| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| কোটালে হুকুম দিল হেথা হৈতে দূর | দেবতানন্দনে যেন পাইল অসুর || আগ চুল দেখিল চোরের আগ পা | কেহ করে জিজ্ঞাসা বদনে নাই রা || আকার-ইঙ্গিতে কেহ জিজ্ঞাসে কারণ | অবশ্য বলিবে তুমি কাহার কারণ || রাজসভা নিবেদিল ঈষত ইঙ্গিতে | সভামধ্যে লাউসেন লাগিল কান্দিতে || মলিন বদন চাঁদ বহে দুই ধারা | পল্লব মলিন যেন বসন্তের খরা || অভিমানে উত্তর না দেই লাউসেন | আপনি ভূপতি তারে তত্ত্ব জিজ্ঞাসেন || আগু হয়্যা আস্য বাপু বৈস এইখানে | উত্তর না দেহ কেনে কান্দ অভিমানে || কিবা নাম কার পুত্র কার তুমি নাতি | পরিচয় দিলে দিব দশবিশ হাথি || অবতার তুমি বাপু হস্তিচোর নহ | সভামধ্যে বসিয়া বাপের নাম কহ || তোমা সঙ্গে হাজার চাকর ঘোড়া দিব | প্রধান করিয়া তোমা গৌড়ে রাখিব || আমার বদলে নহে তুমি হও রাজা | নিজ কুল বলিলে জীবন হয় তাজা || নহে দিব বিদায় চলিয়া যাহ ঘর | আমার সমুখে বাপু তোর কারে ডর || মন দুঃখ ঘুচিবে পাইলে পরিচয় | কান্দিতে কান্দিতে তখন লাউসেন কয় || মহাপাত্র আমার লয়্যাছে অস্ত্র ফলা | শ্রবণের কুন্ডল গরুড়মণি মালা || তোমার দরবারে যদি ফলা অস্ত্র পাই | তবে সব পরিচয় দিয়া আমি যাই || মহাপাত্র আমার বিশেষ অভাজন | চোর বলি অস্ত্র নিল অঙ্গের ভূষণ || বাক্য শুনি বিরূপ আগুন হৈল রায় | পাকল নয়নে রাজা পাত্রপানে চায় || এতদিন জানিল তোমার যত মন | মিছে ঢেসা দিয়া লহ বৈদেশীর ধন || এত বড় ওজুক এমন রীত তোর | আপনি রাখিয়া হস্তী আনে বল চোর || আন শীঘ্র বসনভূষণ ফলা খান্ডা | এইরূপে পরের মজায় কত ভান্ডা || পাত্র মহামদ শুনি রাজার তর্জনি | অন্তরে হইল কোপ মুখে নাই বাণী || নফর আছিল সঙ্গে করিল ইঙ্গিত | ফলা অস্ত্র লাউসেনের আনিল তরিত || সভামধ্যে আনিয়া রাখিল ফলাখান | তিমির নাশএ যেন তরণি-বিমান || ধর্মসভামধ্যে ফলা করে ঝলমল | শোভা করে উপরে চামর গঙ্গাজল || সিফাই খনক থাকে ফলাপানে চায়্যা | হেঁটমুখে থাকে পাত্র অপমান পায়্যা || লখ্যা ডুমনীর নাম লিখ্যাছে বিশাই | এইরূপ মহাপাত্র দেখিবারে পাই || কাব্যলীলা আদ্যরস তায় নাই মন | বড় অপমান দেখে পাত্রের লিখন || পাত্র মহামদ লেখা ডুমনীর পায় | লাউসেনে না দেখিয়া ফলাপানে চায় || দরবারে বসিয়াছিল যত সেনাগণ | একদৃষ্টে সভার ফলায় রহে মন || বন্দিঘরে যখন জন্মিল যদুমণি | বসুদেব-কোলে গেল গোকুল সরণি || সূর্যের নন্দিনী পথে আকূল যমুনা | শিবা রূপে পুরঃসরা তথি ত্রিলোচনা || সেই পথে জলে নাম্বি বসুদেব যান | কোলেতে আছিল কৃষ্ণ পড়িল নিদান || হায় হায় করে দ্বিজ না দেখি নন্দন | পুনরপি দেখা দিল দেবনারায়ণ || গোকুলে গোবিন্দ রাখি ঈশ্বরী লইল | এই অবতার সভে সাক্ষাতে দেখিল || তারপর সমুখে দেখিল নিধুবন | রাধাকানু একু ঠাঁই যত গোপীগণ || কেহ মধুবনে নাচে কৃষ্ণ করি কোলে | রাজার দরবারে দেখি ধন্য ধন্য বলে || কেহ বলে গৌড়ে নাই এমন গঠন | ছয়দন্ড ফলা দেখে রাজসভাজন || মহাকবি সকল বাখানে দশমুখ | মহাপাত্র তখন বসিয়া হেঁটমুখ || তপস্যার ফলায় ভারত-খন্ড লেখা | চতুর্ভজরূপে হরি পান্ডবের সখা || অভিমন্যু মহাবী অর্জুন কুঙর | জয়দ্রত সঙ্গে যুদ্ধ করিল বিস্তর || একাকার বিমান পতাকা রথধ্বজ | তুরঙ্গ তপন লেখা সরি সারি গজ || মূর্তিমান চায়্যা দেখে ভারথ পুরাণ | ফলা দেখি বলে সভে সফল নয়ান || বিস্ময় হইল দেখি যত সভাজন | ফলা রাখ্যা লাউসেনে জিজ্ঞাসে কারণ || রাজা বলে বৈদেশী তোমার নাম কি | পরিচয় না পাইলে জীবনে নাঞি জি || নিশ্চয় জানিনু তোর মন নয় বাঁকা | তোমা দরশনে পাই দশ লক্ষ টাকা || নির্ণয় করিতে নারি তুমি কোন রূপ | হাথে ধরি বিস্তর বিনয় করে ভূপ || বিধিমতে বিনয় করিছে ভূঞা সব | পরিচয় দেহ তুমি কাহার যাদব || লাউসেন বলে আমি পরিচয় দিব | দেবী অস্ত্র ফলা আদি কোমরে বান্ধিব || বলিতে বলিতে বীর ফলা অস্ত্র নিল | অলঙ্কার অঙ্গে পরি কোমর বান্ধিল || মুখ চায়্যা রয়্যাছে ভূপাল ভূঞাঘটা | পাবকের কাঞ্চন অঙ্গের যেন ছটা || জোড়হাথে লাউসেন সভাখন্ডে কয় | ডাক দিয়া রাজাকে কহেন পরিচয় || কর্ণসেনের পুত্র আমি কনকসেনের নাতি | জননীর নিজ নাম বটে রঞ্জাবতী || নিজালয় ময়না অবনী অনুপাম | সংসার বিজই নিজ লাউসেন নাম || পরিচয় পায়্যা সভে করে হায় হায় | বাপধন বলি ডাকে গৌড়েশ্বর রায় || আমি জানি তুমি মহাপাত্রের ভাগিনা | তবে কেন মহাপাত্র এ সব কল্পনা || তোমার সমান শত্রু আর কেবা আছে | দানপাত্র ভাগিনা সভাই রাখে কাছে || . ****************** . হস্তিবধ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
