| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| আগুদলে দুড় দুড় সঘনে পড়ে দামা | দুই হাজার হাতি সঙ্গে আগে খানসামা || কর্ণসেন আপুনি রাজার কাছে যায় | ছয় বেটা ছয় ঘোড়া সঘনে চালায় || উভুদলে পার হৈল ভৈরবীর জল | ভুঞার পয়াণে মহী করে টলমল || ষোল ক্রোশ জুড়িয়া পদাতি পড়ে ঠাট | গোত্তাগাছি ভৈরবী রাখিল গোলাহাট || স্নানপূজা দান নাঞী নৃপতির মনে | ঢেকুরে দিলেক দেখা অজয় পুলিনে || শুন্যাছি পিতার মুখে বল্যা যেন রাজা ( ? ) | লঙ্ঘিবারে এ নদী নারিল কোন রাজা || মনে নাঞী অনুমান পাত্রের বচন | ঐমনি চলিল রাজা চড়িয়া বারণ || তড়ে ছিল মাতঙ্গ সলিলে দিল পা | আচম্বিতে দুর্দুড় জলের শুনি রা || বাও নাঞী বাতাস নাঞী বরষা বাদল | মাঘমাসে নদী বাড়ে বিধাতার বল || সলিলের শব্দ শুনি ভূপতি পাছায় | তিন হাজার হাতী ঘোড়া জলেতে স্যাজায় || অজয়ার বন্যা দেখি ত্রাস হৈল মনে | মহারাজ মোকাম করিল ভুঞ্যাগণে || ষোল ক্রোশ উত্তরিল রাজার নস্কর | অনর্থ বাড়িল গিয়া ঢেকুর ভিতর || শ্যামরূপা দেবী তখন বসিয়া দেউলে | ইছাএ ডাকিয়া তখন বলেন বিরলে || উভুদলে এক রাজা বারভুঞ্যাগণ | লোহাটা বর্জ্জর বলে পাঠাই এখন || যত দিন নাঞী হয় কচ্ছপ অবতার | ততদিন তোমাকে দিয়াছি অধিকার || আমি রণে যাব বাপু তুমি বৈস ঘরে | দশ গৌড়েশ্বর তোর কি করিতে পারে || উপলক্ষ বলে যদি লোহাটা বর্জ্জর | নবলক্ষ সৈন্যকে পাঠাব যমঘর || উপলক্ষ বিনা কার্য্য না হয় কখন | উপলক্ষ বিনা বাপু না হয় নিধন || একদন্ড পাঠাইলে অনেক কার্য্য হয় | চারিদিকে বৈ নহে শুখাব অজয় || শিরোধার্য্য সত্বরে দেবীর বাক্য নিল | লোহাটা বর্জ্জর বীর সংগ্রামে সাজিল || ব্যালিশ কোটাল সঙ্গে যমের সমান | তরণি উপরে চড়ে অতি বেগবান || কাড়া শিঙ্গা টমক নিশান ঘনে ঘন | তরঙ্গে তরঙ্গে তরী করিল গমন || পঞ্চমুখে হাতি ঘোড়া রাহুত মাহুত | লোহাটা দিলেক তাড়া যেন যমদূত || অনাদ্যের মায়া কহনে নাঞী যায় | অনাদ্যমঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গায় || অকালে অনিল যেন উত্তর অম্বরে | লোহাটা উরিয়া পড়ে লস্কর ভিতরে || আথালি পাথালি সৈন্য হানে ঝনঝন | মধ্যরণে রাউত সর্দ্দার কাটা যান || দুহাতে হেত্যার ধরি উভুদলে চোট | হিমালয় সদৃশ কুঞ্জর যায় লৌট || বারভূঞ্যা বলে যুঝে রাজা গৌড়েশ্বর | উলটি পালটি হানা দিলেক বর্জ্জর || ঘোড়ার হিষুঁনি শুনি হাতির নিনাদ | আকাশ পাতাল ভেদি হইল প্রমাদ || রামরায় সিফাই হাথির পিঠে যুঝে | দামার শব্দ যেন দেবতা গরজে || রণে যুঝে আগুরি দক্ষিণ-চূড়ামণি | সমুখে দিয়াছে হানা রাখে বাণ আনি || কর্ণসেন দিয়াছে দক্ষিণ দিগে হানা | ছয় বেটা রণে যুঝে বাণে বিচতক্ষণা || কেহ বা তুরঙ্গ-পিঠে কেহ বা টাঙ্গনে | পিতার সঙ্গতি পুত্র যুঝে মাঝ রণে || রাজা পাত্র বারণে বসিয়া বলে মার | গুলি পড়ে একা রণে পঞ্চাশ হাজার || আদ্য ঢেকুর পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
