চোর বুলে |
ব্রহ্মচারী হানিতে ঐমনি অসি তুলে ||
কোপে কম্পমান কালু ডোমের নন্দন |
অনর্থ বাড়িল গুরু কাঙুর ভুবন ||
দেখা দিল চৌদিগে রাজার দলবল |
দ্বিজ রূপরাম গান শ্রীধর্মমঙ্গল ||

বীর কালু বলে শুন শহর কোটাল |
তস্কর তপস্বী নই আমি তোর কাল ||
লাউসেন মহারাজা ময়না-ঈশ্বর |
আমি বটি বীর কালু তাহার চাকর ||
মোকাম করিল রাজা গন্ডকীর কূলে |
এখনি বধিব আমি রাজা কর্পূরধলে ||
আজি হৈতে সমর জিনিব একেশ্বর |
দেখাদেখি এখনি পাঠাব যমঘর ||
এত বলি ধনুকে টঙ্কার দিল বীর |
আগু হৈল কাঙুর কোটাল রণধীর ||
নিজ সেনা সংহতি সত্বর হানা দিল |
রণকাড়া উড়াপাত চৌদিগে পড়িল ||
তেঘাই দুন্দুভি দামা দগড় নিশান |
চৌদিগে ঘেরিল সেনা মগল পাঠান ||
ঝাঁকে ঝাঁকে তীর পড়ে কালুসিংহের গায় |
তথাপি ডোমের বেটা ফিব়্যা নাহি চায় ||
ধনুকে টঙ্কার শুনি কাঁপে দিগন্তর |
তুরঙ্গে সিফাই যুঝে বৃষ্টি করে শর ||
লম্ফ দিয়া উঠে ঢালী দশ বিশ হাত |
উতারে ঐমনি-অসি যেন বজ্রাঘাত ||
শিলিদার শিল ছুড়ে কামান সত্বর |
দামদুম গোলা পড়ে কালুর উপর ||
বীর কালু মনে করে ঈশ্বরী-চরণ |
সমরে রুষিল যেন এ কাল শমন ||
হান হান হুহুঙ্কার ঘন ঘন দেই |
অবহেলে যত সেনা যমঘর লেই ||
ডোমের নন্দন কালু রুষিল সমরে |
হাঁফালে অবনী কাঁপে যম কাঁপে ডরে ||
অন্তরীক্ষে ঐমনি ফলঙ্গ চারি পাঁচ |
বিক্রমে পর্বত কাঁপে সমুদ্রের মাছ ||
একেক তরঙ্গে ঢালী হানে দশ বিশ |
মহা অষ্টমীর যেন ছাগল মহিষ ||
সর্দার সিফাই হানে গড়াগড়ি যায় |
চিত্ত-ঐরি অহর্নিশ রক্ত যেন খায় ||
তবকী বন্দুকী হানে টায়া বান্ধা তাই |
রুধিরে অবনী পূর্ণ চৌদিগে তেঘাই ||
আশি কাহন দেখা দিল কোটালের ঠাট |
নেব কোটালিয়া বলে হান কাট কাট ||
অকস্মাত ঘোর শব্দ ধুন্ধুকারময় |
দুপুরে কৌশিকী দেখা দিল অতিশয় ||
রামশিঙ্গা অঘোর দগড়ি দামা বাজে |

.      ******************      

.                                                   
লিঙ্গবিভা পালার পরের পৃষ্ঠায় . . .  
.                                                                      
পাতার উপরে . . .   


মিলনসাগর
লিঙ্গবিভা পালার আগের পৃষ্ঠায় . . .
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকু পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা     
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
কলিঙ্গবিভা পালা
পৃষ্ঠা -