| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| গোলার শবদে কাঁপে সিমুল্যা অবনী | হুড়হুড় রব শুধু দামামার ধ্বনি || তরাসে কাঁপিল যত সিমুলের প্রজা | কানড়ার ঘরে গেল হরিপাল রাজা || বলিতে বসিল রাজা হরিপাল শিখর | হাথে সূতা বান্ধি রাজা হয়্যা আইল বর || আজ্ঞা পাইলে দিব ঝিএ অধিবাসে মন | তোর হাথে কানড়া জীবন প্রাণধন || ঘোড়া হাথি সেনাপতি নাই সম্ভাবনা | বেপারের ধনে দিব দেশের খাজনা || মালাবতী পাটরাণী কানড়ার মা | বিপদ সাগরে কন্যা তুমি হবে লা || পাটনে বঞ্চিব বলে ঘরে নাই সুখ | তোমা হৈতে দুহিতা বিনাশ হব দুখ || তোমা হৈতে বলাইব রাজার শাশুড়ী | ব্যবসা করিব কত বাণিজ্যের কড়ি || তোমা হৈতে বাড়ির সম্পদ ঠাকুরাল | সাগরে বান্ধিব কন্যা সোনার জাঙ্গাল || গোউড়ে হইলে তুমি প্রধান মহিষী | ভানুমতী হেন রাণী হব তোর দাসী || মাসী পিসি খুড়া জেঠী বসিয়য়া বুঝায় | কার পানে কানড়া ফিরিয়া নাঞি চায় || ভাই বন্ধু রহিল কানড়ার মুখ চায়্যা | কানাকানি করে কিছু ধাউতানি মায়্যা || হাথে ধরি রহিল হরিপাল কুঙর | মনে কর কানড়া রাজাকে স্বয়ম্বর || তাহাতে যে বর রাজা শোভে তরুচূড়ে | এতক্ষণ নতুবা পড়িত সিয়া গড়ে || কানড়া কুমারী বলে শুন জন্মদাতা | লাউসেন মোর স্বামী ময়না-বিধাতা || এ বার বত্সর আমি পূজিলু ভবানী | লাউসেন স্বামী বিনে অন্য নাই জানি || জাতি কুল জীবন লাউসেন প্রাণধন | পাটরাণী কান্দে শুনি দারুণ বচন || কানড়া বলেন বাপা পালাইয়া যাহ | এখন করুণা বাণী কার মুখ চাহ || এত শুনি বিকল হইল সর্বজন | সত্বরে সামালে সভে জাতি কুল ধন || পালাও ভূপতি বলে ভাল নহে কাজ | পরিবার সঙ্গে রাণী চড়িল জাহাজ || ভাই বন্ধু সারথি তরণীবরে চড়ে | জলপথে পালাইল বাঁশডিহার গড়ে || লোক বিনে শূন্য হৈল সিমুলের গড় | হেত্যার বান্ধিয়া থাকে কুমারী কানড় || দোসর ধুমসী সঙ্গে আর কেহ নাঞি | কানড়াকুমারী বলে যে করে গোসাঞী || কহ দেখি উপায় ধুমসী পয়দল | পালাইল জননী জনক ভাই বল || বলে বিভা করে যদি গৌড়েশ্বর রাজা | ধুমসী বলিল বনে কর দেবীপূজা || দুঃখ বিনাশিনী দেবী পূজ একমনে | অর্জুন করিল পূজা কৃষ্ণের চরণে || এত শুনি কানড়া যে করে সঙরণ | ভবানীর পূজা করে হয়্যা একমন || ধূপ ধুনা পরিপাটি ঘোর অন্ধকার | শর্করা সন্দেশ চিনি নানা উপহার || নানাবিধ কুসুম চন্দন বিভূষিত | আখন্ড শ্রীফলদলে যাহার পিরিত || হেমঘটে ঈশ্বরী করিল আবাহন | স্মরণ করিতে দেবী দিল দরশন || কানড়া দেখিয়া রূপ হইল বিভল | সাবধানে স্তব করে চরণকমল || যখন গোকুলে হরি কৃষ্ণ অবতার | গোপিনী সকল পূজা করিল তোমার || সত্যভামা সেবিল রুক্মিণী জাম্ববতী | তোমার সেবনে পাইল কৃষ্ণ হেন প্রতি || এত শুনি বলেন ভবানী সর্বজয়া | পরিপাটি পূজা দেখি কিসের লাগিয়া || শুন গো কানড়া ঝিএ তোরে কহি দড় | গণেশ কার্তিক হৈতে তুঞি মোর বড় || বল বিবরণ কথা শুনিব শ্রবণে | এত শুনি বলে কন্যা দেবীর চরণে || একমনে পূজা দিলু এ বার বত্সর | আমার কপালে লেখা ছিল বুড়া বর || হাথে সূতা বান্ধি আইল গৌড় নৃপবরে | উভদলে রহিয়াছে সিমুলা নিয়ড়ে || জননী জনক ভাই হৈল দেশান্তরি | সবে আমি তোমার চরণ মনে করি || চিরদিন মনে ছিল রঞ্জার নন্দন | বর হয়্যা আইল রাজা সঙ্গে ভূঞাগণ || বলে বিভা করিব রাজার সাধ মনে | এত বলি কান্দে কন্যা দেবীর চরণে || ভবানী বলেন তবে হাতে দিয়া হাত | অবধানে শুন গো বচন অচিরাত || শুন গো কানড়া ঝিএ বস্যা থাক ঘরে | গৌড়েশ্বর রাজা তোর কি করিতে পারে || না কান্দ না কান্দ কন্যা মনোকথা নাই | লাউসেন তোমার স্বামী আমার জামাই || একমনে ভজনা করিল ঊষাবতী | সপনে পাইল বর অনিরুদ্ধ পতি || সুন্দর পাইল বিদ্যা সুলঙ্গ সরণি | কি মিথ্যা কারণে মনে দুঃখ কর তুমি || আজি কন্যা লাউসেন দেখিবে এখানে | মোর বাক্য ব্যর্থ নহে ভারথ পূরাণে || এত বলি ভবানী কানড়া নিল কোলে | নিবারিল তার মন মধুরস বোলে || মনোকথা কর কেন এহার লাগিয়া | ঘর যাব কানড়া তোমার বিভা দিয়া || হাথে হাথে লাউসেন করিব সমর্পণ | বলিল কানড়া তোরে নিশ্চয় বচন || এত বলি ভবানী পদ্মার মুখ চান | এহার উপায় পদ্মা বল আগুয়ান || এত শুনি পদ্মাবতী বলে জোড়পাণি | আমার বচন শুন জগতজননী || সঙরণ কর মনে দেব কারিগর | অবিলম্বে গড়ুক লোহার গন্ডাবর || সত্যের কানড়া কন্যা সত্য নাহি খায় | যে গন্ডার হানে তার বিভায় সামায় || . ****************** . লৌহগণ্ডার পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
