| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| না বলিতে বলে দ্বিজ বাড়ীর কল্যাণ | ভাল মনে পাঁজি পড়ে বীর হনুমান || বৃহস্পতিবার আজি চতুর্দশী তিথি | পরিপূর্ণ সিদ্ধ যোগ কর অবগতি || মিথুন রাশির ইবে কিঞ্চিত মলিন | শুন সতী এ মাসের হৈল ষোল দিন || রাশি গণ্যা পশ্চাত বাড়ীর রাখে খড়ি | সব দেখি সুমঙ্গল সবে এক ডেড়ি || বাড়ীর ঈশানকোণে ভূতের আশ্রয় | দেখা দিব রাত্রি কিবা হৈলে দন্ড ছয় || আপনার ঘরদ্বার আপনার নারী | নাম ধরি ডাকিব বিস্তর মায়া করি || কহিল সকল কথা সভে হয়্য দড় | পাটকেল পাথর করিয়া রাখ জড় || দশ বিশ জনে ধরি কব়্য অপমান | বিশেষ বলিলে তারে বধিবে পরাণ || এত বলি বিদায় হইল হনুমান | চালু কড়ি দৈবজ্ঞ বিস্তর পাইল দান || বৈকুন্ঠ ভুবন পাইল পবননন্দন | ভূতের তরাসে জাগি থাকে সর্বজন || দুয়ারে বসিল মহাপাথের বনিতা | কামদেব সন্নিধানে অপর দুহিতা || জ্ঞাতি বন্ধু সংহতি সজাগ সাবধান | মশাল দেউটি তথা জ্বলে বিদ্যমান || দিন গেল আন্ধার যামিনী আগুসার | পাত্র বলে উলুবনে তবে কেন আর || ঘর যান মহাপাত্র দুটি হাথ বুকে || গলায় গুড়ের মালা চুনকালি মুখে | ভূতের তরাসে যথা জাগে লোকজন || সেইখানে মহাপাত্র দিল দরশন | আগু হয়্যা আবছায়া দেখাইল মু || পোড়ামুখে চুনকালি ঘন ঘন হুঁ | আবছায়া দুয়ারে দেখিল তার ঝি || বাপকে দেখিয়া বলে হ্যাদে ওটা কি | ছি ছি বলিয়া ডাকে কামদেবের মা | তুমি হও মামাশ্বশুর হোথা থাক বা || পাত্র বলে আমি তোর মামাশ্বশুর নই | কামদেবের বাপ আমি তোমার স্বামী হই || কার কথা কেবা শুনে ভয় বড় চিতে | পাটকেল পাথর বরিষে চারিভিতে || কেহ মারে গোহাড় দারুণ পাটিকাল | রক্ত পড়ে ধারায় মাথার গেল ছাল || কেহ দেই মুটকি পয়জার কিল হুড়া | কিষাণিয়া জাঁতে যেন হেমন্তের পুঁড়া || বিশেষ বনিত দেখে বাম করে বাতি | দাসী মাগী তার মুখে মারে তিন লাথি || প্রাণ লয়্যা মহাপাত্র উভ ধাই দিল | পরিবন্ধ পরমানে গোউড় পাইল || বিপাক পড়িল বড় নিঃসরিতে নারে | কল্পনা করিয়া বৈসে রাজার দরবারে || পাত্র বলে মহারাজা অবধান কর | নব লক্ষ সৈন্য তব গেল যমঘর || কে বলে লাউসেন গেছে পশ্চিমউদয়দিতে | কানড়ার বেশ ধরি আইল আচম্বিতে || হানিল তোমার সেনা অবশেষে নাঞি | ভাগ্যপুণ্য ফলে মোরে রাখিল গোসাঞি || সৈন্যের মরণে রাজা গণিল হতাশ | দ্বিজ রূপরাম গান অনাদ্যের দাস || পাত্র মহামদ থাকে গোউড় শহর | ময়না নগর লয়্যা শুনিব উত্তর || কানড়া পাগল বড় সতীনের শেকে | আপনি ভবানী তার জল দেন মুখে || সত্যবতী কানড়া আমার শুন বাণী | কলিঙ্গা বিহনে তুমি হৈলে পাটরাণী || কেবা বলে সংসারে সতিনী বড় শুভ | অঙ্গার ধুইয়া দুগ্ধে কভু নহে ধবো || সতীন বিহনে হবে সোহাগে আগল | তুমি সতীনের শোকে হয়্যাছ পাগল || কলিঙ্গার অগ্নিকার্য কর সমাধান | তের পিন্ড অপরঞ্চ সপিন্ডন দান || সপিন্ডন নাঞি দিলে বত্সর অশুচি | মাছি পোকা ডাঁশ যেন পুতিগন্ধ রুচি || বেদে বলে বচন বনিতা বামতনু | পার্বতী শঙ্কর দেখ স্বায়ম্ভুব মনু || অবিলম্বে সতীনের দেহ সপিন্ডন | তবে পূজা হাকন্ডে মানিব নিরঞ্জন || পশ্চিম উদয় হৈলে আদ্যপূজা হয় | একদন্ড ইহার বিলম্ব নাঞি সয় || এত শুনি উত্তর কানড়া রাণী কান্দে | সতীন মরিল শোকে বুক নাহি বান্ধে || কান্দিতে কান্দিতে যান কানড়া মহিষী | জলঝারি হাথে পাছু গোড়ায় ধুমসী || মাঝরণে কানড়া দিলেক দরশন | দেখিল কলিঙ্গা রাণী হয়্যাছে নিধন || চন্দমুখী কলিঙ্গা তুলিল হেমখাটে | অগ্নিকার্য সমাধিল কালিনীর ঘাটে || আদ্য পিন্ড সমাধিল আর সপিন্ডন | দুই চক্ষু হৈল তার আষাঢ় শ্রাবণ || কালিনী গঙ্গার জলে সমাধিল স্নান | কান্দিতে কান্দিতে তবে বাড়ীতে পয়ান || কলিঙ্গা বিহনে শূন্য সুবর্ণ মহল | কানড়া কুমারী শোকে হইল পাগল || ঘর বাড়ী শূন্য হৈল একজন বিনে | উদয় দিয়া ভূপতি আসিব কতদিনে || বিপাক পড়িল বড় না দেখি উপায় | দিদির পানের বাটা গড়াগড়ি যায় || চিত্রসেন কুঙর সদাই চাহে মা | কান্দে রাণী কানড়া কপালে হানে ঘা || ধুমসী কানড়া থাকে ময়না ভিতর | লাউসেন রাজা লয়্যা শুনিব উত্তর || তপস্যা করিতে তনু হৈল অবশেষ | তবু না পাইল রাজা ধর্মের উদ্দেশ || বারটি ভকিতা সঙ্গে সামুলা আমিনি | হাকন্ড নদীর ঘাটে পড়ে জয়ধ্বনি || ধূপ ধুনা পরিপাটি ঘোর অন্ধকার | পশ্চিম উদয় মাগে লাউসেন কুমার || ওহে ধর্মঠাকুর দিনের দিবাকর | বিনয় করিয়া মাগি পশ্চিমউদয় বর || এত বলি অর্ঘ্য দিল অনাদ্যের পায় | হাথে হৈতে অর্ঘ্য পড়্যা গড়াগড়ি যায় || হায় হায় করেন ময়নার তপোবন | মাসীর চরণ ধব়্যা জুড়িল রোদন || অন্য দিন অর্ঘ্য দিলে স্বর্গপানে যায় | আজি কেন অর্ঘ্য কেন ধরণী লোটায় || কি করিব কোথা যাব চিন্তা উঠে মনে | ময়না বারতা লাগি যাব কোন জনে || চারি পাঁচ করে মন কুমারের চাক | ময়না লইয়া কিবা পড়িল বিপাক || কলিঙ্গা কানড়া ঘরে অমলা বিমলা | চারি পাটরাণী যেন নব শশীকলা || কিবা জানি কলিঙ্গা অধর্মে দিল মন | সেই দোষে কি জানি বৈমুখ নিরঞ্জন || মাতাপিতা বন্দী আছেন গৌড় করাগারে | আম না দেখিয়া পারা মৈল অন্ধকারে || পিঞ্জর হইতে শুয়া বলে ডাক দিয়া | কি লাগিয়া কান্দ রাজা ব্যাকুল হইয়া || আমি খুড়া আমি জেঠা দোসর সারথি | আমি আন্যা দিব তোর কুশল সালাতি || ধর্মের আজ্ঞায় দ্বিজ রূপরাম গায় | পালাসনের বিলে যারে হৈলে বরদায় || . ****************** . জাগরণ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
