| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| যখন আইল মহাভারতের রণ | শতভাই সমরে সাজিল দুর্যোধন || চন্দ্রবংশ কুরুবংশ রঘুবংশ বল | তাকে চায়্যা যদুবংশ রণে বড় খল || ভীষ্ম মহাবীর ছিল সভাকার মূল | কেমনে সহিল তার ধনুকের হুল || চরণসরোজে রাখি চড়া দিল হুলে | তিন পালি সূতা লখ্যা চড়া মাজ্যা তুলে || চড়া মাজ্যা একবার দিলেক টঙ্কার | ময়না ভিতরে পড়ে ঘোর অন্ধকার || মণিবান্ধা বাছ্যা নিল তিন গোটা শর | বিজই করিতে লখ্যা বিন্ধিতে পাখর || আগু আগু ডোম যায় পশ্চাত ডুমনী | চলিতে চরণ যুগে বাজে রুণুধ্বনি || দরশন দিল গিয়া আখড়ার দল | দেখাইয়া দিল বীর জগদল পাখর || একশরে পাথর যদি হয়্যা যায় ফার | তবে সে তোমাকে দিব ময়নার ভার || রাজা আইলে পরাইব অষ্ট আভরণ | তুমি লখ্যা ডুমনী আমার প্রাণধন || এত শুনি ডুমনী বলিছে ডাক দিয়া | সত্য অনুভবে রবি কিসের লাগিয়া || ডেড়ি আছে পাথরখান সরি কর তুমি | তোমার সমুখে পাথর বিন্ধ্যা দিব আমি || যদিস্যাৎ বলে এত লখিয়া ডুমনী | দুহাথে পাথর কালু ধরিল অমনি || প্রাণপণে মহাবীর তুলিবারে চায় | সুমেরু পর্বত যেন নাড়া নাঞি যায় || গিরি গোহা গোবর্ধন কিবা হিমালয় | নারিল ডোমের বেটা মাগে পরাজয় || ডোমের নন্দিনী লখ্যা কিছু নাহি বলে | বাম হাথে পাথর তোলে ধনুকের হুলে || আজ্ঞা কর পাথরখান পেলাই গোউড়ে | হস্তিনানগরে কিবা রাবণের গড়ে || কহিতে বলিতে পাথর রাখে মহীতলে | পাটনে পাথর বিন্ধে বাঁহাতের বলে || মার মার বলিয়া ধনুকে জোড়ে শর | প্রজাপতি পবন কাঁপিল পুরন্দর || শর ছাড়ে ডুমনী ডাকিয়া বলে মার | একশরে পাথর হইয়া গেল ফার || রাম নারায়ণ হরি সঙরে গোবিন্দ | আনে বলে চোরে পারা কাট্যা গেল সিন্দ || তালি হয়্যা উঠে সর গগন উপরে | দক্ষিণে পড়িল গিয়া রাবণের ঘরে || লখ্যা ডুমনীর বল দেখিয়া তখন | হাথে হাথে ময়না করিল সমর্পণ || এবার পরাব লখ্যা অষ্ট অলঙ্কার | আজি সে তোমাকে লাগে ময়নার ভার || এত বলি ঢল্যা পড়ে উত্তর শিয়রে | শিরে হাত দিয়া লখ্যা হায় হায় করে || উত্তর শিয়রে নিদ্রা যেইজন যায় | ছমাসের পরমাই দন্ডেক হারায় || দক্ষিণ শিয়রে শিয়রে নিদ্রা যায় ভাগ্যবান | অভাগিয়া পশ্চিম শিয়রে নিদ্রা যান || পূর্ব শিয়রে বলে প্রসন্ন যামিনী | ফলোদয় অনেক পন্ডিত মুখে শুনি || উত্তর শিয়রে নিদ্রা যার প্রাণধন | কোথা পাব ঔষধ গুণিন মহাজন || আর কি করিব আমি আর কি করিব | কালিনী গঙ্গার জলে স্নান করাইব || কুমুদ শিশির জলে করাইব স্নান | তবে মোর প্রাণনাথ হব সাবধান || রূপার ডাবর নিল সুবর্ণ কলসি | জল আনিবারে যায় ডোমের রূপসী || কপাট ভাঙ্গিয়া হৈল গড়ের বাহির | পাথরের ঘাট পাইল কালিনীর তীর || কালিনী গঙ্গার জলে চারিপানে চায় | ঘোড়া হাথি লাদ কত জলে ভাস্যা যায় || পাটহাথি খালি যত পদ্মের মৃণাল | ডাঁটি পত্র ভাসে জলে ঘাসের মিশাল || ভাতকাঠি জলে ভাসে আর কালাহাঁড়ি | দুকুল আকুল দেখে উট আর গাড়ি || কাদাপারা জল দেখে মুড়াইছে মীন | হাথি ঘোড়া পাঁজ দেখে মনুষ্যের চিন || মনে করে ময়না বেঢ়িল কোনজন | ঘরে নেই লাউসেন রঞ্জার নন্দন || আগু নিব সমাচার পাছু নিব নীর | এমন সাহস ধরে কোথাকার বীর || রাজা হৈলে বারতা হইত অনাগত | আর কেবা এমন এদেশে বয় পথ || কনক বিজুরি দেখে মালতীর মৌ | পাত্র কেন আসিব যেখানে ভাগিনবৌ || এ দেশে লখ্যার নাম কেবা নাই জানে | মরণের ওষধি বান্ধিল কেবা কানে || কলসি রাখিল লখ্যা সামন্ত ঝকড় | কোন রাজা বেড়িয়াছে ময়নার গড় || হেঁটমুখে রহিল সরোজে মন মজে | লম্ফ দিয়া উঠে লখ্যা গড়ের বরুজে || গড়ের উপর গিয়া চারিপানে চায় | নব লক্ষ সেনা তারে দেখিবারে পায় || ডাক দিয়া বলে আমি লখিয়া ডুমনী | কোন্ রাজা বেড়িয়াছে ময়না অবনী || বাদ নাঞি বিবাদ বিষম বলাবল | তবে কেবা পার হৈল কালিনীর জল || পরিচয় দেহ আগে কোথাকার রাজা | যুগে যুগে কেবা কার লয় করে পূজা || পরিচয় না দেহ আমার বরাবর | সেই বেটা হয় তবে গাধার জায়র || পাছু ছিল মহাপাত্র হৈল আগুয়ান | লখ্যাকে ইনাম দিল দশ বিড়া পান || পঞ্চাশ মোহর দিল লখ্যার আঁচলে | বারণে বসিয়া পাত্র ডাক দিয়া বলে || পরিচয় দিল আমি পাত্র মহামদ | অতঃপর ঘুচিল তোমার দুরাপদ || বীর কালু রাজা হৈল তুমি হৈলে রাণী | চেটা বেচ্যা ভাত খাও লোকমুখে শুনি || বারদন্ড পশ্চিম উদয় নাঞি হৈল | নবখন্ড হয়্যা বনে লাউসেন মরিল || কালুকে ডাকিয়া আন রাজটীকা দিব | জ্ঞাতি বলি পরিণাম উদ্ধারিয়া নিব || দলে বলে দেখা আমি না দিনু দিবসে | ময়নার প্রজা পাচে পালায় তরাসে || মাতাপিতা মৈল তার গৌড়-কারাগারে | তার পাকে রাজ্যভার রাজা দিল তোরে || সবে এক কথা বলি তোর বিদ্যমানে | চারি ভাগিনবৌ দিব মগল পাঠানে || রিপু শেষ না রাখিব চিত্রসেন নাতি | নিধন করিব তারে চাঠাইয়া হাথি || এত শুনি লখ্যা হৈল জ্বলন্ত আগুন | বলিতে লাগিল কিছু বাক্য নিদারুণ || মাথার উপরে যেবা আন মাথা ধরে | ময়না ভিতরে সেই রাজা হৈতে পারে || জাতিবৃত্তি ভূষণ নগরে বেচি চেটা | মার্জারের গলে নাকি শোভা করে ঘাঁটা || আমি রাজা আমি প্রজা আমি অধিপতি | মোর হাথে সঁপি দিল এ চারি রাউতি || ময়না লঙ্ঘিতে পারে কার এত বল | একদন্ডে এখনি হানিব উভদল || হানিব সিফাই ঘটা যেন পদ্মকুঁড়ি | হাথি সব হানিব পাখর সব ঘুড়ি || নতুবা নিশ্চয় দিব অভয় দক্ষিণা | নিজ দেশে ফিব়্যা যাহ নব লক্ষ সেনা || যত দেখি হাথি ঘোড়া চরণের তল | সংহার সমরসিংহ ভেটের ছাগল || পতিপুত্র থাকিতে আপনি দিব হানা | পার হয়্যা কালিনী ময়নায় নিলে থানা || . ****************** . জাগরণ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
