| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| দেবতার কীর্তি এই মনুষ্যের নয় | নলিনীকানন জলে সাজে অতিশয় || অতি বড় শোভা করে সহস্র কমল | সূর্যমণি পদুমিনী শোভিছে নির্মল || কোকনদ প্রসন্ন কুমুদ ইন্দীবর | মধুপানে মত্ত হয়্যা নাচে ভ্রমর || উঠিতে পড়িতে ঘোরে মধুপান করে | অপরঞ্চ বিস্তর ফুটিল ফুল নীরে || বিচক্ষণ কর্পূর পাতর সচিন্তিত | তারাদীঘির জল দেখ্যা বিচারে তুরিত || তিনভাগ বিষ দেখি একভাগ জল | মিশাল করিল কেবা সাপের গরল || দক্ষিণ পবনে নড়ে শিয়লির পাতা | কর্পূর বলেন অই সাপ তোলে মাথা || ইথে করে নিবাস বিস্তর ফণিগণ | অতেব হয়্যাছে জল কালিয়া বরণ || কাল সাপ সাপগুলা করে মিস্ মিস্ | এই হেতু এহাতে মিশিল কাল বিষ || কেমনে এই জল নিব মনে যুক্তি করে | এ জল খাইলে পাছে লাউসেন মরে || কালীয়দমন কথা শুন্যাছি পুরাণে | সেই অবতার আজি দেখিনু নয়ানে || কৃষ্ণ অবতারে যবে রাখিল গোধন | যমুনার নিকটে আছিল বৃন্দাবন || একদিন গোধন সেখানে নিল হরি | রাখাল সকল মৈল জলপান করি || পুনরপি প্রাণ দিল যশোদানন্দন | কালীদহে ঝাঁপ কৃষ্ণ দিলেন তখন || কালি নাগ ছিল তায় গরুরের ডরে | আনন্দে করিল নৃত্য বস্যা তার শিরে || ত্রিভঙ্গ হইয়া তায় বাজাল্য মুরলী | সেই হইতে সয়ালে পবিত্র হইল কালি || গোকুল আকুল হৈল দুযাম তিমির | নন্দঘোষ ব্যাকুল নয়নে বহে নীর || রোহিণী যশোদা কান্দে সকল রাখাল | কেহ বলে জল হৈতে গা তোল গোপাল || সেইরূপে আছে ইথে কেমন দেবতা | কমল উদ্যান জলে কি কহিব কথা || সেই কালিনাগ কিবা গরুড়মণি শঠ | এহাতে নিবাস পারা কব়্যাছে নিকট || এই জল অতেব গরল সমতুল | দেবতা আশ্রয় দেখি ফুটে নানা ফুল || এই জল খাইলে দাদা মরিব নিশ্চয় | রঞ্জাবতী রাণী পাছে আঁটকুড়ি হয় || মনে করে তারাদীঘির জল নাহি নিব | ভাই হয়্যা কেমনে গরল জল দিব || বিষম ভুজঙ্গ জলে ভাসে শয় শয় | কেমনে ভরিব ঝারি মনে বড় ভয় || নাম্বিতে সঙ্কোচ বড় এক আঁটু জলে | দারুণ কুম্ভীর ভাসে তরঙ্গ হিল্লোলে || কেমনে নাম্বিব জলে কি হবে উপায় | কুম্ভীরের ভয় নীরে সাপগুলো তায় || ডাহুক ডাহুকী ডাকে আর চক্রবাক | সরাল বিহঙ্গমালা উড়ে ঝাঁকে ঝাঁক || বদনে বদনে কেহ দেই আলিঙ্গন | মৃণাল তুলিয়া কেহ করিছে ভক্ষণ || পদ্মফুলে বস্যা অলি করে মধুপান | মকরন্দে মাতাল ঐমনি সঙ্গ যান || উড়্যা পড়ে তরঙ্গে পীযুষবাণী ডাকে | কমলে খঞ্জন নাচে ঘোরে পাঁচ পাকে || কমল কুমুদ কহ্যা কুসুম প্রবীণ | পরশে পঙ্কজছটা সহজে মলিন || ভুজঙ্গ গর্জন ইথে মনে ভয় লাগে | জলে খায় কুম্ভীর পাহাড়ে ধরে বাঘে || এই অনুমান মনে বিস্তর চিন্তিল| এক আঁঠু জলে গিয়া কর্পূর নাম্বিল || ঝারি ভরে কর্পূর জলের নাই সাড়া | অকস্মাত মীন দেখা দিল গাঙ্গদাড়া || . বাঘবধ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
