রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
এত শুনি ভাট বলে কানড়া সাক্ষাতে |
বিফল বচন বলে গঙ্গাজল হাথে ||
শুন গো কানড়া তুমি বড় ভাগ্যবতী |
গোউড় ভুপাল ধনি হব তোর পতি ||
মহা গুণবান রাজা পরম সুন্দর |
রাজার বয়স বটে বাইশ বত্সর ||
কুবের সমান ধনী কুলীন পন্ডিত |
গায়ের বরণ চাঁপা মদন মোহিত ||
মিছা নিবেদিল ভাট হাথে গঙ্গাজল |
কুমারী কানড়া হৈল জ্বলন্ত আনল ||
বলিতে লাগিল কন্যা আগুনের ধার |
এই মহাপাতকে কেমনে হবে পার ||
বুড়া রাজা গৌড়েশ্বর বর হৈতে চায় |
এত যদি বয়সে এমন সাধ যায় ||
বলিতে বলিতে কোপ অতিশয় বাড়ে |
ঘটক ব্রাহ্মণ বান্ধ ঘোড়ার পিছাড়ে ||
শুন গো ধুমসী দাসী শুন মোর কথা |
গঙ্গাধর ভাটের মুড়াহ নিঞা মাথা ||
ভাল মানি ভাটকে দেশের বাহির কর |
এত শুনি ধুমসী ধরিল গঙ্গাধর ||
জামাজোড়া কাড়্যা নিল ছুরি যমঘর |
নাপিত আনিঞা মাথা মুড়াল্য সত্বর ||
বসিল নাপিত কাছে হাথে লয়্যা খুর |
দেখিয়া ভাটের প্রাণ করে দুরদুর ||
গাধা খচরের মুতে ভিজাইল চুল |
ভাট বলে ভাত খাব করিয়া বেরুল ||
আগু টানে ধুমসী গলায় দিয়া দড়ি |
পাছু হৈতে বাইতি মারিছে ঢাকের বাড়ী ||
অপমান করে তার নগর চাতরে |
সিমুলের রাজা  কিছু বলিতে না পারে ||
ওড়মালা  গলায় দিলেক মালাকার |
উঠিতে বসিতে বাড়ি ইড়িক পরাজয় ||
ভাট গঙ্গাধর কান্দে মাথে হাত দিয়া |
সিমুলে আইল কেন ঘটক হইয়া ||
ধুমসী ধরিয়া তারে দেশ বই করে |
বলিতে লাগিল কিছু তার বরাবরে ||
ধাওধাই গৌড়ের রাজাকে গিয়া বল |
একবার দেখা দেই নিজের দলবল ||
পড়িলে উঠিতে নারে ভাট গঙ্গাধর |
উভরড়ে ধাওধাই গোউড় শহর ||
গোউড় শহর ভাট ধাওাধাই যায় |
পড়িলে উঠিতে নারে ফিব়্যা নাহি চায় ||
উভরড়ে ধাওাধাই গোউড় শহর |
গোউর শহর ভাট ধাওাধাই যায় ||
পড়িলে উঠিতে নারে ফিব়্যা নাহি চায় |
ত্বরাতরি চলে ভাট ধরিয়া পরাণ ||
গোউড় শহর গিয়া পাইল নিদান |
কত দূরে মহাপাত্র দেখে মহারাজ ||
রাজার চরণে বলে সিদ্ধ হৈল কাজ |
ঐ দেখ ঘটক আইসে ধাওধাই ||
রাঙা ফাগ পাইল পারা ছিটের কাবাই |
কহিতে বলিতে ভাট দিল দরশন ||
দুহাথ মাথায় দিয়া জুড়িল রোদন |
দশমুখ হৈলে কই কানড়ার কথা ||
তোর নাম করি মোর মুড়াইল মাথা |
কোন ছার গৌড়েশ্বর মোর যোগ্য বর ||
পাঁচমুখে গালাগালি দিলেক বিস্তর ||
আনের আরতি হৈলে নানা ধন পাই |
তোমার আরতি হৈলে লাথি চড় খাই ||
এত শুনি ভুপতি করিল হেঁটমাথা |
ভাগ্যে না বান্দিলু হাথে অধিবাস সূতা ||
পাত্র মহামদ ভাটে করিল আসান |
বলিতে লাগিল তবে নৃপ বিদ্যামান ||
আমার বচন রাজা অবগতি কর |
মাথায় মুকুট দিয়া হয়্যা চল বর ||
হরিপাল বিভা যদি নাহি দেই বেটী |
হাথ দিয়া চোয়াইব সিমুদের মাটি ||
বলে বিভা দিব কন্যা কুমারী কানড় |
উলট করিব আমি সিমুলের গড় ||
সাজন করিব সঙ্গে বারভূঞাগণ |
বলে ছলে বিভা দিব করিয়া যতন ||
এই দন্ডে অধিবাস কর গিয়া রায় |
মায়্যার বড়াঞী এত সহা নাই যায় ||
এত শুনি বলিল ভূপতি গৌড়েশ্বর |
অধিবাস করে রাজা দরবার ভিতর ||
সুবেশ করিল আভা আনিঞা নাপিত |
পুঁথি হাতে করিয়া বসিল পুরোহিত ||

.      ******************      

.                                                   
লৌহগণ্ডার পালার পরের পৃষ্ঠায় . . .  
.                                                                      
পাতার উপরে . . .   


মিলনসাগর
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকু পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা     
লৌহগণ্ডার পালার আগের পৃষ্ঠায় . . .
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
লৌহগণ্ডার পালা
পৃষ্ঠা -