| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| কর্ণসেনের জ্ঞাতি বন্ধু যত জন ছিল | অঙ্গে হইতে জামা জোড়া উতারিয়া দিল || পরম উল্লাস হইল রাজার দরবার | টাকা সিকা আধটাকি কত পাইল আর || বসনের বোঝা বান্ধে রজক নাপিত | ময়না নগরে যায় হয়্যা হরষিত || পাত্র বলে মোর মুন্ডে পড়িল বজ্জর | লাউসেন ভাগিনা হইল ময়না নগর || কপাল হৈল মন্দ পাএ পাএ ডেড়ি | কোন বুদ্ধ্যে রঞ্জাকে করিব আঁটকুড়ি || মথুরা নগরে ছিল কংস নৃপমুনি | ভাগিনা হইতে মৈল ভাগবতে শুনি || গোকুল মথুরা হৈল গৌড় মধুপুর | লাউসেন হইল কৃষ্ণ আমি কংসাসুর || চোর পাঠাইয়া দিব ময়না ভুবন | চুরি কব়্যা আনে যেন রঞ্জার নন্দন || ময়না নগরে রিপু বাড়াল্যে গোসাঞি | রোগশেষ রিপুশেষ রাখিবার নাই || ভাগিনা করিব নষ্ট অনুমান করে | নিবেদন করে কিছু দরবার ভেতরে || আজি হতে তোমার রাজতি নাঞি রয় | অনেক চিন্তিল মন এহার উপায় || ধন দিলে রজক-নাপিতে কি কারণ | লাউসেন তোমার রিপু রঞ্জার নন্দন || এবার বত্সরে নিব রাজদন্ড ছাতি | রাজসিংহাসন নিব আর ঘোড়া হাথি || এখন সামাল তুমি সহস্র বলবান | পশ্চাৎ বলিব কিছু এহার বিধান || মোর বাক্য শুন অহে গৌড়েশ্বর রায় | ধন কড়ি রজক নাপিত লয়্যা জায় || সেই সব দ্রব্য রাখ বাহির মহলে | মাগন্তা ফরিরে দেহ মহাপাত্র বলে || হুকুম দিলেক দড় সমুখে দিগার | বিদায় হইল বেগে করিয়া জোহার || নাম যাদবেন্দ্র নিল সঙ্গে বগসারা | ধাইল দক্ষিণ মুখে হাথে হেম হীরা || রজক নাপিত যান আনন্দিত মন | ধাইল দিগার আগে আগুলিল গন || কাড়্যা নিল বসন ভূষণ ছিল গায় | রজক-নাপিত তখন পাড়িয়া কিলায় || ধর্ম্মের মায়া কিছু কহনে না যায় | ধর্ম্মের মঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গায় || পয়জার ইড়িক ঘন মারে সোটা নড়ি | ভৈরবী গঙ্গার জলে যায় গড়াগড়ি || বাজুবন্দ সুবর্ণ মাদুলি সোনা নিল | পূর্ব্ব ধন বিনা যত সকল হরিল || সেইখানে বিস্তর পাইল অপমান | কান্দি কান্দি রজক-নাপিত ঘর যান || বেগারি ধরিয়া ধন আনিল রাজার | বাহির দলজে রাখি দক্ষিণ দুআর || মাগন্তা ফকির আইলে ভিক দিতে চাই | দলজে রাখিল ধন বসন কাবাই || দরবার বসিল তবে দক্ষিণ দুআর | প্রণমিঞা চরণে বলিছে সমাচার || মহাপাত্র বলে রাজা ভাল কর্ম্ম নয় | বিশেষ তোমার রিপু বলবন্ত হয় || রিপুশেষ রাখিলে বংশের রক্ষা নাই | চুরি কর লাউসেন যে কর গোসাঞি || লাউসেনের রুধিরে আপনি কর স্নান | তবে বলবন্ত হবে যে হনুমান || সুধন্বা পড়িল রণে হংসধ্বজের বেটা | তার রক্ত ধরিয়া অর্জুন নিল ফোটা || সেই হত্যে অর্জ্জুন সংসার হইল জয়ী | মন দিয়া শুন রাজা তোরে এত কই || যে জন পরশ করে রিপুর রকত | সেই বলে মহাবীরে জিনিল সুরথ || সর্ব্বকালে শুন্যাছি রিপুকে অষ্যি আছে | পরিবন্ধ করিয়া অনেক জন বাঁচে || চুরি কর লাউসেন বিলম্বে নাঞি কাজ | নিজ হস্তে কাটিব ময়নার যুবরাজ || গৌড়শ্বর রাজা কি বলিল বিবরণ | ইন্দা মাট্যা চোর বল্যা ডাকিল রাজন || জোহার করিয়া নিদা জোড় হাথে রয় | বার ভুঞা সমুখে ভূপতি কিছু কয় || শুন ভাই নিদা মাট্যা আমার বচন | অবিলম্বে চল তুমি ময়না ভুবন || দু-হাতে তোড়ল দিব দু-কানেতে সোনা | লাউসেন করিবে চুরি পাত্রের ভাগিনা || এত বলি পান দিল পঞ্চাশ মোহর | বিলম্ব না সহে শীঘ্র চল অনুচর || বসিতে বিলম্ব নাহি রাজার আরতি | নিদা চোর ময়না সাজিল রাতারাতি || সংহতি করিয়া নিল চোর পাঁচজন | যুগল ভাগিনী ভাই সাজিল তখন || লাউসেন করিতে চুরি চলিল ময়না | বিধাতা বুঝিতে নারে চোরের মন্ত্রণা || . লাউসেন-চুরি পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
