| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| সেন বলে সত্য যদি দেব নিরঞ্জন | অকাল দুর্গতি মোর কিসের কারণ || এত দুঃখ মনুষ্য জনমে কেবা পায় | এত বলি পাএ ধরি গড়াগড়ি যায় || পলাইতে পারি আমি যদি আজ্ঞা পাই | বিপদ যামিনী ঘোর জন্মিল বালাই || বিষের জনম যেন সমুদ্রমথনে | লঙ্ঘিলে অনর্থ বড় হইব এখনে || আজ্ঞা দিলে এখনি পালায়্যা যাই আমি | বীর বলে বিশেষ পাগল বড় তুমি || কালি পাবে পুরস্কার প্রথম প্রহরে | দন্ড কত বিলম্ব করহ বন্দিঘরে || ঘোড়া পাবে বকশিস কাবাই শাল পাগ | বিপাকে পড়িলে বাপু কিবা অনুরাগ || কলিযুগে দেবতা তোমার পক্ষাবল | কি মিথ্যা কারণে তোর জীবন চঞ্চল || এত শুনি লাউসেন নিবারিল মন | সপন কহিতে বীর চলিল তখন || এ দুই প্রহর নিশি অঘোর গগনে | রাজার শিয়রে বসি কহেন সপনে || অবধানে শুন রাজা কত নিদ্রা যায়্য | ধর্মরাজ ডাকেন বারতা নাই পায়্য || রামরাজা আপনি লাউসেন অবতার | কারাগারে বন্দী কালি লাউসেনকুমার || ময়নার লাউসেন তোমার শালী পো | তিলেক তোমার মনে নাঞি মায়া মো || হাথিচোর মিছা ঢেসা দিয়াছে তাহারে | মামা হয়্যা আপনি বান্ধিল কারাগারে || বন্ধুকুল তোমার বিপক্ষকুল নয় | লাউসেন মহাবীর রঞ্জার তনয় || চোর বলি বিস্তর করিল অপমান | মারণে মলিন মুখ সংশয় পরাণ || বারভূঞা হৈতে তার বাড়াবে গৌরব | ঘোড়া দিবে বকশিস দক্ষিণ দেশ সব || তবে যদি আমার বচন কর হেলা | সমুদ্রে পেলিব তোর গউড় অচলা || রামের সেবক আমি রাবণের ঐরি | বিধি বিষ্ণু বরুণের শঙ্কা নাহি করি || সপন বলিতে নিশি হইল প্রভাত | বৈকুন্ঠে পাইল হনু দেবতা সাক্ষাত || অরুণ উদয় হৈল কোকিলের রা | শয়ন তেজিয়া সর্বজন তোলে গা || দরবার করিয়া বৈসে রায় গৌড়েশ্বর | বারভূঞা সমুখে বসিল বরাবর || বাহাত্তর মন্ডল বসিল সারি সারি | গজসিংহ বসিল বঙ্গের অধিকারী || নামজাদা বিস্তর বসিল সেনাগণ | দ্বিজ রূপরাম গান সখা নিরঞ্জন || ধর্মসভা করিয়া বসিল গৌড়েশ্বর | বারভুঞা বর্তমান বসিল বিস্তর || পাট ভোট কম্বলে বস্যাছে দ্বিজমণি | পন্ডিত কুলীন কবি সাক্ষাত তরণি || পাঠক বসিয়া হাথে ভারথ পুরাণ | কেহ কাব্য কল্পনা বাখানে বর্তমান || নাটক নাটিকা কত বাখানে নৈষদ | রাজার সাক্ষাতে বস্যা পাত্র মহামদ || স্বপ্ন দেখি প্রভাতে বলেন গৌড়েশ্বর | হস্তিচোর আন দেখি সভার ভিতর || রাত্রে আজি সপন দেখিনু অমঙ্গল | শুন পাত্র এহার বুঝিব ফলাফল || কারাগারে বন্দী কালি কোন মহাজন | কিবা চোর কিবা সাধু বুঝিব এখন || আন চোর সত্বর বিলম্ব নাঞি সয় | সমস্ত রজনী প্রীত নিদ্রা নাহি হয় || জ্বর নাই জঞ্জাল সদাই মনে দুখ | মহাপাত্র চোর আন আমার সমুখ || বারভূঞা বিচার করিব ধর্মশীল | তত্কাল বন্দীরে আনি করহ দাখিল || চোর আন তজবিজ করিব এইখানে | অরূণ লোচনে চান মহাপাত্রপানে || মনে কর সব মোর হুকুম বরদার | অবিলম্বে আন চোর আমার দরবার || রাজার বচনে সায় দিল সর্বজন | বন্দিবাসে মহাপাত্র করিল গমন || পথে যাত্যে বিস্তর বিষাদ ভাবে মনে | কথ দূরে দেখিল ভাগিনা লাউসেনে || তারপর বিস্তর দেখিল অনাকার | নিশ্চয় লাউসেন বস্যা ধর্ম অবতার || মহাপাত্র দেখিল বন্ধন নাঞি পায় | কেহ যেন আগুন জ্বালিয়া দিল গায় || কোন বেটা দূর কৈল চোরের বন্ধন | বিষম চোরের মতি জানে কোন জন || হুকুম করিল পুন পোতামাঝিগণে | একবারে লাউসেনে ধরে দশজনে || চমকিত হৈল তবে রঞ্জার নন্দন | মনে মনে ভাবেন ঠাকুর নিরঞ্জন || ভাগিনা বলিয়া দয়া মাতুলের নাই | অলঙ্কার মারণে পড়িল কোন ঠাঁই || পাত্র বলে লয়্যা চল রাজ বিদ্যমান | দুহাতে কুন্তল ধরি কেই দেই টান || কেহ পাছু ঢেকা মারে সোটা হুড়া কিল | কার মনে দয়া মায়া নাহি একতিল || কাতর লাউসেন বড় মুখে নাঞি বোল | হস্তিচোর বলিয়া সংসারে হৈল রোল || ধরাধরি রাজার দরবারে লয়্যা যায় | মদন-সমান রূপ দেখিবারে পায় || . ****************** . হস্তিবধ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
