| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| মহাপাত্র হইতে মহিম হৈল বড় | গোয়ালা যেখানি করে সেই কার্য্য দড় || এইরূপে দরবারে বঞ্চিল বহুদিন | সভাতে ভূপতি বলে হইয়া আসীন || শুন রে গোয়ালা ভাই না রয়্য . নিয়ড়ে | তোমারে বিষয় দিনু ডিহট্টের গড়ে || কর্ণসেন ভাই তথা কর্ণের সমান | আজি হৈতে বন্দেন তোমার ফুল-পান || বেবাক করিয়া মাত্র দিবে ইরসাল | তার উপর তোমার বাড়িল ঠাকুরাল || চল চল এখনি বিলম্বে নাহি কাজ | এত শুনি গোয়ালা চড়িল গজরাজ || মালমার্ত্তা সঙ্গে নিল নিজ পরিবার | ডিহট্টের-গড়ে যাব অজয় নদী পার || সভে মাত্র বংশেতে ইছাই পুত্র ছিল | কোলে করি সোমঘোষ আনন্দে চলিল || আগে যায় ধানুকি বন্দুকি পাইক ঢালি | পাছু যায় চাকর নফর অনুবালি || পদ্মাবতী পার হৈল পাইল চিনিকর | পশ্চাৎ করিল ভাটী বাষুলির ঘর || না করে বিলম্ব আইসে আনন্দিত মনে | বিরভিঞা পল্বভ ( ? ) দাখিল দশদিনে || একহাঁটু জলে পার হইল অজয় | বারতা পাইল কর্ণসেন মহাশয় || ছয় বেটা সঙ্গে সাজে ঘোড়ার উপর | সোমঘোষে সন্তোষ করিল লঘুতর || দুইজনে কোলাকুলি প্রেমে আলিঙ্গনে | ডিহট্ট ভিতরে আসি দিল দরশনে || নিরঞ্জন-পদরেণু ভরসা নিরন্তর | দ্বিজ রূপরাম গান অনাদ্যের বর || সোমঘোষ গোয়ালা হইল মহীপাল | কর্ণসেন উপরে বাড়িল ঠাকুরাল || দিবসে দিবসে বাড়ে সভাকার সুখ | অপুত্রক সোমঘোষ মনে বড় দুখ || অপুত্রক সোমঘোষ মনে অনুমান | কার পূজা করিলে পাইব পুত্রদান || জিজ্ঞাসিল সোমঘোষ অরুণনয়নে | আটকুড়া বল্যা লোক গালি দেই গনে || দানধ্যান ধর্ম্মকর্ম্ম যত কর্ম্ম করে | অপুত্রক পরশিল ব্রহ্মহত্যা ধরে || এত শুনি ব্রাহ্মণপন্ডিত পুরোহিত | ধর্ম্মশাস্ত্র দেখ্যা বলে সূর্য্যের লিখিত || পুথি দেখ্যা বলেন পন্ডিত পরাশর | এই পুথি পড়্যা ভিক্ষা মাগেন শঙ্কর || শিব আরাধিলে পূজা পন্ডিতসমাজে | হুতাশন আরাধিলে হাথি-ঘোড়া সাজে || দুর্গা পূজা আরাধিলে তিন লোকে সুখী | ধনপুত্র বর তার তিন যুগে দেখি || ইহকালে সংসারে অনেক পায় সুখ | পরকালে পায় গিয়া শ্রীকৃষ্ণ-সন্মুখ || আদ্য ঢেকুর পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
