| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| পশ্চিম ডালিল ঘুড়ি বিনোদ ঘোষাল | ঘোড়া হৈতে ঐমনি পড়িল রূপশাল || খানসামা ঘোড়া ডালে দেখিয়া দক্ষিণ | দশ বিশ হাত খানা পায়ের অধীন || কামিনী কামান পেল্যা দেখে আড়ি-জুড়ি | রণসিংহ তরাসে পালায় গুঁড়ি গুঁড়ি || গজপতি ভঙ্গ দিল যেন খসে তারা | শরবনে লুকাইল শৃগালের পারা || মিঞা পাকি পালায় ফিরিয়া নাঞি চায় | ওতে-ঘাতে বসি বলে খোদায় খোদায় || শতদল কমলে ফুটিল যেন জবা | মগল পাঠান মিঞা বলে তোবা তোবা || রণে ভঙ্গ দিয়া ভাট বলে হরি হরি | ভিক্ষা মাগি অন্ন খাব কি কাজ চাকরি || মুরারি বাগদি কান্দে মাথায় দিয়া হাথ | গলায় বান্ধিয়া কাঁথা মাগ্যা খাব ভাত || লখ্যা ডুমনীর পাকে সর্বনাশ হৈল | খাঁড়া ঢাল সম্ভাবনা পথে পড়্যা রৈল || দশ বিশ জন কেহ নদী হয় পার | পাথারে পড়িয়া কেহ জুড়িল সাঁতার || ভঙ্গ দিল ভগীরথ রাম রাম বলে | কৈবর্ত পাইক ছিল লুকাইল জলে || দিগে দিগে পালাইল রাজার দলবল | পার কব়্যা দিলেক কালিনী গঙ্গাজল || মোকাম করিল সভে পদুমার বিলে | কত সৈন্য সমরে পড়িল নদীকুলে || পদুমার বিলে পড়ে পুনর্বার থানা | রাজার দোহাই দেই ঘর যাত্যে মানা || যেজন পালাব ঘর রণে ভঙ্গ দিয়া | জাতি কুল নিব তার রাজাকে বলিয়া || পুনর্বার মহাপাত্র করিল মোকাম | কেহ বলে রঙ্কিণী বাসুলি রাম রাম || যত সেনা একত্র হইল একুঠাঞি | নিধন হইল যত আদ্য অন্ত নাঞি || কেহ বলে চউকি চৌদিগ আস্যা দেখে | কেহবা তরাসে বলে ঐ আইল লখ্যে || চমচম তরাসে চৌদিগ পানে চায় | উতে-ঘাতে পাইক পো-গণে গাড় যায় || কার হাত কাটা গেছে কার গেছে পা | কেহ বলে বাপ বাপ কেহ বলে মা || কেহ কান্দে জেঠা কোথা কেহ বলে খুড়া | কেহ বলে ভাই ভাই কোথা গেল পারা || কেহ কার আসিয়া পায়ের ধূলা লেই | ভাই ভাই বলি কেহ কারে দেখা দেই || পালাইতে যুক্তি করে চারি পাঁচ সাত | বিদেশে বেগার খাটি ঘরে নাই ভাত || দেখিল জন্মিল সাধ যুবতী বালক | অর্ধেক মাহিনা কাটে কসুর পঞ্চক || কত ঠাঞি শিঙ্গা ডাক ঢোল কাড়া | সারি সারি চৌদিগে রহিল হাথি ঘোড়া || বারভূঞা মোকাম করিল উভদলে | আড়ঘরে ধরণী চঞ্চল হৈল জলে || উত্তরিল সিফাই খনক চরিপানে | কেহ জল পান করে ব্যাকুল পরাণে || মোকাম করিল পুন ময়না উপর | দ্বিজ রূপরাম গান অনাদ্যের বর || সমর জিনিঞা লখ্যা মারে মালসাট | বাইশ হাজার হাথি রণে গেল কাট || চল্লিশ হাজার ঘোড়া রণে গেল হানা | ধানুকী পড়িল রণে যার কানে সোনা || সিফাই পড়িল রণে কে করে অবধি | বহিল আঠার গন্ডা রুধিরের নদী || ফরিকাল ভাসে তথি কচ্ছপ আকার | যমধর ছুরি টাঙ্গি যম অবতার || নিধন কুঞ্জর তথি পড়ি গেল চর | আপনি সে আলাইল চিকুর চামর || টাঙ্গি শেল ভাসে তথি কুম্ভীরের প্রায় | সজীব হইল শর বানে ভাস্যা যায় || লেখা নাঞি বিস্তর পড়িল সেনাগণ || কুরু পান্ডবের রণে হইল যেমন | একেক শৃগালী রাখে দশ বিশ মড়া | কোলে করি বসিতে কুক্কুরে দেই তাড়া || শৃগালে কুক্কুরে দ্বন্দ্ব সারাদিন যায় | কার তরে কেবা রাখে কেবা লয়্যা যায় || জবাফুল দেখিয়া জম্বুকী গীত গান | শুকিনি গিধইি সুখে করে রক্তপান || চারিদন্ড ডুমনী দেখিল রণকলা | দক্ষিণ বাহির গড়ে দিল মুন্ডমালা || রণ জিন্যা চলিল সন্তোষ বড় মন | রণমুখী নিলেক রণের নিরিশন || ধনুকে বান্ধিয়া নিল মানুষের মুড় | বাম হাথে লইল দাঁতাল হাতির শূঁড় || পরম যতনে নিল সমরের ডালি | গড়ের ভিতরে লখ্যা বীরদাপ বলি || সরক্ত হেত্যার হাথে সাক্ষাত আগুনি | ডোমের সাক্ষাতে গিয়া উত্তরে ডুমনী || সসীম করিল কিছু হাথের হেত্যার | শিয়রে বসিল লখ্যা চক্ষে জলাধার || মবে করে কিবা আছে লল্লাট লিখন | আজি কেন এমন ঘুমায় প্রাণধন || নানা পরিবন্ধ করি স্বামীকে চিয়ান | গা তোল শাখার বাপ খাও গুয়া পান || সাজ কর সত্বর সমরে হানা দেও | লাউসেনের পরিণাম উদ্ধারিয়া লেও || বিপত্ত পড়িল বড় ময়না উপর | রণে চল প্রাণনাথ বান্ধিয়া কোমর || গৌড় হৈতে মহাপাত্র রাত্রি দিল হানা | তিন লক্ষ আপনি বধিল তার সেনা || একবার চল তুমি বান্ধিয়া হেত্যার | এহকালে পরকালে সত্যে হব পার || পার হৈল পাব গিয়া পতিতপবন | বর্তমান কর্ণ দাতা কুন্তীর নন্দন || কিবা ছিল কিবা হৈল পাইল কোন গতি | অবধানে সে সব শুন্যাছি অবধূতী || গা তোল গা তোল অহে শাখা সুখার বাপ | লখ্যের খাইয়া মাথা গায়ে বড় তাপ || সব গায়ে দিল চুয়া কস্তুরী চন্দন | দ্বিগুণ ডোমের বেটা ঘুমে দিল মন || চন্দনচর্চিত তনু চামরের বা | তথাপি ডোমের বেটা নাঞি নাড়ে গা || শীতল চন্দন তায় যুবতীর হাথ | বড় ঘুমে পাগল হইল নিশানাথ || একবার নাঞি দিল উলটিয়া পাশ | হেঁটমুখে ডোমের বেটী ছাড়িল নিঃশ্বাস || মনে করে চাপড়ে চিয়াব গুণমণি | তবে রক্ষা পায় রাজ্য ময়না ধরণী || চন্দ্র সূর্য তোমরা সভাই হয়্য সাক্ষী | চাপড় হানিব ডোমে দোষ নাহি লেখি || চাপড়ের ঘায়ে যদি হারায় পরাণ | আপনি বৈকুন্ঠনাথ রহিবে প্রমাণ || এত বলি আগু হৈল সামন্ত ঝকড় | কালুর উপরে হানে বজ্র চাপড় || চাপড় খাইয়া বীর কাঁপে থরথর | লখ্যা বলে প্রাণনাথ গেল যমঘর || বিরলে বনিতা দেখি বহ্নিসম জ্বলে | লাফ দিয়া ডোম ধরে ডুমনীর চুলে || চুলে ধব়্যা জট নাড়া দিল তিনবার | বলিতে লাগিল কিছু আগুনের ধার || মা বাপ বাড়াল্য মোরে দিয়া উপভোগ | আজি সে হলাঙ চেড়ী চাপড়ের যোগ || ধাউড় ডোমের মায়্যা জানে ধাউতাল | তের ছেল্যার মাএর এত খোঁপার ঢাল || কোথা গেল শাখা সুখা শুন মোর কথা | অবিলম্বে কাট লয়্যা ডুমনীর মাথা || কুন্তল ধরিয়া কালু চারিপানে চায় | সকাতর ডুমনী বলিছে তার পায় || . ****************** . জাগরণ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
