| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| উড়িছে সয়চান ঘুঘু উপর গগন | তবে ঘুঘু পক্ষ লৈল রাজার শরণ || পরাণে কাতর হয়্যা লুকায় আঁচলে | প্রাচীরে সয়চান বস্যা ডাক দিয়া বলে || ক্ষুধায় জীবন যায় শুন হে রাজন | দৈবে দিল আহার রাখিলা কি কারণ || রক্ষা কর জীবন আহার দেহ খাই | দশমাস এহার কারণে ধাত্তাধাই || শুন হে রাজন তুমি কর্ণ হৈতে দাতা | আমার ভক্ষণ তবে কেন হৈলে হাতা || কোলে হৈতে তুরিত আহার পেল্যা দে | এখন না চিন তুমি পিতামহ কে || দেহ শীঘ্র আহার ক্ষুধায় জ্বলে তনু | এহাতে পাষন্ড হৈলে পাপ লিখে মনু || শালিক পায়রা ঘুঘু আমার ভক্ষণ | আহারে হইলে হাতা কিসের কারণ || ঘুঘু দেহ রাজন ক্ষুধায় দুঃখ পাই | সবংশে মরিবে নহে শাপ দিয়া যাই || এত বলি সয়চান প্রাচীরে বস্যা রয় | ধর্মসভা বস্যাছে ভূপতি কিছু কয় || পক্ষ নিল শরণ সভার বিদ্যমান | এহারে কেমনে দিব অবোধ সয়চান || আগু হয়্যা আমার গাঁএর মাংস খায়্য | মনে পরিতোষ যেন পরিণামে পায়্য || না দিব শরণ-পাখি রহিতে পরাণ | কাটিয়া পাএর মাংস তুষিল সয়চান || কর্পূরে কহিল হিত ময়রা যুবতী | হাপুতির বাছা তুমি স্থির কর মতি || লুকায়্যা রহিল যদি কর্পূর পাতর | বিপত্ত পড়িল হোথা লাউসেন উপর || হাথিচোর বলিয়া দুহাথে দড়ি বান্ধে | অপমান পাইয়া ময়নার রাজা কান্দে || চৌদিগে পাইক দেই তবলের হুড়া | রতি মাসা হইল অঙ্গের জামাজোড়া || নেব কোটাল দুরন্ত কানের সোনা নিল | গরুড়মণি সংহতি গজমোতি ছিল || বাজুবন্দ গলার মাদুলি হার লেই | চোর ধরা পড়িল দোহাই কেহ দেই || কেহ বলে এমন বয়সে হস্তিচোর | দড়বড়ি কোটাল কোমরে দেই ডোর || দশজন দিগার বান্ধিল লাউসেনে | কাতর হইল বালা বাগুরা বন্ধনে || টানাটানি করে কেহ মাথার কুন্তল | কেহ নিল কুঞ্জর দেবীর অস্ত্রবল || দুই হাথে দুই দশ ধরিল দিগার | দড়বড়ি চোর নিল পাথের দরবার || দয়া না হইল মনে ভাগিনা বলিয়া | বন্দিঘরে বান্ধ্যা রাখ বলিল বসিয়া || ভালমতে রাখিবে সদরে নাঞি নিব | কালি দেবীপূজায় এহারে বলি দিব || এ সব তাজনি বলে পাত্র মহামদ | রূপ দেখি চোরের সংসার নিশবদ || কেহ বলে কামদেব রুহিণীকুমার | হস্তিচোর নহে এই গণিল সংসার || পাত্রের তরাসে কেহ বলিতে না পারে | হুকুম করিল দড় বান্ধ কারাগারে || এত বলি মহাপাত্র ফলাপানে চায়| কুপিল মরমে বহ্নি জ্বলে যেন বায় || কামারে হুকুম দিল ভাঙ্গিবারে ফলা | অপমান লিখিল মরমে বড় জ্বালা || গুঁড়া কব়্যা এখনি জলেতে পেল্যা দে | মাঝদহে পেলিব তুলিয়া সভে নে || ফলাখান উপরে আগুন কেহ দেই | পেলিতে গঙ্গার জলে কুড়ি জনা লেই || তুলিতে না পারে কেহ সাক্ষাত অচল | আপনি নির্বাণ পায় যে জ্বালে আনল || চোট হানে লোহার পাখুরা নাই বৈসে | ছুতার দুহাতে হানে চোট নাঞি পৈশে || অক্ষয় কবচ ফলা অনাদ্যের বরে | পরিণাম ভুলিয়া রাখিল বাসাঘরে || তবে সব দিগার লাউসেনে ধব়্যাছিল | পাথের হুকুমে পুন বন্দিঘরে নিল || যুবতী বালক যুবা মুখ দেখি কান্দে | বারজন দিগারেতে লাউসেন বান্ধে || হাথে দিল হাথকড়া চরণে নিয়ল | বুকে দিল দারুণ পাথর জগদল || বাম পাশে নাড়িতে পঞ্চম শেল ফুটে | ডানি পাশ নাড়িতে করাতে মাংস কাটে || চিকুর বান্ধিল চালে রেশমের দড়ি | বদন উপরে দিল দারুণ বিষবড়ি || হস্তিচোর বিষম পালয়্যা পাছে যায় | ব্যালিশ বন্ধন দিল লাউসেনের পায় || দুয়ারে তসলা দিয়া বৈসে পোতামাঝি | পূজা নিতে ধর্মের এ সব মায়াবাজি || বিপত্ত পড়িল রাজা লাউসেন উপর | দ্বিজ রূপরাম গান শ্রীরামপুরে ঘর || এক মনে শুন সভে ধর্মশাস্ত্রবাণী | ধর্মের গাজনে পড়ে জয়শঙ্খধ্বনি || বন্দিঘরে লাউসেন দোসর কেহ নাঞি | ছোটভাই কর্পূর লুকাল্য কোন ঠাঞি || বন্দিঘরে কান্দেন ময়ার চূড়ামণি | কোথা গেলে কর্পূর বিপাক বড় গণি || মনে চিন্তা করেন ঠাকুর নিরঞ্জন | এমন সময় প্রভু রাখে কোন জন || নিদারুণ নিগড় বন্ধনে প্রাণ যায় | দীনের শরণ তোমা হরিবংশে গায় || যদুবংশশিরোমণি লইনু শরণ | মিছে ঢেসা দিল মামা হারাই জীবন || মহামন্ত্র জপেন মুদিয়া [ দু ] নয়ান | মনে হোম মনে যজ্ঞ মনে অর্ঘ্যদান || মনেতে করিল স্তব মনেতে প্রণাম | চরণে শরণ নিল মনে অবিরাম || মহাবিদ্যা মনেতে করিল সঙরণ | হেনবেলা জানিল ঠাকুর নিরঞ্জন || লাউসেনের বিপত্ত জানিলা দিবাকর | হনুমানে আপনি বলেন মায়াধর || . ****************** . হস্তিবধ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
