| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| বিষম বিক্রম দেখি কাঁপে দেবগণ | মনে চিন্তা করে তবে রঞ্জার নন্দন || বাঘযুদ্ধে এবার কদাচ প্রাণ পাই | ধনুক ফেলিয়া বলে বিষম বালাই || নাহি জানি কেমন দেবতা পক্ষাবল | বাম হাথে ফলা ধরি ভাবিছে বিকল || নিরঞ্জনের মায়া কহনে নাঞি যায় | অনাদ্য মঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গায় || মনে চিন্তা করে বীর লাউসেনকুমার | বাঘরূপে কি জানি রাবণ অবতার || এইরূপে রাবণ দেবতা সেব্যাছিল | সেই অবতার বুঝি হেথা দেখা দিল || বাল্মীকের পুরাণ শুন্যাছি রামায়ণ | এই বর পায়্যাছিল রাজা দশানন || পশু হয়্যা হেন বর পাইল কার ঠাঁই | এ বড় দারুণ চিন্তা অন্য মনে নাই || বলবন্ত বাঘটি দেখিল অতিশয় | লাউসেন আগু হইল মনে নাই ভয় || ধনুকে টঙ্কার দিয়া শর জোড়ে তায় | হানিল পাটন সর বহ্নিসম ধায় || বাঘটি বদনে ধরি চিবাইল দাঁতে | ফুক দিয়া পেল্যা দিল মলয়া পর্বতে || দাবানল দুরন্ত দাহন বেগে বোলে | লম্ফ দিয়া পড়ে গিয়া লাউসেনের কোলে || দশনে ধনুক ধরি ধূলায় লোটায় | মার্জার সহিত যেন বালকে খেলায় || লাউসেন মারিলেক ধনুকের বাড়ি | মনে করি কল্পনা ঐমনি গড়াগড়ি || মহীলতা সদৃশ নয়নে নাই দেখে | খরতর নখরে মহীতে অঙ্ক লেখে || কোলে করি ঐমনি বসিতে চায় বাঘ | পাছু হয়্যা পড়িল ময়নার মহাভাগ || ফলা হাথে ফলঙ্গ সারিয়া চারিপানে | লম্ফ দিয়া ঐমনি শার্দূলে অসি হানে || অবনীর উপরে বাঘের মুন্ড পড়ে | জয়দূর্গা বলিয়া বাঘের জিভ নড়ে || কৃষ্ণ বলরাম বলি গড়াগড়ি যায় | লটপটি রুধিরে কর্দম হইল গায় || পুনর্বার মুন্ড লাগে কন্ধের উপর | ডাক শুনি দেবতা অসুর কাঁপে ডরে || পতঙ্গ পর্বত কাঁপে পাতালে বরুণ | পশু আর নরে যুদ্ধ হয় নিদারুণ || বাণে বাণে শরে শরে বালক যেন খেলে | আজ্য আর আগুনে জীবন যেন জ্বলে || কসাকসি দুবীরে পড়িল মন্বন্তর | লম্ফ দিয়া বাঘ পড়ে লাউসেন উপর || গোটা দুই কামড় মাথায় দিতে চায় | ফলা ঝাকারিয়া বীর ঐমনি পিছায় || ফলা অসি ঝঙ্কারে ঝঞ্ঝনা যেন খসে | মার মার শবদে লাউসেন বালা রোষে || রমমদে মাতাল মরমে নাই ব্যথা | লাউসেন হানিল পুন শার্দূলের মাথা || গড়াগড়ি যায় মুন্ড লম্ফ দিয়া উঠে | কন্ধের উপর বস্যা মনগতি ছুটে || পাক দিয়া আইসে পুন লাউসেনের কাছে | মনে হইল আনন্দে মাতাল হইয়া নাচে || দীঘল দশন ঘোরে ঘন কড়মড়ি | চাক পারা ফেরে চক্ষু যেন রক্ত কড়ি || উভুমুখে মাথাটা পর্বত পারা তোলে | সূতার সঞ্চার হয়্যা ঘুব়্যা ঘুব়্যা বোলে || মরমে মাতিল বাঘ মনে নাই দুখ | দুহাথে ধরিল বীর তবক ধনুক || দারুণ কামড় দিল দেবীর আতরে | বজ্রের সমান অস্ত্র দেবতার বরে || মনে চিন্তে লাউসেন ধর্ম নিরঞ্জন | দ্বিজ রূপরাম গান দৈমন্তীনন্দন || বাঘ বলে মহাবীর কি আর ধনুক তীর খড়্গ ছুরি যমধর ফলা | যমরাজ সুরপতি জানিল সভার গতি কোন ছার তোমার পাইকালা || আমি রাজা সতন্তর কামরূপী দিল বর অনুকুল গোবিন্দ-ভগিনী | বসন্ত আমার ডরে তিলেক্ না থাকে ঘরে এই গড়ে দিবস-রজনী || জালান্দাশিখর পতি পলাইয়া গেল কতি কান বিন্ধ্যা দিয়াছিল সোনা | গৌড়েশ্বর কোন্ ছার ভৈরবী নহিল পার দেখ্যাছি সভার বীরপনা || এগার শিখর থানা চল্লিশ হাজার সানা রাত্রে হানা দিল সাতবার | ঈষৎ প্রমাণ নল পতঙ্গ প্রমাণ বল একদন্ডে করিনু সংহার || মান্ধাতা অর্জুন ছিল আচম্বিতে হানা দিল যার বাড়ী হস্তিনানগর | যুদ্ধ হৈল পঞ্চরাতি বিস্তর পড়িল হাথি ঘোড়া সব যমের দেসর || অযুত বত্সর আমি জালান্দা রাজ্যের স্বামী দেখিনু বিস্তর অবতার | কত ছিল মহীপাল সংহার করিল কাল শুন্যাছি সে সব সমাচার || কহিতে কহিতে রোষে আগু হয়্যা বাঘ বৈসে পরাক্রমে কাঁপিল পর্বত | তিলার্ধ নাহিক ভয় সমুখ সমরে রয় সিংহ কাছে যেন ঐরাবত || দুহাথে আঁচড়ে মাটি দশনের পরিপাটি মকরের মূলার সমান | পর্বত সমান মাথা কি কব নখের কথা বিষ্ণুপদতলে দুটা কান || বাঘের বিক্রম দড় প্রমাদ হইল বড় লাউসেন যুক্তি করে মনে | বিনয় করিয়া কয় শুন বাঘ মহাশয় নিবেদন তোমার চরণে || তুমি বীর চুড়ামণি অবতার ভাল গণি বড় ভাগ্য পাই দরশন | কহিব কাহার আগে কাটা মুন্ড জোড়া লাগে প্রত্যয় যাবেক কোন্ জন || এবার এড়ান নাই পড়িলে আমার ঠাঁই ইহা তোমার লল্লাটের লেখা | ধর্মপদ করি ধ্যান দ্বিজ রূপরাম গান পলাসনে যারে দিল দেখা || . বাঘবধ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
