রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
জলে ভাসে শিলা বানরে গায় গীত |
যতেক বলিল কথা সব এই রীত ||
জাতি লুকাইয়া বাণী বদনে বদন |
আমার ভাগিনা বলি কি পাইলে লক্ষণ ||
মহাপাত্র আপনি রাজাকে নিবেদিল |
ঘোড়া জোড়া কাবাই ঐমনি রয়্যা গেল ||
সবাই ভুলিয়াছিলে ভুতুলের বোলে |
আমার ভাগিনা বলি নিঞাছিলে কোলে ||
লাউসেন হইলে হইত বিশাল বিক্রম |
ভাগিনা অবশ্য রাখে মাতুলের ক্রম ||
হস্তিচোর এ বেটা ভাগিনা মোর নয় |
কর্ণসেনের পুত্র বলি প্রাণভরে কয় ||
এত শুনি দরবারে সভাই দিল সায় |
ধর্মের মঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গায় ||

একমনে শুন সভে ধর্মের মঙ্গল |
শ্রবণে কলুষনাশ বাঞ্ছা নিরমল ||
রাজা বলে লাউসেন শুন মন দিয়া |
কোন পথে গৌড় আইলে বলিবে বসিয়া ||
উচিত বলিবে বাপু মনে কোন দুখ |
এ কথা শুনিয়া মনে জন্মিল অসুখ ||
সভাজন সায় দিল শুন এই বাণী |
কাঁটা খোঁচা চরণে বাজিল তত্ত্ব জানি ||
রাজার বচনে সায় সভাসদ দিল |
পূর্নবার লাউসেন বলিতে লাগিল ||
বধিনু সারেঙ্গধর ময়মার বসতি |
এত বলি নিদর্শন পেলে শীঘ্রগতি ||
তবে জালান্দার গড়ে বাঘ কামদল |
তাহারে বধিনু বনে দৈব অনুবল ||
অন্য লোকে রাজা ভেটে দিয়া গুয়াপান |
আমি রাজা ভেটিব বাঘের লেজকান ||
কুম্ভীর করিনু বধ তারাদীঘির জলে |
ফলায় নিশান ছিল সভামধ্যে পেলে ||
তারপর জামতি নগরে দরশন |
বারুই বৌ-এর নাককান কাটিনু লোটন ||
মাব়্যাছিল বালক জীবন দিনু তার |
গোলাহাট নটীর করিনু ছারখার ||
সুরীক্ষার লোটন কাটিনু নাককান |
দরবার ভিতর ঝাঁপা রাখে বর্তমান ||
ধর্মের সেবক হইলে রণে বণে জয় |
দরশনে দরবারে সকল শত্রু ক্ষয় ||
এত শুনি পরম সুন্দর মহারাজা |
পাত্রকে কহিল কর ভাগিনার পূজা ||
তোমার ভাগিনা বটে রূপে গুণে ধীর |
গৌরব করিয়া লহ আপন মন্দির ||
পরিহাস বচন বলেন পুন তাকে |
আজি যেন ভাগিনা মামীর কাছে থাকে ||
কালি দিব বকশিস চলিয়া যাবে দেশ |
ভালমতে বনাইবে ভাগিনার বেশ ||
হাসিতে হাসিতে রাজা এ বোল বলিল |
মহামদের গাএ যেন আগুন জ্বলিল ||
সমুখে বস্যাছে যেন বরলার খুটি |
লাউসেনের নামে তখন কহে নাটিকুটি ||
ভুতুলের বাক্য শুনি সভে হরষিত |
একমনে শুন রাজা এহার বিহিত ||
কেবা যায় প্রত্যয় এমন বাক্য শুনি |
আমার ভাগিনা নয় নৃপচুড়ামণি ||
রমতি নগরে ছিল মাল সারেঙ্গধল |
বার বত্সর হৈতে ধরে বাইশ হাথির বল ||
হেন মল্ল বধিল দরবারে বস্যা কয় |
মনে এহা সভার প্রত্যয় কিবা হয় ||
বাইশ মালের বল ধরে কামদল বাঘ |
ইন্দ্রকে বধিতে পারে যদি পায় লাগ ||
সাত বার আপনি শার্দুলে হানা দিলে |
প্রাণপণে রাউত সহিত পালাইলে ||
আরাধিল কেমনে বাঘের কান লেজ |
সংগ্রামে তাহার সম আছে কার তেজ ||
তারাদীঘি শইবাল শকে লেখা যায় |
দেবতা মানুষ তার জল নাহি খায় ||
তায় ছিল কুম্ভীর যেমন অজগর |
আকার দেখিলে তার গাএ আইসে জ্বর ||
এমন কুম্ভীর বলে করিল নিধন |
জামতি নগরে মরা পায়্যাছে জীবন ||
ছকুড়ি নাগর লয়্যা যেবা কেলি করে |
তাহার লোটন পেলে তোমার দরবারে ||
অবশ্য লম্পট এই ইথে নাহি আন |
ভৈরবী পূজিব কালি দিয়া বলিদান ||
নহে দেহ হুকুম রাখুক বন্দিবাসে |
দিবস নিষ্ফল গেল তস্কর সম্ভাষে ||
রাত্রি হৈলে তোমার মহলে দিবে হানা |
সামালে থাকিতে চাহি দিয়া বন্দিখানা ||
পাত্র বুদ্ধি রাজা নারী বুদ্ধি নর |
পাত্র বুদ্ধে ভুলিল ভূপতি গৌড়েশ্বর ||
ষোল পাত্র সারি সারি ছিল বিদ্যমান |
জিজ্ঞাসিল মহারাজা এহার বিধান ||
মামা আর ভাগিনা জঞ্জাল হৈল বড় |
নাহি জানি পরিণাম কিবা হয় দড় ||
বারভূঞা শুন পাত্র সিফাই খনক |
সভাখন্ড দূর কর অকাল পাবক ||
রাজার বচন শুনি সর্বলোকে কয়|
কেমনে প্রত্যয় হয় পাত্র মহাশয় ||
তুমি বল ভাগিনা আমার এহ নয় |
তবে কেন মাতুল বলিয়া তিঁহ কয় ||
আপনি কহিবে সুষ্ঠু এহার উপায় |
বিসম্বাদ ভাঙ্গিলে পৌরুষ দূরে যায় ||
এত শুনি মহাপাত্র ভাবে মনে মন |
কেমনে মারিব আজি রঞ্জার নন্দন ||
হেটমাথা করিলে বিস্তর বুদ্ধি পায় |
আগু হয়্যা বলে তবে রাজার সভায় ||
যদি লাউসেন বটে আমার ভাগিনা |
সভামধ্যে দরবারে বুঝিব বীরপনা ||
মাণিকরাজ হস্তীর সহিত যুদ্ধ দিবে |
জাহির করিয়া গুণ ঘোড়া জোড়া নিবে ||
খাসা জোড়া পরাব পাগড়িবেশ তান |
আর ইনাম করিব মুলুক অর্ধখান ||
হস্তীবধ করিলে প্রত্যয় হয় মনে |
আনন্দে ভাগিনা ঘরে লইব তখনে ||
কর্ণসেনের বেটা যদি কনকসেনের নাতি |
কাছাড়িয়া এখনি বধুক পাটহাথি ||
তবে মোর প্রত্যয় কানের সোনা দিব |
প্রাণের ভাগিনা বলি পৌরুষ করিব ||

.      ******************      

.                                                   
স্তিবধ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . .  
.                                                                      
পাতার উপরে . . .   


মিলনসাগর
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকু পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা     
স্তিবধ পালার আগের পৃষ্ঠায় . . .
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
হস্তিবধ পালা
পৃষ্ঠা -                  ১০  ১১