| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| আন গিয়া আপনি আমার খাস জামা | কোন চিন্তা ভাগিনার তুমি যার মামা || ভালমতে লয়্যা যাহ তোমার ভাগিনা | ক্ষেম পাটা লিখ্যা দেহ দক্ষিণ ময়না || বারভূঞা সভাই কথায় সায় দিল | পাত্র মহামদ কিছু বলিতে লাগিল || কর্ণের সমান দাতা তুমি কল্পতরু | বালকের প্রায় বুদ্ধি সভাকার গুরু || পাটহস্তী পাটরাণী একুই সমান | এহা বিনে রাজা নাই তোমার কল্যাণ || ভাগিনাকে পশ্চাত বকশিস্ দিব রায় | আর বড় জঞ্জাল তোমার ঠাঞি যায় || মাণিকরাজ বিহনে বসিতে নাই পাটে | অপরঞ্চ মধুপান বিধি নাই খাটে || পাটহস্তী নহিলে রাজ্যের সর্বনাশ | এত শুনি ভূপতির বুকে লাগে ত্রাস || সত্য বল মহাপাত্র এহার বিধান | কেমনে রাজ্যের হব কুশল কল্যাণ || তোমা বিনে পরিণাম অন্য নাই গতি | মরিলে জীবন পায় কে দেই যুগতি || এত শুনি পাত্র বলে সভার সমুখ | উচিত বলিলে মনে সভাকার দুখ || যেজন বধিল হস্তী সেই প্রাণ দিক | জাহির করিয়া গুণ ক্ষেম লিখ্যা নিক || ভালমতে ভাগিনাকে পাঠাইব ঘর | নহে দশ লক্ষ লব মাণিকরাজ কর || রাজা পাত্র এখনি তাহার দিব ফল | মাঝ-বুকে বসাব পাথর জগদল || জোড় হস্তে বিস্তর বলিল বিবরণ | রাজা বলে লাউসেন তুমি প্রাণধন || মাণিকরাজ কুঞ্জর কেমনে প্রাণ পায় | সর্বনাশ রাজ্যের রাজার লক্ষ্মী যায় || পাটহস্তী বিনে হব কড়ার ভিখারী | এত শুনি বলেন ময়নার অধিকারী || কাছাড়িতে চূর্ণ হৈল যার হাড় তনু | পুনরপি প্রাণ দিতে নারে মহামনু || অসম্ভব শুনিলু জীবন পায় মরা | জিজ্ঞাসিয়া দেখ দেশে যত আছে জরা || বাড়ী যাব এ সব ইনামে নাই কাজ | পাত্র বলে ছল ছাড় রাখহ সমাজ || কুয়ায় মরিয়াছিল বারুই-নন্দন | সভায় বলিলে তার দিয়াছি জীবন || পাঁচদিনের মরা যেবা জিয়াইতে পারে | তবে কেন পাটহস্তী জিয়াইতে নারে || ভাল চাহ এখনি হাথিরে দেহ প্রাণ | ঈশ্বরী পূজিব নহে দিয়া বলিদান || দরবারে বসিয়া করে বিষম তর্জনী | গরুড় নিবাসে যেমন কাঁপে ফণী || রাজা বলে লাউসেন গণি পূজা দিব | কানে সোনা দিয়া ভাল পদবী রাখিব || এত শুনি লাউসেন স্মরি ধর্মরায় | পুষ্পজল দিলেক হাথির সব গায় || মব়্যাছিল পাটহস্তী পাইল জীবন | গদা মাহুত প্রাণ পায়্যা উঠিল তখন || জয়ধ্বনি শঙ্খধ্বনি গৌড় শহরে | প্রীতিভাব ধর্মের বাড়িল ঘরে ঘরে || যতী সতী সকলে বিস্ময় মানে চিতে | হুকুম করিল রাজা পাটঘোড়া দিতে || ভান্ডার হইতে কেহ জামাজোড়া আনে | লাউসেনে বকশিস্ দেই সভা বিদ্যমানে || মহারাজা লাউসেনে পরায় জামাজোড়া | অপরঞ্চ দিল আর চড়নের ঘোড়া || প্রতি অঙ্গে পরাইল অপূর্ব ভূষণ | ইনাম লিখহ পাত্র ময়নাভুবন || দেশে যাকু গৌরবে বিলম্ব আর নয় | রঞ্জাবতী কর্ণসেন ভাল যেন কয় || লাউসেনে আপনি বিফলে দুঃখ দিলে | ভাগিনা বলিয়া কিবা মর্যাদা রাখিলে || রাজার বচন শুনি লাউসেন কয় | তবলে বাছিয়া অশ্ব লব মহাশয় || আপনার যোগ্য ঘোড়া লইব আপনি | কল্পনা রাখিয়া সায় দিল নৃপমণি || শুভক্ষণে বীর তবে গেল ঘোড়াশাল | জোহার করিল দেখ্যা যতেক বারাল || কোতল তুরকি সব বিহগ টাঙ্গন | লাউসেনে দেখ্যা বলে সলিললোচন || তুরকি টাঙ্গন সব বলে ডাক দিয়া | আমারে রাউত লহ সংহতি করিয়া || মহিম করিব সাথে রণে বনে জয় | মনে কর আমারে ময়নার মহাশয় || অল্প তৃণ জয় খাই আর অল্প দানা | একদিনে ছমাসের পথে দিব হানা || যদি দড় রাউত মনের মত পাই | ছমাসের পদ্ধতি দিবস দিই যাই || আকূল নয়নে কত বলিছে তুরকি | সভা বলে তোমার বাহন হয়্যা থাকি || পর্বতী টাঙ্গন যত জুড়িল হিসর | আকুল হইল খুঁজি অন্ডির পাথর || লাউসেন ঘোড়াকে জিজ্ঞাসে একে একে | আপনার পূর্ব ঘোড়া পাটে নাই দেখে || মনে দুঃখ বাড়িল ময়নার মহাজান | পূর্ব অশ্ব সংহতি নহিল দরশন || অন্ডির পাখর তখন হিসরিয়া উঠে | পায়ে বান্ধা পাথর লোহার চারি খুঁটে || আশোয়ার দেখিয়া হিসাব বারে বার | অসিত বরণ অশ্ব পর্বত আকার || কারণ জানিঞা সেন সেইখানে রয় | মুখ বাড়াইয়া ঘোড়া কানে কানে কয় || আমি অশ্ব অন্ডির পাখর অনুপাম | গোউড়ে বালাই আমি খেপা ঘোড়া নাম || দশ বিশ দিন প্রতি বধিলু সিফাই | এইরূপে এ বার বত্সর দুঃখ পাই || কাছাড়িয়া কত শত বধিলু বারাল | দুর্জয় সিফাই দেখ্যা বলে যম কাল || চারি পাঁচ দিনে দেখি কদাচিত জল | ঘাস দানা বিনে বড় হয়্যাছি দুর্বল || লাউলেনে নিবেদিল অন্ডির পাখর | দ্বিজ রূপরাম গান অনাদ্যের বর || এক মনে শুন সভে ধর্মের মঙ্গল | শ্রবণে কলুষ নাশ বাঞ্ছা নিরমল || . ****************** . হস্তিবধ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
