| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| কোলে করি লাউসেন কর্পূর পাতর | মনগতি মনে কর ময়না নগর || রঞ্জাবতী ভাগ্যবতী তার কোলে দিবে | কর্পূরের বাণী বাপু বিরলে বলিবে || বড় দুঃখ পাইলে এক পুত্রের লাগিআ | দুই [ পুত্র ] ধর্ম্মরাজ দিল পাঠাইয়া || এই বাণী বলিবে রঞ্জার বিদ্যমান | বিলম্ব না সহে বাপু অবশ্য পআন || বলবন্ত বীর তুমি রামায়ণে লেখে | চলে যাও বিমানে দেবতা নাই দেখে || সেতুবন্ধ অবতার তোমা হতে হল্য | ইন্দ্রজিৎ তোমার বিক্রম হৈতে মৈল || পাতালে মরিল মহী পাল্য পরাজয় | পতঙ্গ ধরিতে মনে না করিল ভয় || কর্পূর লাউসেন লহ না কর বিলম্ব | অমর অসুর কাঁপে দেখি তব দন্ত || কর্পূর করিল কোলে লাউসেন মাথায় | না বলিতে মহাবীর হইল বিদায় || দুই শিশু কোলে নিল বীর হনুমান | সত্বর ময়না দেখে করি[ ল ] পআন || পবন সাক্ষাতে হরি বিষ্ণুপদতলে | দেখাদেখি গেল বীর অবনিমন্ডলে || কোন মায়ারূপে দেখা দিব কর্ণসেনে | বালক করিআ মনে কোলে যুক্তি করে মনে || কি বলিব রাজাকে কেমনে শিশু দিব | মায়া করি ফুলবনে বিরস রাখিব || দৈবজ্ঞের বেশ ধরি যাব সভা আগে | পশ্চাৎ বালক দিব এই মনে লাগে || ফুলের বাগান আছে ময়নার মাঝে | তাহাতে কর্পূর রাখে ময়নার দরজে || ফুল মধ্যে রাখিল অনেক ফুল তুলি | কর্পূরের রূপে যেন খেলায় বিজুলি || কর্ণসেনের রূপে আলো ফুলের বাগান | কোকিল উগারে মধু অলি গীত গান || ফুলশয্যা বিছাইয়া রাখিল দুইজন | ফুলের বালিশ দিল ফুলের উড়ন || ননাবর্ণের ফুল দিল লাউসেনের গায় | মকরন্দ লোভে অলি উড়িআ বেড়ায় || রাখিল যুগল শিশু নিবাত কুলির ( ? ) | তখনি দৈবজ্ঞ হৈলা হনুমান বীর || কেহ কান্দে করুণা করিয়া মায়াফান্দে | লাউসেন হারায়্যা কেহ বুক নাই বান্ধে || পরম যতনে বীর নিল পাঁজি পুথি | তিলক উজ্জ্বল পরিধান শুক্ল ধুতি || নৃপতি বস্যাছে তখন হইআ অজ্ঞান | রাজার নিকটে তখন গেল হনুমান || অঝোর নয়ানে বস্যা আছে রঞ্জাবতী | হেনকালে মহাবীর যান শীঘ্রগতি || ডাক দিয়া বাক্য বলে আপনা আপনি | বাছা চুরি হৈল আমি গুণ্যা দিতে জানি || এত বলি রাজার মহলে দেখা দেন | রঞ্জাবতী রাণী যথা রাজা কর্ণসেন || দৈবজ্ঞ দেখিয়া দিল বসিতে আসন | জোড়হাতে রঞ্জাবতী করে নিবেদন || পুত্র হারা হৈল গোসাঞি আজিকার রাতি | গুণে দি[লে ] সোনায় বান্ধাব পাঁজি পুথি || এত বলি রঞ্জাবতী গড়াগড়ি যায় | শোকে বড় কাতর কুটিল চক্ষে চায় || হনুমান অঙ্ক রাখে অবনী উপরে | পাঁজিখান পরিপাটি শোভে বাম করে || অঙ্কের উপর খড়ি রাখিল তখন | অন্তরযামিনী বীর করে নিবেদন || চোর পাঠাইয়াছিল তোর বড় ভাই | নিন্দা মেট্যা চোর এথা আইল ধাত্তাধাই || রাতারাতি লাউসেনে নিলেক বলে ছলে | ঠাকুর করিল রক্ষা ভৈরবীর জলে || মালির বাগানে ফেল্যা গিআছে সত্বর | সেইখানে গেলে পাবে লাউসেন কুঙর || রাজ্যের সহিত রাজা ঊর্দ্ধমুখে ধায় | সভা আগে হনুমান ফুলবন পায় || দুই শিশু হনুমান কোলে করি নিল | রঞ্জাবতীর সম্মুখে তখন দেখা দিল || অতিশয় বিনয় বলে মধুর ভারথি | আপনার পুত্র বাছা নেহ রঞ্জাবতী || শালে ভর দিলে তুমি বড় পাইলে দুখ | ব্যাকুল হয়্যাছে মন দেখ পুত্রমুখ || এত বলি হনুমান দন্ডাইল দূরে | দুই শিশু দেখি রঞ্জা মনে যুক্তি করে || নিশ্চয় বলিতে নারে লাউসেন কে | অসিত কমল রাজি সসংঙ্গিত দে|| সমান নয়ন দেখ সমান বদন | সমান সমান দেখে চম্পকবরণ || এত অনুমান যদি করি[ ল ] বিস্তর | লাউসেন বলিআ নিল কর্পূর পাতর || ঐমনি বদনকমলে স্তন দিল | দুগ্ধ নাই খায় শিশু কান্দিতে লাগিল || . লাউসেন-চুরি পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . এই পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
