| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| গুণাগার ভূপতি নিবেক ঘর গারি | অতেব সে সভাকারে সাবধান করি || ডাকাডাকি বলিল কাড়ায় দিয়া কাঠি | জানাইতে শহরে পতঙ্গ হৈল ভাটি || ডাক দিয়া জানাইল শহরে শহর | বাসা দিতে মানা কৈল বৈদেশী কুঙর || এইরূপে বাজায় সঘনে শিঙ্গা কাড়া | বলিতে কহিতে গেল কামারের পাড়া || দিগে দিগে দিগার করিছে ডাকাডাকি | মহারাজা হুকুমে বৈদেশী নাঞি রাখি || কামিলার দুয়ারে কোটাল কয়্যা যায় | লাউসেন কর্পূর বালা শুনিবারে পায় || কর্পূর বলেন দাদা শুন মন দিয়া | কামারের ঘরে গেল কোটাল কহিয়া || কেবা জানে এমন মাস্বার অবিচার | বাসা দিতে মানা হৈল বৈদেশী কুমার || তবে যদি এখানে করিবে বিলম্বন | লুট কব়্যা নিবে কালি কমিলার ধন || নৌতন কুটুম্ব তোর হইল কামিলা | মাঝপথে মৈত্রতা মাণিক মনোশীলা || যদিস্যাৎ এখানে বিলম্ব মৈত্রভাবে | রজনী প্রভাতে মৈত্র বড় দুঃখ পাবে || যত দেখ তোমার মৈত্রের পরিজন | বনিতা বালকে দুখ পাবে অকারণ || ধন কড়ি নিবেক দিবেক অপমান | দেখিতে নারিবে শাস্তি হারাবে পরাণ || আজি নিশি বঞ্চিব ভৈরবী গঙ্গাতীরে | কালি রাজা ভেটিয়া বিদায় হব ঘরে || আপনার মিতাকে ডাকিয়া কিছু কহ | পরিণামে অনর্থ এখান যদি রহ || প্রীতমনে শিরোধার্য কর্পূরের বাণী | ডাক দিয়া কামিলাকে বলেন তখনি || লাউসেন বলে শুন লাউদত্ত মিতা | তুমি হৈলে মোর যেন কর্ণসেন পিতা || কদাচারী গৌড়েশ্বর কে জানে এমন | মানা কৈল বাসা দিতে বৈদেশীনন্দন || অতঃপর দুইভাই বিদায় হয়্যা যাব | তরুতলে নদীকুলে রজনী গোঙাব || গুণাগার নিবে রাজা তুমি পরাধীন | এই পথে বাহড়িয়া রব একদিন || এত বলি বিদায় ময়নার তপোধন | দ্বিজ রূপরাম গান দৈমন্তীনন্দন || পুনর্বার নিবেদন ময়নার ভূপ | আমার বিলম্বে মাতা তুমি পাবে দুখ || এত শুনি কামিলা ত উচ্চস্বরে কান্দে | যুবতী বালক তারা বুক নাঞি বান্ধে || পাএ ধরি কামিলা কান্দেন উচ্চস্বরে | আজি মিতা বিলম্ব করহ মোর ঘরে || জাতি কুল ধন দিব এহার কারণে | বৈস মিতা কর্পূর কনক সিংহাসনে || যদি রাজা দন্ড লেই যুবতী জীবন | তোমার কারণে দিব এই মোর পণ || পাএ ধরি বিস্তর বিনয় বাক্য বলে | রাজাকে সর্বস্ব দিব তোমার বদলে || একদিন ধর্ম সত্য করহ পালন | দন্ডেক বসিয়া চাহ বিদায় এখন || এত যদি কামিলা কহিল জোড়কর | না রহিল লাউসেন কর্পূর পাতর || ফলা ঝারি কর্পূর নিলেক পাছুয়ান | বাজার হইয়া বই লাউসেন যান || তার পিছু দিল চর পাত্র মহামদ | কংসরাজা হৈল যেন কৃষ্ণের আপদ || সত্বরে শহর বই হৈল দুই ভাই | পাছু পাছু গুড়াইল বিস্তর বালাই || গোউড়ের সমুখে দেখিল গঙ্গাতীর | তরুতলে বসিল লাউসেন মহাবীর || মোকাম করিল দুঁহে বকুলের মূলে | বড় সুখ আনন্দ দেখিল দুই কূলে || সামালিয়া কর্পূর রাখিল ফলাঝারি | পূর্বমুখে বসিল ময়নার অধিকারী || সমুখে কর্পূর রাখে নানা উপহার | একমনে পূজিল ঠাকুর করতার || মহাসুখে দুইভাই করে জলপান | শীতল পবন পায়্যা সুখে নিদ্রা যান || তরুতলে নিদ্রাগত লাউসেনকুমার | পাত্র মহামদ তখন পাইল সমাচার || মনে যুক্তি করে তখন পাত্র মহামদ | পাটহাথি চাঠিলে ভাগিনা হব বধ || নদীকূলে নিদ্রা যায় ঘোর কাল রাতি | চর পাঠাইব যেন বুকে চাঠে হাথি || একবার চাঠিলে ঐমনি হব গুঁড়া | কর্ণসেন এতদিনে হল্য আঁটকুড়া || এই সব যুক্তি পাত্র ভাবে মনে মনে | গদা নামে মাহুত ডাকিল ততক্ষণে || পাত্র বলে গদা মাহুত শুন মন দিয়া | মাণিকরাজ হস্তী আন সাজন করিয়া || হাথি-চাঠে বধ কর লাউসেন ভাগিনা | দুহাথে টোড়র দিব দুই কানে সোনা || অবিলম্বে আপনি অরিষ্ট কর দূর | বধ গিয়া লাউসেন সারথি কর্পূর || তোমার সে সভা হৈতে বাড়াব মাহিনা | ক্ষেম পাটা লিখ্যা দিব দক্ষিণ ময়না || আর দিব বকশিস গাএর খাসা জামা | বাছ্যা দিব পদ্মিনী ময়নার পাঁচ রামা || এত শুনি গদা মাহুত নিল ফুলপান | লাউসেন বধিব আমি ইথে নাঞি আন || চুরমার হবে বেটা হাথির চাপানে | ভ্রষ্ট হয়্যা অনিলে পড়িবে কোনখানে || তোমার বান্ধব বলি দয়া না করিব | হাথি চাঠাইয়া তারে অবশ্য মারিব || এত যদি মাহুত করিল অঙ্গীকার | হাথে ধরি মাহুদ্যা বলিল পুনর্বার || তবে যদি লাউসেনের না হয় মরণ | শিয়রে বান্ধিয়া হস্তী করিবে গমন || চোর বাদে পশ্চাত বান্ধিব বন্দিঘরে | বলিদান দিব তারে দেবীর আতরে || বারে বারে নিশ্চয় বলিল বিবরণ | বিদায় হইয়া মাহুত করিল গমন || শীঘ্রগতি দরশন দিল হস্তিশালে | সুরঙ্গ সিন্দুর দিল হস্তীর কপালে || শিকল করিল দূর চরণে জিঞ্জির | বিস্তর যতনে হস্তী করিল বাহির || . ****************** . হস্তিবধ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
