| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| কালুসিংহের রণে সাজে ছত্রিশ বরণ | প্রতাপে পর্বত কাঁপে ধরণী পবন || কুঞ্জর উপরে সাজে রাজা কর্পূরধল | চারিদিগে বেষ্টিত চলিল পরদল || আপনি সাজিল রাজা কালের সমরে | সভা আগে ঢালী পাকি ঢালে মাথা উরে || দ্রুতগতি তুরঙ্গ কুঞ্জর পায়ে পায় | সুবর্ণের ঘন্টা বাজে হাথির গলায় || দলবল কালুর সমুখে দেখা দিল | কাঙুরের গড়ে বড় বিপাক পড়িল || কুরুক্ষেত্রে যেমন বাদ্যের লেখা নাই | ততোধিক মহাবাদ্য বাজে কত ঠাঁই || এক ঠাঞি দুই শত রামশিঙ্গা বাজে | বীর কালু বলিয়া সকল সৈন্য তাজে || সভা আগে ফরিকাল ধানুকী পশ্চাত | তার পাছু পদাতি বন্দুকী তার সাথ || অপরঞ্চ হস্তীধটা যেন মেঘমালা | কপালে সিন্দুর পূর্ণ দশদিগ আলা || চারি দল হইল পশ্চাত অনুবল | দিগে দিগে কালুকে বেড়িল কর্পূরধল || পঞ্চপাত্র তখন রাজাকে কিছু কয় | কার সঙ্গে যুদ্ধ দিবে নাই পরিচয় || কোথা হৈতে কেবা আইল ধরি কালরূপ | বিপাক প্রলয় বড় মনে কর ভূপ || রণস্থলে ঐমনি রহিল রাজসেনা | নিষেধিল সভাকে সম্প্রতি দিতে হানা || জিজ্ঞাসিল কর্পূরধল কালুসিংহ প্রতি | তোমার নিধন হেতু এত সেনাপতি || তুমি কার চাকর নিবাস কোন দেশ | কোন বর্ণ আপনি বলিবে সবিশেষ || পরাক্রম এত কেন কাঙুর ভুবনে | শরণ পশিলে বেটা রাখিব জীবনে || ভূপতি বলিল যদি বসিয়া বারণে | বীর কালু বলে তবে শঙ্কা নাই মনে || লাউসেন মহাবীর ময়না-ঈশ্বর | মোর নাম কালুসিংহ তাহার চাকর || রমতিনগর সাতপুরুষ মিরাস | এ বার বত্সর হৈল ময়না নিবাস || রামরাজা লাউসেন ধর্মের পূজা দিল | পার হয়্যা গন্ডকী কাঙুরে থানা দিল || ঘোড়ার রাউত রাজা সঙ্গে তের বীর | লঙ্কা প্রতি রাম যেন সমুদ্রের তীর || যদি কিছু বাসনা তোমার মনে থাকে | সম্ভাষ করিতে চল লাউসেন রাজাকে || তবে রক্ষা পাবে ধন জাতি কুল মান | নতুবা কুন্তলে ধরি বধিব পরাণ || আজ্ঞা দিল আপনি ময়নার নৃপমণি | কর্পূরধল রাজা ধরি আনিবে এখনি || বিরূপ বলিতে বীর মনে শঙ্কা নাঞি | স্তব্ধমান নরপতি শুনিল বড়াঞি || আজ্ঞা দিল সৈন্যগণে কাঙুরের রাজা | এই মূঢ়ে বলি দিবে ভদ্রকালী-পূজা || একজনে বলিতে হাজার সেনা ধায় | তাড়াতাড়ি চোট হানে কালুসিংহের গায় || বীর কালু মনে করে ভবানী-শঙ্কর | তত্ত্ব কব়্যা পাছু বৈসে সম্মুখে পাথর || এক চোট হানিতে শতেক সমাধান | ছাগ মেষ মহিষ যেমন বলিদান || এক চোট হানিতে ঐমনি ঢালী পড়ে | মুন্ড তার অবনীতে ছটপট করে || মার মার শব্দ ডাকে কর্পূরধল রায় | শরবৃষ্টি সমরে সন্ধান পূরে তার || ডাক দিয়া ফরিকাল আগু লাফ দেই | যমধরে বীর কালু যমঘর লেই || এক ঝাঁকে গোলা পড়ে বিশাশয় লেখা | কদাচিত কালুর সহিত নাই দেখা || মকরে দেবতা যেন গরজে গগনে | কামানের স্তব্ধ শুনি মুনি স্তব্ধমানে || গুলি পড়ে দামদুম ছাইয়া গগন | বরিষণ মেঘে যেন অঘোর গর্জন || পাটনে পর্বত কাঁপে পরাজই যম | শেল টাঙ্গি চারিদগে বরিষে বিষম || বিষম ঝকড়া পড়ে সাক্ষাত ঝঞ্ঝনা | মলয়ে কুলিশ যেন দৈবের ঘটনা || ঠনঠন টাঙ্গি চোট আগুনের ধারা | নিকলে পবন বেগে যেন ধায় তারা || কালুর উপরে পূর্ণ অস্ত্র বরিষণ | . ****************** . কলিঙ্গবিভা পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
