| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| শুন দাসী ধুমসী সাজন কর গিয়া | রাজার সমুখে চল গন্ডার লইয়া || রাজাকে কহিবে গিয়া কানড়ার কথা | গন্ডার হানি বিভা কর হরিপাল-সুতা || প্রতিজ্ঞা কব়্যাছে কন্যা শিশুকাল হৈতে | যেজন লোহার গন্ডা হানিব জগতে || সেই কানড়ার স্বামী করিব বরণ | অনেক দিবস আছে কানড়ার পণ || ডর ভয় না করিহ রাজার সাক্ষাতে | শর গুলি শাঙ্গ শেল লহরে নিপাতে || অসিবরে অক্ষর অম্বর হুতাসনে | হেত্যার বান্ধিয়া চল সভা-বিদ্যমানে || দলবল দেখি পাছে মনে কর ভয় | শকটে তুলিয়া গন্ডার করহ বিজয় || বরণ করিতে লহ পুরোহিত সাথে | বসন অঙ্গুরী মাল্য দেহ তার হাথে || কঠিন লোহার গন্ডা যেইজন হানে | তারে দিবে বরণ সভার বিদ্যমানে || জোড়হাথে নিল দাসী দেবীর বচন | বত্রিশ আতরে গিয়া করিল সাজন || ধুমসী লোহার গন্ডার তুলিল শকটে | গোটা দশ বলদ আনিঞা তায় জোটে || সত্বরে চলিল দাসী বিদায় হইয়া | সিমুলের গড়খানি পশ্চাত করিয়া || ঢাকিল লোহার গন্ডা চামরি বসনে | বিমলা নদীর ধারে দিল দরশনে || একাকার লস্কর বিমলা নদীকূলে | আরোহণ ধুমসী শকটে কুতুহলে || লস্কর ভিতর দাসী মনে নাঞি ভয় | শকটে আগু পিছু কত লোকে রয় || গন্ডার দেখিতে তবে চলে কতজন | রাজার দরবারে গিয়া দিল দরশন || বারভূঞা বস্যাছে রাজার দলবল | হেনকালে আইল ধুমসী পরদল || দরবারে বস্যাছে কত মগল পাঠান | দেখিয়া ত ধুমসীর উড়িল পরাণ || চমকিত যোল পাত্রে গোউড়রাজন | দ্বিজ রূপরাম গান দৈমন্তীনন্দন || লোহার গন্ডার দাসী রাখিল সমুখে | বলিতে লাগিল কিছু দুই হাত বুকে || হাথে সূতা মাথে মৌড় গলায় মাদুলি | আস্যাছ বরের বেশে তার পাকে বলি || সত্য বলে কানড়া অসত্য নাঞি খায় | যেই গন্ডা হানে তার বিবাহ সভায় || কিবা রাজা কিবা প্রজা কিবা অধিপতি | যেজন হানিব গন্ডা সেই তার পতি || পরিচয় দিল আমি কানড়ার দাসী | মায়ের সাধের নাম বিজয়া ধুমসী || বরণ বিপ্রের হাথে বসন অঙ্গুরী | আপনি পাঠ্যায়া দিল কানড়া সুন্দরী || এত শুনি নৃপতি পাত্রের মুখ চায় | পাত্র বলে গন্ডা হান গৌড়েশ্বর রায় || একচোটে এখানে লোহার গন্ডা হান | নহে আমি কাটিব তোমার বিদ্যমান || বলে ছলে তবে যদি বিভা দিতে পারি | মহারাজা আপনি বঙ্গের অধিকারী || এত শুনি আপনি উঠিল গৌড়েশ্বর | বাইশ গজ পাগে রাজা বান্ধিল কোমর || বসিলে উঠিতে নারে জরাজীর্ণ বল | চলিতে না পারে রায় অতি সচঞ্চল || মহারাজা গন্ডা হানে দেখে সর্বজন | সমুখে লোহার গন্ডা রাখিল তখন || হেনবেলা ধুমসী খড়ির রেখ দিল | সভার সমুখে কিছু বলিতে লাগিল || একচোটে হানিবে লোহার গন্ডাবল | ধুমসী সমুখে নহে হটের ছাগল || এত বলি ধুমসী দান্ডাল্য গিয়া দূরে | গৌড়েশ্বর গন্ডা হানে দরবার ভিতরে || বারভূঞা দান্ডাইল হাসন হুসন | দুহাতে নৃপতি অস্ত্র ধরিল তখন || জয় দূর্গা বলিয়া দুহাতে চোট হানে | বজ্রের সমান গন্ডা অস্ত্র নাঞি মানে || খড়্গ হৈল চৌখান পড়িল মহীতলে | নৃপতি কাছাড় খায়্যা গড়াগড়ি বুলে || অজ্ঞান হইল রাজা পরাণে বিকল | সঙ্গে ছিল নফর মাথায় ঢালে জল || অচেতন গড়াগড়ি চারি দন্ড হৈল | লস্করে উঠিল রব রাজা পারা মৈল || কেহ দেই সব অঙ্গে কস্তুরী চন্দন | ছয় দন্ড বই রাজা হৈল সচেতন || রাজা বলে মহাপাত্র অবধান কর | বিবাহ নহিল হেথা চল যাই ঘর || হানিতে লোহার গন্ডা নাহিক শকতি | এত শুনি বলে পাত্র বিনয় ভারতী || আমি গন্ডা কাট্যা দিব তোমার বদলে | মায়্যাযুদ্ধে ভঙ্গ কেন দিব উভদলে || এত বলি গন্ডা হানে গৌড়ের পাতর | সিফাই খনক বস্যা যমের দোসর || সর্বলোক চায়্যা দেখে পাত্র গন্ডা কাটে | আপনি ধুমসীদাসী তাহার নিকটে || গোপাল গোবিন্দ হরি করে সঙরণ | গন্ডার উপরে চোট হানিল তখন || দুইখান হয়্যা খড়্গ পড়ে মহীতলে | অর্ধখান বাজে গিয়া পাত্রের কপালে || অবনীমন্ডলে পাত্র পড়ে অচেতন | জলের কলস আনি ঢালে দশজন || মহাপাত্র বলি কেহ কানে কানে ডাকে | এ সব অনর্থ হৈল কানড়ার পাকে || কাটা নাঞি গেল গন্ডা দেখে সর্বজন | ঘুমসী বলিল পাত্র শুন নিবেদন || ধিক যাকু তোমার জীবন যশ নাম | এতদিনে তোমাকে বিধাতা হৈল বাম || বোলচাল শব্দ নাঞি দরবার ভিতর | কাজ নাঞি বিভাতে চলিয়া যাহ ঘর || পাত্র বলে মহারাজা শুন মন দিয়া | লাউসেন আনিতে লোক দেহ পাঠাইয়া || এত শুনি পরোনা লিখিল শীঘ্রগতি | নিন্দামেট্যা ময়না সাজিল রাতারাতি || মাথায় করিয়া নিল রাজার পরোনা | ধাবক বিদায় হৈল দক্ষিণ ময়না || রাজপুর সমুখে দক্ষিণ রসপাড়া | আগে তার গোরাবাটী বামে থাকে তরা || নিন্দামেট্যা ময়নায় দিল দরশন | দ্বিজ রূপরাম গান সখা নিরঞ্জন || . ****************** || লৌহগণ্ডার পালা সমাপ্ত || . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
