| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| ঘন ঘন হস্তী ঝাঁকে লাউসেন উপর | মনে করে এখনি পাঠাব যমঘর || পাছু হয়্যা আইসে হস্তী আগু নাহি যায় | দন্ডবত করে শুন্ড অবনী লোটায় || দুহাথে অঙ্কুশ হানে নিকুম্ভ নিয়ড় | পরিত্রাহি ডাক ছাড়ে চঞ্চল ভূধর || নিকুম্ভ রুধিরে মহী অরুণ সাক্ষাত | হস্তীর অন্তরে রাজা আছে এক হাথ || নিদ্রাগত লাউসেন কর্পূর নাই জানে | শিয়রে বসিয়া যম চুলে ধরি টানে || ছয়দন্ড শিয়রে বিহরে করিবর | পথশ্রমে নিদ্রা যায় কর্পূর পাতর || কাল ঘুমে আকুল হয়্যাছে দুইজন | শিয়রে প্রহরী বস্যা দেব নিরঞ্জন || কুঞ্জরে অঙ্কুশ ঘন হানিছে মাহুত | দন্ড করে পাতকী যেমন যমদূত || কদাচিত পাটহস্তী আগু নাঞি হয় | কানে কানে মাহুত হাথিরে কিছু কয় || বাপু বাছা করিয়া বুঝায় ঘনে ঘন | বৈদেশীকুমার দুই বধের কারণ || অচল সমান থাকে আগু নাই চলে | ইশারতে নাই চলে মাহুতের বোলে || আগু নাই চলে হস্তী লাউসেনের ভয় | বিষ্ণুভক্তজন দেখি দন্ডবত হয় || শুন্ড লয়্যা প্রণাম করিল দুই পায় | পরাণে আকুল হয়্যা পশ্চাত গোড়ায় || শুন্ড তুলি গগনে দেবতা সাক্ষী করে | গদা মাহুত পরিণাম গণিল অন্তরে || চায়্যা দেখে গগনমন্ডলে নাই রাতি | তবে তার শিয়রে বান্ধিল পাটহাথি || কসিয়া বান্ধিল দড়া বকুলের গাছে | নিদ্রাগত দুভাই কুঞ্জর তার কাছে || পাটহস্তী পত্র টানে কর্পূর শিথানে | গদা মাহুত উত্তরিল পাত্র বিদ্যমানে || জোহার করিয়া বলে যত সমাচার | বধিতে নারিনু আমি বৈদেশীকুমার || এত কাল জগতে এমন নাঞি দেখি | মনে হয় তাহার চাকর হয়্যা থাকি || আপনি ঝাঁকিল গজ একশত বার | শুন্ড তুলি স্বর্গপানে করে নমস্কার || এত বলি গদা মাহুত গেল নিকেতনে | পাত্র মহামদ কিছু ভাবে মনে মনে || হস্তিচোর বলিয়া বান্ধিব বন্দিঘরে | নহে বলিদান দিব দেবীর আতরে || এইবার রঞ্জাকে করিব আঁটকুড়ি | করে আর ফেলিব ময়নার মরা হাড়ি || এই যুক্তি করিতে যামিনী অবসান | গগনে উদয় হইল সূর্যের বিমান || বার দিয়া বসিল ভূপতি গৌড়েশ্বর | ভূঞা সব বসিল রাজার বরাবর || সমুখে বসিল মহাপাত্র মহাশয় | অনুবন্ধ বচন রাজাকে কিছু কয়|| আমার বচন রাজা শুন মন দিয়া | বলিব বৃত্তান্ত সব বিরলে বসিয়া || আজি হৈতে নাই তোমার রাজদন্ড ছাতি | চোরে নিল তোমার মাণিক পাটহাথি || পাটহস্তী পাটরাণী একুই সমান | হেন হস্তি চুরি গেল নাহিক কল্যাণ || কোটালীয়া দুরন্ত বচন নাহি শুনে | সম্পদে মাতাল হয়্যা বস্যা থাকে কোণে || এইরূপে তোমার বিস্তর ধন যায় | ধর্মের মঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গায় || পাত্রের বচন শুনি রাজা কম্পমান | কোটাল বলিয়া ডাকে অরুণ নয়ান || আগু হয়্যা কোটাল জোহার করে পায় | তর্জন করিয়া বলে গৌড়েশ্বর রায় || ধনের গরবে বেটা না চিন আপনা | ঘরে বস্যা খাও কোন বাপের মাহিনা || পাটহস্তী লয়্যা গেল কোথাকার চোর | পূর্ণমাসী রজনী তিমির নহে ঘোর || ডাক দিয়া তস্কর পালাল্য কোন গনে | এত বেলা হয়্যাছে তোমার নাই মনে || হেন ছার কোটালে কখন নাহি রাখি | কোটালের তস্কর সভাই দেই সাক্ষী || রাজা বলে পাটহস্তী নাহি যদি পাই | একত্রে পুতিব কোটালের সাত ভাই || হাটে তোর বেচিব যুবতী জ্ঞাতি কুল | কানে সোনা বিহর বিড়ঙ্ক সমতুল || তাম্বুলের রাগ তথি অধর উজ্জ্বল | চোর সনে মৈত্রতা সদাই মনে খল || এখনি আনহ চোর হাথি মাণিকরাজ | তবে দিব বকশিস ভূষণ কর্ণসাজ || রাজার সমুখে শঙ্কা না করে কোটাল | সমুখে জবাব করে যেন যম কাল || চোরে বান্ধ্যা আনিব মাণিকগজ মাতা | বাতাস গণিতে পারি এবা কোন কথা || পাতালের বাসুকি মাতঙ্গ যদি লেই | ভেদ কব়্যা ভুবন আনিঞা যেন দেই || স্বর্গপুরী রয়্যাছে ইন্দ্রের ঐরাবত | আমার নিকটে কেহ নাহি বায় পথ || হস্তীর সহিত চোর করিব হাজির | এত বলি বিদায় কোটাল সাত বীর || শিঙ্গা কাড়া একাকার শহরে শহরে | বাহির সরাণে বৈসে চউকি সত্বর || পথে বৈসে দিগার আগুলিয়া ঘাঁটি | চোর খুঁজে কোটাল কাড়ায় দিয়া কাঠি || জীবন জঙ্গল খুঁজে পথে খুঁজে পাঁজ | বিহানে বিদায় হৈল বেলা হৈল সাঁজ || বড় বড় সরাই ফিরে বাহির বাজারে | পাড়া গ্রাম খুঁজিল গঙ্গার দুইধারে || শালবন সকল দেখিল একে একে | বকুল তলায় তখন হাথি বান্ধা দেখে || দেখিল মাণিক বান্ধা বকুলের গাছে | দুই ভাই হস্তীর দক্ষিণে বস্যা আছে || কর্পূর কুঞ্জর দেখি করে অনুমান | বড় ভাগ্যে দাদা আজি বাঁচিল পরাণ || একবার চাঠিলে ঐমনি যবা চুর | লাউসেনের গলা ধরি কান্দেন কর্পূর || চোর বলি ধরিতে ধাইল দশজন | দূরে হৈতে কোটালিয়া গাজে ঘনে ঘন || . ****************** . হস্তিবধ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
