রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
পাত্র মহামদ বলে এই কোন্ কথা  |
তোমার হুকুম কাটে কার দুটো মাথা ||
কালিনী গঙ্গার ঘাটে রান্ধ্যা খাব ভাত |
সবেমাত্র কাটিব সেনের কলাপাত ||
কাঠ হাঁড়ি মাগ্যা নিব সভাকার ঘরে |
আপন হুকুমে লুট কার বাপে করে ||
এত বলি বিদায় রাজার বিদ্যমান |
মহাপাত্র আপনি বান্ধিল ফুলপান ||
সাজ সাজ শবদ দামাতে পড়ে ঘা |
নব লক্ষ সেনা যে তুলিয়া বান্ধে গা ||
দামামা দগড় বাজে বাজে রণতুর |
হস্তীর উপরে বাদ্য বাজে দুড়দুড় ||
কত ঠাঁই শিঙ্গা পড়ে কত ঠাঁই কাড়া |
কত ঠাঁই সাজন করিছে হাথি ঘোড়া  ||
গগন ছাইয়া গোলা পড়ে দামদুম |
ছমাসের মড়ার ভাঙ্গিল কালঘুম ||
বরঙ্গ পটহ শিঙ্গা সঘনে তেঘাই |
দশ মুখে সাজে সেনা সর্দার সিফাই ||
হাসন হুসন সাজে পায়ে দিয়া মোজা |
যাহার সংহতি সাজে বিশ হাজার খোজা ||
জিয় রে হাসন হুসন ঘোড়া লয়্যা যায় |
দেবতা অসুর নর দেখিয়া পালায় ||
ভুর্কুন্ডা পাঠান সাজে রায়টি মগল |
লোহা লয় মরিবারে হীরার বদল ||
কাল ধল রাঙ্গা টুপি সভাকার মাথে |
রামের ধনুক যেন শোভা করে হাথে ||
সকল বচনে তারা সঙরে খোদায় |
এক রুটি পাইলে শতেক মিঞা খায় ||
পশ্চিমদিগের সাজে খানসামা কাজি |
বত্রিশ হাজার সঙ্গে পর্ব্বতীয়া তাজী ||
বিশাশয় কামানে সাজিল বড় গোলা |
দামদুম শব্দ শুনি চঞ্চল চপলা ||
সেখজাদা সাজে কত সৈয়দ জাঙ্গড়া |
ভুরুটি টাঙ্গন চড়ে পর্বতীয়া ঘোড়া ||
বর্ধমানের কালিদাস সভাকার আগে |
প্রলয় সাজন বড় দেখি ভয় লাগে ||
পাখরিয়া ঘোড়া সঙ্গে পর্বতীয়া জাত |
লাফ দিয়া পড়ে ঘোড়া দশ বিশ হাত ||
মঙ্গলকোটের রাজা সাজে গজপতি |
ধলরাজা মল্লরাজা যাহার সঙ্গতি ||
ভালিকির সাজিল ভবানী মহাশয় |
পর্বতীয়া টাঙ্গনে যাহার অস্ত্র বয় ||
দশদিগে হাথি ঘোড়া পদাতি পাইক |
আচম্বিতে দেখা দিল অকাল কৌশিক ||
অঘোর দুন্দুভি বাদ্য পড়ে দাবাশিল |
দামামার শব্দ শুনি দুরদুর দিল ||
সাজিল রাজীব রায় প্রধান পড়্যায় |
যার সঙ্গে ঢালী পাকি বাহান্ন হাজার ||
আগরি সাজিল নাম দক্ষিণ হাজরা |
আশি কাহন ঢালী সাজে ঢালে বান্ধা হীরা ||
রামরায় সাজে সঙ্গে আঠার ভাগিনা |
সাজিল প্রবাল রায় বাড়ী চন্দ্রকোণা ||
কর্ণের সমান দাতা কৃষ্ণ পরায়ণ |
হাজার তুরগী সঙ্গে বিংশতি বারণ ||
তবে সাজে নরসিংহ মান্ধাতার নাতি |
নৈ হাজার ঘোড়া সঙ্গে বিশ হাজার হাতি ||
হস্তীর নিনাদ আর ঘোড়ার হ্রেষণি |
এহা বই গোউড়ে শবদ নাঞি শুনি ||
সংগ্রামে বাসুকি সাজে বর্ণবক শিরে |
বসিল হাতির পিঠে উভে খুরচিরে ||
সাজিল দক্ষিণ রায় গৌড়ের বেগার |
যার সঙ্গে ব্যালিশ কাহন তীরন্দার ||
ধিকি ধিকি মাদল ফুকরে করনাল |
জগঝঙ্প ডম্ফ বাজে জরপ রসাল ||
সদর সিফাই সাজে বাহাদুর খাঁ |
গৌড়ে ইনাম যার বিশাশয় গাঁ ||
দেশে দেশে সাজন করিছে দলবল |
ঘোড়ার রগড়ে মহী যায় রসাতল ||
বেণুরাজার খুড়া সাজে রাজ্যের ঠাকুর |
ষোল হাজার ঘোড়া সঙ্গে নালবান্ধা খুর ||
ভগীরথ সিংহ সাজে ভূপতির মামা |
যাহার লস্করে সাজে বিশাশয় দামা ||
দুরন্ত সিফাই সঙ্গে আরোহণ হয় |
পর্বত প্রমাণ হাথি সঙ্গে শয় শয় ||
সাকি রাকি সাজিল যমক দুই ভাই |
চড়িল তুরঙ্গপৃষ্ঠে পড়িল তেঘাই ||
বিপর্যয় বীরঢাক বিশাল বাজনা |
সত্বর সাজন করে নব লক্ষ সেনা ||
পেলিলে সরিসা মুঠা তল নাঞি যায় |
কত মহীপাল সাজে বলবন্ত রায় ||
ইন্দা মেট্যা সাজে আর ভাট গঙ্গাধর |
লম্ফ দিয়া উঠে কেহ ঘোড়ার উপর ||
বিনোদ ঘোষাল সাজে রাজ পুরোহিত |
দলে বলে দড়বড় সমর পন্ডিত ||
সভা আগে সিফাই সাজিল রামরায় |
পর্বতী টাঙ্গন তাজী আরোহণ তায় ||
দুরদুর বাজীর পায়ের দড়বড়ি |
নানা ধনে সাজন করিল উটগাড়ি ||
সাজিল সুরথসিংহ খালেজাদ ভায়্যা |
হাজার ধানুকী সঙ্গে পাগে রাম টায়্যা ||
সতন্তর সৈন্য সাজে মাঝি আর রাণা |
সাত ভাই সর্দার সভার কানে সোনা ||
যমের সমান সঙ্গে তিন হাজার ঢালী |
টেড়ি করি পাক বান্ধে রাঙ্গাঘটা বালি ||
বীরমল্ল কৈবর্ত সাজিল সবিশেষ |
এক রাতি হানা দিল তিন রাজার দেশ ||
সাজিল ধানুকী ঢালী ছত্রিশ বরণ |
আড়ঘরে চঞ্চল তরণি দেবগণ ||
কুশমেট্যা বাগদি সাজিল রণজিত |
দেখা দিল তিন কাহন ধানুকী সহিত ||
অসম সাহস গুরু অগেয়ানে লেই |
রণমদে মাতিলে আগুনে ঝাপ দেই ||
তবে সাজে গজসিংহ তেঁতুলি বাগদি |
আগু রণে হানা দেই নাই মানে বিধি ||
রণকালি ফুকরে সরণ বাজে ডেড়ি |
ধাওাধাই বিশাল বিক্রম রড়ারড়ি ||
কালিসিংহ সেনা সাজে প্রধান সর্দার |
রমতির ডোম সাজে ব্যালিশ হাজার ||
ঢালি পাকি সাজিল সর্দার লোহাগড়া |
সাজিল বাউড়ি ঢালী বর্ণ কাল কড়া ||
কত সাজে কান্ডরা কসাই হালালখোর |
ভেকধারী সাজিল বিস্তর জুয়াচোর ||
গগনে বহুত উড়ে পতাকা নিশান |
কত ঠাঁই বাদ্য বাজে চঞ্চল পরাণ ||
সাজন করিল যদি নব লক্ষ সেনা |
লস্কর ভিতরে সাজে ব্যালিশ বাজনা ||
কত শত সাজিল বেগারি বেলদার |
বেপারী সাজিল বহু ব্যালিশ বাজার ||
সঘন দুন্দুভি বাদ্য বাজিছে বিশাল |
ময়না করিল যাত্রা কত মহীপাল ||
বিদায় হইল পাত্র রাজার চরণ |
মাণিকরাজ হস্তীর উপরে আরোহণ ||
চারদিগে বারভূঞা হস্তীর পয়ান |
মহাপাত্র আপুনি ময়না রাজ্য যান ||
দশমুখে চলে সেনা সিফাই সর্দার |
কালুত্তক গোউড় শহর একাকার ||
ষোল কোশ জুড়িয়া পদ্ধতি চলে ঠাট |
ফরিকাল ধানুকী বলিছে হান কাট ||
গায়ে গায়ে ধানুকী বন্দুকী বিলক্ষণ |
এইরূপে সেনাগণ করিছে সাজন ||
বিপর্যয় শবদ অঘোর বাদ্য বাজে |
কুঞ্জরে সিফাই যেন চন্দ্রকলা সাজে ||
দেখাদেখি কর্জনা করিল পাছুয়ান |
একদিন মোকাম করিল বর্ধমান ||

.  ******************     

.                                                 
জাগরণ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . .  
.                                                                      
পাতার উপরে . . .   


মিলনসাগর
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকু পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা     
জাগরণ পালার আগের পৃষ্ঠায় . . .
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
জাগরণ পালা
পৃষ্ঠা                    ১০  ১১  ১২  ১৩  ১৪  ১৫  ১৬  ১৭  ১৮  ১৯  ২০