| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| ভেদ ভাঙ্গ্যা বলিবে পিতার নাম কি | জননীর কিবা নাম কোন্ রাজার ঝি || এত শুনি হাসিল ময়নার বীরবল | শুনরে কর্পূর তোর মন বড় খল || কর্ণসেন জনক জননী রঞ্জাবতী | ময়না নগরে ভাই আমার বসতি || রঞ্জাবতী মাতা মোর বেণুরায়ের ঝি | পরিচয় পাইলে এখন বল কি || রমতি নগরে বাড়ী সর্বকাল দাতা | এতক্ষণে জানিল কর্পূর সব কথা || কর্পূর বলেন প্রাণ পাইনু এতক্ষণ | আপনি খসায়্যা দিবে আামার বন্ধন || জল নাহি ঝারিতে ভক্ষণ উপহার | সারাদিন মুখ চায়্যা রয়্যাছি তোমার || নাম সঙরিয়া কান্দি কদম্বের ডালে | বাঘের তরাসে দাদা পত্রের আড়ালে || বলহীন হয়্যাছি তোমার বিলম্বনে | আপনি নাম্বাহ দাদা আপনার গুণে || এত শুনি আগু হইল লাউসেন রাজা | কদম্বের গাছে হৈল কর্পূরের ধ্বজা || ডানি হাত বাড়াইল কর্পূর পাতরে | উপলক্ষ পাইয়া নামিল ধীরে ধীরে || গাছে হইতে কর্পূর নাম্বিল পায় পায় | শার্দূল তরাসে পুন পালাইতে চায় || পথ খোঁজে পালাত্যে সঙ্কোচ বড় মনে | কান্দে বালা কর্পূর তরাস লাগে মানে || কর্পূরের কাব্য দেখ্যা লাউসেন কয় | নিধন কব়্যাছি বাঘ মনে নাই ভয় || চল যাই দুভাই দেখিব কামদল | কাছাড়িয়া বধিনু অনাদ্য পক্ষাবল || তুমি মরা বাঘের কাটিবে লেজ কান | তবে যাব গৌড় রাজার বিদ্যমান || অই দেখ শার্দূল আমার হাতে মৈল | মরা বাঘ দেখিতে কর্পূর আগু হৈল || পর্বত আকার তনু পড়্যা মহীতলে | অতি দূরে কর্পূর দেখিল মায়াছলে || দক্ষিণ বাতাসে তার ডানি কান নড়ে | বাঘ নাই মরে বলি চমকিয়া পড়ে || প্রাণভয়ে কর্পূর পাতর ডাক্যা বলে | পালাইলে ভেট দিয়া শার্দূলের কোলে || চলদল মানস চঞ্চল হৈল শুরু | মরা বাঘ দেখিল কর্পূর কল্পতরু || তবে লম্ফ দিয়া আইল তাহার নিয়ড় | ডাক দিয়া মরা বাঘে হানিল চাপড় || চাপড় হানিল বাঘে বলে ডাক দিয়া | আমার বচন দাদা শুন আগু হয়্যা || বিপদ হইলে তোমার নাহি পাই লাগ | একুই চাপড়ে দাদা আমি মাইলু বাঘ || আমার সমান নহে মেঘনাদ বীর | মিছা বয়্যা বুল তুমি খড়্গ ধনু তীর || আমা হেতু ঘোড়া পাবে আমা হেতু জোড়া | ঘরে বস্যা দেখিব দাদার হাতনাড়া || এত বলি বাঘের কাটিল লেজ কান | কর্পূর পাতরে সেন করিল বাখান || সাবাসি কর্পূর ভাই ধন্য তোর বল | বীরদম্ভে বধিলে শার্দূল কামদল || এত বলি লাউসেন কর্পূরে কোল দিল | ধন্য বীর বলিয়া বিস্তর বাখানিল || প্রীত বাক্য শ্রবণে কর্পূর উলসিত | দ্বিজ রূপরাম গান ধর্মের সঙ্গীত || কি আর দুভাই ময়নার তপোধন | কেমন বচনখালি বল রাম রাম || ----ধুয়া ফলাতে বান্ধিয়া নিল বাঘের লেজ কান | জয় হৈল জালান্দা গৌড়রাজ্য যান || জালান্দার উত্তরে জগতগৌরী আছে | দুসারি বকুল তরু শোভে তার কাছে || গোটা দুই তাহার দক্ষিণে তাল তরু | বিস্তর দিনের গাছ সভা হৈতে গুরু || মোহিত মনসাতরু দেখিল বিরলে | শ্রমযুক্ত লাউসেন বসিল তার তলে || তৃষ্ণায় আকুল তনু বলে মহাবীর | ঝারি লয়্যা কর্পূর আনিতে যাহ নীর || অই দেখ তারাদীঘি গুয়া নারিকল | আপনি আনিঞা দেহ এক ঝারি জল || দেব অবতার দীঘি শকে লেখা যায় | পর্বত প্রমাণ পাড় দূরে শোভা পায় || রায়টি পাথরে বান্ধা ঘাট চারিখান | বিশ্বকর্মা পূর্বকালে কব়্যাছে নির্মাণ || কি দিব জলের লেখা পীযুষের তার | মরা হয় জীয়ন্ত খাইলে একবার || শুন্যাছি পরের মুখে পীরের শাসন | এক ঝারি জল দিয়া রাখহ জীবন || কর্পূর বলেন দাদা আমি এহা নারি | সদাই তোমার সঙ্গে কেবা বয় ঝারি || উদরের কারণে এ সব দুঃখ সই | সঙ্গে নাই দোসর অতেব ঝারি বই || ঘর গেলে এবার ধনের লেখা নিব | রাজপাট সিংহাসন বিভাগ করিব || কলিযুগে নতুবা বলাব কর্ণদাতা | নতুবা ফকির হব গলে দিয়া কাঁথা || কড়া কড়া ঘরে ঘরে ভিক্ষা মাগি খাব | শিকার করিতে নহে হাথি চড়্যা যাব || . বাঘবধ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
