| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| বিস্তর যতনে বালা ধরিল কাননে | পিঁজিরা সহিত নিল পাজ্জাত পাটনে || আচম্বিতে সেই শিশু তথা রাজা হইল | ভালমন্দ অবতীর্ণ দেখা নাই পাইল || যে সব কপালে লেখা সেই হইতে চায় | রাজ্যের ঈশ্বর কেন ভিক্ষা মাগি খায় || ভালমন্দ অবতীর্ণ দৈবের ঘটন | শশকের হাথে কেন সিংহের মরণ || পূর্ব কথা তাহার বলিব কত আর | হিমালয় শুভকর এই সমাচার || সর্বকাল সম্পদ রাজত্ব সুখ নাই | রাম অবতারে দুঃখ পাইল গোঁসাই || বাঘ বলে জানি বেটা বাল্মীকি পুরাণ | তুমি বড় পন্ডিত আমার নাই জ্ঞান || অকালে ঈশ্বর যাবে অনন্ত শয়নে | সে সব পুরাণ জানি অন্য কিবা মনে || বলিতে বলিতে বাঘ অবনী সঞ্চারে | লম্ফ দিয়া লাউসেনের ফলাখান ধরে || বাম হাথে ফলা ধরি দিয়াছে কামড় | টানাটানি দুই বীরে ডাকে কড়মড় || কামড় ধব়্যাচে দড় ভাঙ্গিবারে চায় | বিশাএর গঠন কেমনে ভাঙ্গা যায় || না পারিয়া পাছু বৈসে দশ হাথ বই | দুই পাঁজরের হাড় সরোবর বই || দুই কান গগনে পতঙ্গ বরাবর | আগায় পিছায় বাঘ করে গরগর || ঘুরনে বাতাস প্রায় ঘুব়্যা ঘুব়্যা বুলে | অরুণ-উদয় আঁখি দপদপ জ্বলে || ঘন আইসে ঘন বৈসে ঘন দেয় তাড়া | জিবটা বাহির করে মষিকাটা খাঁড়া || বিজুরি সঞ্চারে যেন লেজটি ঘুরায় | বিকট দশন তার দেখ্যা ভয় পায় || দুই পাশে দখি যে দীঘল দন্তগুলা | কিঞ্চিত তুলনা তার মকরের মূলা || একবার আঁচড়িল জলান্দার মাটি | পরিসর নখ যেন মত্স্যকন্যা বঁটি || বিপর্যয় পরাক্রম ঘন ছাড়ে ডাক | ঐরাবত সিংহে যেন পড়িল বিপাক || আইল লাউসেন বীর রঞ্জার নন্দন | দ্বিজ রূপরাম গান সখা নিরঞ্জন || বাঘের বিক্রম দেখি লাউসেন বীর | ধর্ম-সাক্ষী করিয়া ধরিল ধনুতীর || মার মার বল্যা বীর জুড়িল পাটন | সন্ধানে মারিল শর শার্দূলে তখন || লাউসেন মারিল শর অম্বরের পথে | আগু হয়্যা বাঘটা ধরিল বাম হাথে || দারুণ পাটন বলি সঘনে চিবায় | দূরে ফুক দিয়া পেলে অনিলে মিশায়|| বাঘটার বিক্রম দেখিয়া ভয় লাগে | লাউসেন মহাবীর দন্ডাইল আগে || পুনর্বার ধনুকে জুড়িল খর শর | শার্দূলে বিন্ধিয়া সরে করিল জর্জর || অঙ্গে হৈতে অবনী রুধিরধারা বয় | হিমালয়ে যেমন গঙ্গার ধারা হয় || আগু আইসে ঘনঘন পাছু হইয়া বৈসে | গগনে ফলঙ্গ দেই তারা যেন খসে || ঐমনি সেনের অঙ্গে লম্ফ দিয়া পড়ে | আথালি পাথালি তার সর্বাঙ্গ আঁচড়ে || চাপড় হানিতে চায় চারিপানে বোলে | বাম হাথে চাপড়ায় ডানি হাথে তোলে || রুষিয়া চাপর হানে লাউসেনের বুকে | ঝলকে ঝলকে রক্ত উঠে তার মুখে || চাপড় হানিয়া বুকে অন্তরীক্ষে উঠে | মহী কাঁপে তরণি নক্ষত্র যেন টুটে || ঐমনি পড়িল পুন লাউসেনের গায় | আকাশ পাতাল মুখে সংহারিতে চায় || গড়াগড়ি যায় বীর বিশেষে অজ্ঞান | তার বুকে বৈসে বাঘ পর্বত প্রমাণ || অজ্ঞান হইয়া সেন গড়াগড়ি বোলে | পুত্র বলি ঐমনি অবণী নিল কোলে || বাপু বাছা বলি মুখে পয়োধর দিল | জননীর কোলে যেন বাছুরি রহিল || বাঘ মনে করে পারা লাউসেন মৈল | না পাই সম্বিত-বাণী দুই দন্ড হৈল || দশদিন বসিয়া থাকিব তোর বুকে | ডাক দিয়া বাঘটা বলিছে হেঁটমুখে || অনাহারে এখনি যমের ঘরে যাবে | জীউ রক্ষা করিতে জীবন কোথা পাবে || দড় কব়্যা ধব়্যাছে পালাতে নাই ভীত | দৈবহেতু যেমন মজিল ইন্দ্রজিত || বনপশু হইয়া আমি রামায়ণ জানি | সঙ্গদোষে তরণীসেন মরিল আপনি || আপনার মৃত্যু কৈল আপনি ঘটনা | এই রূপে কাচ কত হইল কাঁচ সোনা || অপরঞ্চ জানি আমি ভারথ পুরাণ | এখনি জানিবি বেটা কিবা তোর প্রাণ || বাঘের বচন শুনি লাউসেন কয় | সবিনয় বচন বলেন অতিশয় || চারি মাস বই যাব গৌড় শহর | বরিষা বঞ্চিব বাঘ তুমি গেলে ঘর || বলিতে বলিতে বীর বল নাঞি টুটে | ঐমনি অবনী হৈতে বাঘে ঠেল্যা উঠে || শার্দূল পড়িল দূরে মার্জারের প্রায় | কুমারের চাক যেন ঘুরিয়া বেড়ায় || হেনকালে লাউসেন ময়নার রাজা | মনে মনে তখন ধর্মের দিল পূজা || দেবীর হেত্যার ধরি হইল আগুয়ান | ঐমনি উতারে অসি শার্দূল সন্ধান || আগি হয়্যা রাউত বাঘেরে হানে চোট | পড়িল বাঘের মাথা ভূমে যায় লোট || . বাঘবধ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
