রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
হেন মহাবীর রণে পরাজই হইল |
সুপ্রতিষ্ঠসমুখ সংগ্রামে যুঝ্যা মৈল ||
আমি জানি আদ্যশ্রাদ্ধ আগমপুরাণ |
আমা প্রতি লাউসেন হয়্যাছে সন্ধান ||
কহিতে লাগিল রুষে বাঘ কামদল |
পাসরিল আপনা সাক্ষাত দাবানল ||
কুটির দশনগুলা বিকট শরীর |
ডাক ছাড়ে আকাশ পাতাল নহে স্থির ||
লম্ফ দিয়া উঠিল পঙ্কজ-পরমাণ |
সরোবর সমুখে করিল জলপান ||
জলপান করিয়া বসিল তরুতলে |
সহজে মজিল মন রামনাম বলে ||
মহামায়া স্মরণ করিল তিনবার |
নিদান পড়িল পরিত্রাণ নাই আর ||
জরাসন্ধ নষ্ট হইল  ভীমবীর হাথে |
ব্যাকুল হইল বড় এই ভাব চিত্তে ||
বিস্তর  দিনের  কথা কেবা কয়্যা দিল |
মনুষ্যের হাথে মৃত্যু অকালে হইল ||
এই শোকে অজ্ঞান গাছের ভাঙ্গে ডাল |
মূল উপারিয়া ফেলে বিপর্যয় শাল ||
বদরী তমাল আর লবঙ্গ খাজুর |
নদীর বালির প্রায় পাএ করি চূর ||
মরমে মাতিল গুরু ঘন জুড়ে পাক |
কুম্ভকার দুহাতে ঘুরায় যেন চাক ||
বাঘ দেখ্যা দেবতা অসুর সব কাঁপে |
আচম্বিতে আসিয়া ঐমনি অঙ্গে ঝাঁপে ||
হরিণীর উপরে যেমন পরাক্রমে |
তাকে চায়্যা মত্ত হইল মনে নাই ভ্রম ||
বাঘ আর মানুষে পড়িল হাতাহাতি |
লোহার শাবল প্রায় লাউসেনের ছাতি ||
দুহাথ ধর্মের বরে বজ্রের সমান |
একুই চাপড়ে তোর রণে নিব প্রাণ ||
দুবীর মাতিল রণে নিবারণ নয় |
বাতাসে বাঘের বল বাড়ে অতিশয় ||
বাঘ বলে সংহারিব একুই গরাসে  |
পূর্ণ পাকা তাল যেন খায় ভাদ্রমাসে ||
রক্তপান করিয়া শেষেতে মাংস খাব |
হাড় খাব যথায় মজ্জার মাঝা পাব ||
বুকের কলিজা খাব মাথার খাব ঘি |
বিধাতা আমারে বাম তোর দোষ কি ||
শালুর পড়িল যেন ভুজঙ্গের মুখে |
এত বলি বাঘ বৈসে লাউসেনের বুকে ||
বিদারিয়া নখেতে কলিজা খাতে চায় |
দুহাতে ধরিছে পাছে উখড়ি পালায়||
পরিসর বদনে কামড় চায় খাত্যে |
আমার সমুখ দিয়া ব্রহ্মা নারে যাত্যে ||
বর দিল আমারে আপনি দশভুজা |
ব্রহ্মার উপর বেটা স্বর্গে হব রাজা ||
বুকে বস্যা বাঘটা বলিছে বিপর্যয় |
লম্ফ দিয়া উঠে বীর রঞ্জার তনয় ||
লেজে ধরি নিক্ষেপ করিল বামকরে |
হেঁটমুখে বাঘটা পড়িল কত দূরে ||
মলিন হইয়া মুখ মার্জারের প্রায় |
কনকের লতা যেন গড়াগড়ি যায় ||
মুখে রক্ত নিঃসরে মনুজ পরিমাণ |
সরোবর সমুখে সলিল করে পান ||
জলপান করিতে দ্বিগুণ বাড়ে বল |
পুনর্বার লাউসেনে ধরিল কামদল ||
উলটি পালটি ধরে ছাড়্যা নাঞি যায় |
ছমাস যুঝিতে বুদ্ধি বিপরীত প্রায় ||
আশ দিয়া লাউসেন ঈষত পাছু আইসে |
মালসাট মারিয়া বাঘের বুকে বৈসে ||
বাম হাতে মারে তার দসনে চাপড় |
প্রাণভয়ে বাঘটা উঠিয়া দিল রড় ||
হেন বেলা লাউসেন ধরে তার লেজে |
অবনী হইতে তোলে আপনার তেজে ||
লেজে ধরি বাঘের সঘনে বীর দাপ |
বিনতানন্দন যেন ধরে কালসাপ ||
তিনবার ঘুরাইয়া দিলেক কাছাড় |
তেজিল জীবন বাঘ চূর্ণ হৈল হাড় ||
সমুখ সমরে বাঘ তেজিল জীবন |
মুক্ত হয়্যা স্বর্গে গেল ইন্দ্রের নন্দন ||
বিস্তর দিবসে মুক্ত নাটো কলাধর |
দ্বিজ রূপরাম গান ধর্মের কিঙ্কর ||

বাঘটা পড়িল রণে লাউসেন হাসে |
কর্পূরে পড়িল মনে চলিল তল্লাসে ||
মরা বাঘ কর্পূর দেখিব বিদ্যমান |
তবে তার পশ্চাতে লইব লেজ কান ||
বাঘবধ করিল বাড়িল বীরপনা |
রাজার দরবারে পাব দ্বিগুণ মাহিনা ||
বসিয়া মাহিনা খায় বারভূঞা সব |
গৌড় দরবারে যশ বাড়ির গৌরব ||
এত বলি ভাই-র উদ্দিশে বীর যান |
যেখানে কর্পূর আছে গেল সেই স্থান ||
অনুবধি হইল কর্পূর বস্যা আছে |
অনুমান করিয়া গেলেন তার কাছে ||
কর্পূর পাতর বলি ডাকে ঘনে ঘন |
তোমারে দেখিলে ভাই জুড়ায় জীবন ||
শার্দূল বধিনু একা না পাই দোসর |
শক্তি অনুসারে হৈল সংগ্রাম বিস্তর ||
গাছে হৈতে আপনি উলিয়া আস্য ভাই |
মরা বাঘ দেখিয়া গউড় চল যাই ||
ফলায় বান্ধিয়া তার লেজ কান নিব |
গৌড়েশ্বর দেখিলে দুলক্ষ তঙ্কা দিব ||
আর পাব ইনাম ময়নার রাজ্যখন্ড |
জালান্দায় বিলম্ব না সহে একদন্ড ||
তোমা বিনে কর্পূর জীবন নাই রয় |
রূপের নিছিনি ভাই মনের আশয় ||
ভারতী পীযুষমাখা নাম ধরি ডাকে |
চুপ দিয়া কর্পূর ঐমনি গাছে থাকে ||





.                                                   
বাঘবধ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . .  
.                                                                 
এই পাতার উপরে . . .     


মিলনসাগর
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকু পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা     
বাঘব পালার আগের পৃষ্ঠায় . . .
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
|| বাঘবধপালা ||
পৃষ্ঠা