| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| পাকসাট সঘনে ঐমনি উড়ে বীর | ঘুরিতে ঘুরিতে পাইল ভৈরবীর তীর || পাক দেয় পালক পসারে ঘনে ঘন | উড়িয়া পড়িতে বীর ঘুড়িছে গগন || লাউসেন দেখিতে পাইল পবননন্দন | হরষিত হৈলা বীর তুরিতগমন || উপরে ঐমনি ঘোরে ঘন দেয় ছো | ঐমনি তুলিতে চায় কর্ণসেনের পো || উড়ে পড়্যা ঐমনি লাউসেন নিল কোলে | পখুর বাগানে যেন চিল মাছ তোলে || লাউসেন করিয়া কোলে উঠে হনুমান | পামরি বসন চিব়্যা করে খান খান || কোলে করি লাউসেন বৈকুন্ঠ মুখে ধায় | উভরড়ে ধাইআছে ধর্ম্মের সভায় || দেবতা সভায় বস্যা দেব নারায়ণ | সারি সারি বসিআছে উন কোটি দেবগণ || বিধাতা দক্ষিণে বসি আছে পশুপতি | পবন বরুণ বস্যা বিষ্ণুর সংহতি || ছয় রাগ বসি আছে ছত্রিশ রাগিণী | মূর্ত্তিমান হয়্যা দেব বস্যাছে আপনি || সম্মুখে নারদ ঋষি বীণাযন্ত্র হাতে | উত্তরিল হনুমান ধর্ম্মের সাক্ষাতে || সম্মুখে লাউসেন রাখি করে প্রণিপাত | লাউসেন করিল কোলে অনাদ্যার নাথ || আপনি অনাদ্য কোলে করিল কৌতুকে | মানবমূরতি দেখি সদা হাস্য মুখে || কোলে করি লাউসেন বলেন নিরঞ্জন | হয়্যাছে মনুষ্যরূপ কশ্যপনন্দন || অপরূপ দেখেন দেবতাগণ চেয়্যা | বিশেষ দেখিতে আইল দেবতার মেয়্যা || দেবতার বালক বৈকুন্ঠে যত ছিল | দেখিতে মানবরূপ সত্বরে আসিল || মনুষ্য দেখিয়া সভে মনে হরষিত | গুআপান খান ধর্ম্ম কর্পূর সহিত || ভক্ত কোলে করি ধর্ম্ম ভকত-বত্সল | সভামধ্যে আপনি হাসেন খল খল || আকস্মাৎ মুখ হইতে কর্পূর পড়িল | কর্পূর পাতর বলি তথি জন্ম হৈল || দেবতা রাখিল নাম কর্পূর পাতর | বালক জন্মিল দেখ কর্পূর-সুন্দর || লাউসেনের সখা হৈব সর্ব্বজন গায় | ভূত ভবিষ্যৎ বাণী বলিবারে চায় || বদনকমলে দিল কপিলার ক্ষীর | মহীতলে অতেব লাউসেন মহাবীর || অনাদ্যের মুখে [ যদি ] কর্পূর জন্মিল | অনুচিত মনে গুণে মূর্খ সব মৈল || কর্পূর লাউসেন থাকে দেবতা-সভায় | দ্বিজ রূপরাম গায় ধর্ম্মের কৃপায় || বৈকুন্ঠে লাউসেন তবে রঞ্জার নন্দন | সিদ্ধিভুজা খাইল ত চোর পাঁচ জন || রামরস ফুরাইল ঝারি হৈল শুধু | পতঙ্গ ভাসিল যামে লিপ্ত হৈল বিধু || মায়াধারী বেশ রেখ্যা পরে জামা জোড়া | কাবাই পরিল কেহ বান্ধে ঢাল খাঁড়া || সিন্ধা বলে আরে নিন্দা লাউসেন আন | রাজা যার রুধিরে করিতে চান স্নান || সজীয়ন্ত দিতে যাই নৃপতির আগে | দুগ্ধ বিনে মরে জানি ক্ষোভ পাছে লাগে || বিষ্ণুপদতলে বেলা হইল বিস্তর | চল ভাই ভেটিব পঞ্চম গৌড়েশ্বর || এবার অনেক ভাগ্য এড়াইল জীবন | ঘরে গিয়া দেখি শিশু-বনিতা বদন || মাএর চরণে গিয়া দন্ডবৎ নিব | জয় দেখি এবার অনেক কাল জীব || চল যাই দরবার বিলম্বে নাই কাজ | দম্ভ করি উঠে চোর যেন মহারাজ || এত বলি লাউসেন আনিতে কেহ যায় | কাড়ার উপর কাটি পড়িল ত্বরায় || সঘনে ফলঙ্গ দেয় বিশাল বড়াঞি | বেনা বনে দেখে গিয়া লাউসেন নাই || দিশা করে চৌদিগ রাখিনু কোন খানে | পগার খন্দক খালে খোঁজে চারি পানে || চোর বড় চঞ্চল বিপাক দেখি বড় | সিন্ধা নিন্দা গজমাতা এক ঠাই জড় || উলকেশ্যা বন দেখে ঝৌড় ঝঙ্কার | কানন খুঁজিয়া বোলে ভৈরবীর ধার || কেহ বলে শার্দ্দুল সারিয়া গেল বনে | কেহ বলে টানাটানি করিল শৃগালে || মনে অনুমান করে নয়নে জলধারা | চান্দ বল্যা চকোর গিলিয়া গেল পারা || শিশু ছিল এইখানে পামরি ছিল ঢাকা | কি জানি চোরের ঘরে দৈবে দিনে ডাকা || নিন্দা কান্দে মাথায় তুলিয়া দুই হাত | কি বোল বলিব গিয়া রাজার সাক্ষাৎ || হানা দিতে ময়নায় অনেক পাইনু দুখ | সব হৈল বিফল দেখিনু কার মুখ || . লাউসেন-চুরি পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
