| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| অনাহারে আছি বেটা অনেক দিবস | তাহে যুদ্ধ তোমার সংহতি দিন দশ || এবার শোণিত খাব এই আশা মনে | মরণ কামড় ধরে মেঘের গর্জনে || গাছপালা চরণে করিল সব চুর | বাঘের বিক্রম দেখ্যা কাঁপে দেবাসুর || নাড়ু বল্যা রাউতে পেলিতে মুখে চায় | ধব়্যাছে কামড় ঘাড়ে রক্ষা নাহি তায় || অগ্র নখে আঁচড়ে নবনীতুল্য তনু | রুধিরে লাউসেন হইল প্রভাতের ভানু || কেহ বলে লাউসেন বাঘের হাথে মৈল | আনে বলে পশ্চিম উদয় নাহি হৈল || আদ্য পূজা না পাইল অনাদ্য করতার | বারমতি পূর্ণ পূজা না হৈল প্রচার || এই যুক্তি করিছে দেবতা বিষ্ণুদূত | শার্দূলে চাপ্যাছে দড় লাউসেন রাউত || বিবন্ধে ধব়্যাছে বাঘ মুখে নিয়া তোলে | চারিপানে চায়্যা বাঘ চাঁপা কলা বলে || সংহারে উগারে ঘন দন্ত নাঞিফুটে | লম্ফ দিয়া লাউসেন গগনে গিয়া উঠে || উড়াপাক ঐমনি গগনে পড়্যা যায় | ঢাল খাড়া হাথে বীর লহরী খেলায় || দীঘল ফলঙ্গ দেই মাতঙ্গ তুলনা | হানিবারে শার্দূলের অনেক বাসনা || শিশু যেন কৌতুকে কদলী তরু কাটে | পড়িল বাঘের মুন্ড কনকের পাটে || রক্তগঙ্গা বহে যেন শ্রাবণের জল | জয়দূর্গা বলি মুন্ড হাসে খলখল || রামনাম বলি ভূমে গড়াগড়ি যায় | কন্ধে মুন্ড উঠিলে আপনি প্রাণ পায় || ডাক ছাড়ে বাঘটা মস্তকে ঘুরায় লেজ | ত্রিভুবন জিনিঞা বাঘের বড় তেজ || পরাজই শার্দূল হইল সাতবার | ধর্ম-সঙরণ করে লাউসেন কুঙার || এবার এখানে প্রভু কর পরিত্রাণ | শার্দূলের কাছে পাছে হারাই পরাণ || তোমা বিনে কোহ মোর নাঞি ত্রিভুবনে | মহিমা বিস্তর শুনি জয়মুমি পূরাণে || মহাভারতের কথা না যায় কথন | ভকতবৎসল তুমি ভক্তের কারণ || বিশ্বের আদিত্য তুমি স্বর্গের আশ্রয় | তোমার সেবক হৈলে সর্ব ঠাঞি জয় || মনে মনে লাউসেন ধর্মকে ধিয়ান | বৈকুন্ঠে থাকিয়া প্রভু দেখিবারে পান || ভকতবৎসল ধর্ম ভক্তের কারণ | হনুমানে ডাক দিয়া বলেন তখন || শুন হনুমান বীর পবন-তনয় | বাঘযুদ্ধে লাউসেন মানে পরাজয় || সত্যযুগে যখন শ্রীরাম অবতার | তোমা হইতে সেতুবন্ধ সীতার উদ্ধার || সবংশে রাবণ মৈল তোমার কারণ | রক্ষা কর এবার ময়নার তপোধন || পূর্বকথা বাঘের লাউসেন নাই জানে | তুমি গিয়া বলিবে তাহার কানে কানে || কল্পনা করিয়া দেবী তারে দিল বর | কাটা মাথা জোড়া লাগে কন্ধের উপর || কোন কালে ব্যর্থ নহে দেবীর বচন | অতেব তাহার রণে নাহিক মরণ || কানে কানে বল গিয়া এই সত্য বাণী | বাঘটার লেজে ধরি কাছাড়ে অবনী || তবে সে বাঘের মৃত্যু বল গিয়া তারে | কাছড়িয়া বাঘটা ঐমনি যেন মারে || এত শুনি মহাবীর সত্বরে গমন | জালান্দার গড়ে গিয়া দিল দরশন || লাউসেনের কানে কানে হনুমান কয় | পবন-নন্দন আমি মনে নাঞি ভয় || তোমা সম ভাগ্যবান না দেখি ভুবনে | আপনি পাঠাল্য ধর্ম তোমার কারণে || ত্রিভুবনে আতরে বাঘের মৃত্যু নাই | কাছাড়িয়া বধ কর বলিল গোসাই || দেবী বর দিয়াছে বানের বাঘ দেখি | দিন শেষ হইলে কাহার বাপে রাখি || এত বলি বিদায় হইল হনুমান | শার্দূল দেখিতে পাইল মনে চিন্তে আন || একা ছিল লাউসেন দোসর পাইল কোথা | কার সঙ্গে কথা কয় ঘন নাড়ে মাথা || সমুখে মরম দেখ্যা মনে যুক্তি করে | দ্বিজ রূপরাম গান অনাদ্যের বরে || কত দূরে বাঘটা মলিন মুখে রয় | মরণ সময় বুদ্ধি বিপরীত হয় || চিত্রের পুতলি প্রায় চায়্যা থাকে বাঘ | গিধিনি মস্তকে উড়ে সমুখে সজাগ || মনে শঙ্কা বাসিল শার্দূল কামদল | আগু হৈল লাউসেন ময়নার বীরবল || ঢাল খাঁড়া রাখিয়া মল্লের বেশ ধরে | উত্তরিল লাউসেন শার্দূল বরাবরে || মালসাট সমুখে ফলঙ্গ দিয়া উঠে | পরাক্রম দেখিয়া রিপুর বল টুটে || . বাঘবধ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
