রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
এত বলি কন্ধের উপরে মাথা রাখি |
ধারার শ্রাবণ হৈল দেবীর দুই আঁখি ||
কান্দেন করুণামই বসিয়া আপনি |
এমন আমার মায়া আমি নাই জানি ||
এত বলি বাঘের বদনে দিল জল |
প্রাণ পাইল পুনর্বার বাঘ কামদল ||
দ্বিজ রূপরাম গান শ্রীরামপুরে ঘর |
পাষন্ড জনার মুন্ডে পড়ুক বজ্জর ||

জীবন পাইয়া বাঘ চারিপানে চায় |
সমুখে ভবানী জয়া দেখিবারে পায় ||
লোটাইয়া অবনী ঐমনি স্তব করে |
অঝোর নয়নে কান্দে বিপদসাগরে ||
তুমি দেবী জয়তী জগত জনার্দন |
যশোদানন্দিনী তুমি কংসের নিধন ||
তুমি গঙ্গা সাগর সমুদ্র সেতুবন্ধ |
বাল্মীকি পুরাণ তুমি তুমি মায়াবন্ধ ||
তুমি দান তুমি জ্ঞান তুমি কল্পতরু |
পুরাণে শুন্যাছি তুমি সভাকার গুরু ||
হরিভক্তি তোমা বিনে কেহ নাঞি পায় |
মদেতে মাতিয়া যত নিন্দুক বেড়ায় ||
সুরথের সম্পদ শুন্যাছি ভালমতে |
সকায়া বৈকুন্ঠ গেল আরোহণ রথে ||
স্তব শুনি ভবানী বলিছে ঘনে ঘন |
বর মাগ্যা লহ বাছা অভয় চরণ ||
যে বর মাগিবে তুমি সেই বর দিব |
হরিভক্তি মাগিলে অবশ্য দিয়া যাব ||
নহে অধিকার দিব ব্রহ্মার উপর |
জ্ঞানভরে আমার সমুখে মাগ বর ||
বর মাগ শার্দূল বিলম্ব নাঞি সয় |
কান্দিতে কান্দিতে বাঘ বলে সবিনয় ||
তোমা হইতে রক্ষা পাইল জনকনন্দিনী |
রাম অবতারে এহা রামায়ণে শুনি ||
এই বর মাগি তব চরণের আগে |
লাউসেন কাটিলে মাথা জোড়া যেন লাগে ||
কাটামুন্ড লাগে যেন কন্ধের উপর |
তোমার চরণে আমি মাগি এই বর ||
জয়দূর্গা বলে বাছা এই বর দিল |
সুমেরু পর্বতে যেন বজ্জর পড়িল ||
কানাকানি যুক্তি করে দেবতা অসুর |
ব্রহ্মার উপরে বাঘ হইল ঠাকুর ||
কেহ বলে রাবণ সমান বর পাইল |
আনে বলে এবার প্রমাই শেষ হৈল ||
এইরূপে বর পাইল কত মহাজন |
তথাপি নারিল কেহ জিনিতে মরণ ||
এই সব ঘোষণা দেবতা মুণি করে |
ঈশ্বরী কহেন তবে শার্দূলের তরে ||
কান্দেন করুণামই চক্ষে বহে জল |
হেন ছার বর নিলি বাঘ কামদল ||
জাতি হেতু অল্পজ্ঞান তোর দোষ নাঞি |
নতুবা অমর পদ দিতেন গোসাঞি ||
এত বলি ভবানী বসিল সিংহরথে |
পয়ান করিল পুন কৈলাসের পথে ||
বর পায়্যা বাঘ হইল যজ্ঞের পাবক |
মনে করে কথা গেল ধর্মের সেবক ||
পলাইয়া গেল পারা রঞ্জার নন্দন |
এবার আমার হাতে তেজিব জীবন ||
এই অনুমানে দুঃখ বাজিল বিশাল |
গোটা দুই ডাক ছাড়ে আকাশ পাতাল ||
গগনে তরণি কাঁপে ধরণী তরল |
তরঙ্গ বহিয়া চলে অষ্ট কুলাচল ||
বাঘ বলে লাউসেন পালাল্য কোন্ গনে |
বিরল বাতাসে বস্যা যুক্তি করে মনে ||
একমনে শার্দূল চৌদিগ পানে চায় |
লাউসেন রাউত বীর দেখিবারে পায় ||
অনিল পয়ানে তার আগুলিল পথ |
সিংহের সমুখে যেন দশ ঐরাবত ||
অবনী আঁচড়ে বাঘ জালান্দার মাটি |
বিষম দারুণ দন্ত দেখি পরিপাটি ||
পর্বত প্রমাণ দন্ত আড়ে পরিসর |
দুটা গোঁফ তার যেন পগারিয়া সর ||
দুই চক্ষু ফিরায় নাটাই যেন ঘোরে |
বাউ পাইলে হুতাশন যেন দীপ্ত করে ||
পরাক্রমে পরিপূর্ণ পর্বত আকার |
কত দূরে থাকি দেখে লাউসেনকুমার ||
মনে যুক্তি করিল ময়নার নৃপমণি |
বাঘটা বধিনু বনে আছিল বাঘিনী ||
বাঘিনী বলিয়া শরহ জুড়িল ধনুকে |
মার মার লাউসেন বলিছে রণমুখে ||
ঝাঁকে ঝাঁকে শর হানে লাউসেন রায় |
বরিষা সমান তীর দশনে চিবায় ||
শরে শরে শার্দূলে ছাইল বসুমতী |
পাটনে পর্বত কাঁপে অচলা সংহতি ||
শর হানে শার্দূলে টঙ্কার দিয়া চাপে |
গর্জনে গহন বনে জীবজন্তু কাঁপে ||





.                                                   
বাঘবধ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . .  
.                                                                 
এই পাতার উপরে . . .     


মিলনসাগর
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকু পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা     
বাঘব পালার আগের পৃষ্ঠায় . . .
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
|| বাঘবধপালা ||
পৃষ্ঠা