রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
এবার ময়না রাজ্য রাখিবে আপনি |
এবার ডোমের নাম জাগাবে ডুমনী ||
পুনর্বার হেত্যার বান্ধিয়া চল রণে |
বসিলে উঠিতে নারি না দেখি লোচনে ||
একা ছিলে দোসর সতীন লহ সাথে |
পুনর্বার সাজন করহ রণপথে ||
সনকা সতীন তোর ধনুর্ধর বড় |
ঘোড়া হাথি সমরে কাটিব দড়দড় ||
যদিবা সনকা তোর না হয় সহায় |
বড় বেটা শাখা যেন রণে সাজ্যা যায় ||
এত বলি উত্তর শিয়রে নিদ্রা যায় |
আলিসে আল্যায় তনু চক্ষে নাঞি চায় ||
কপাল হইলে মন্দ পায়ে পায়ে ডেড়ি |
কান্দিয়া চলিল লখ্যা সতীনের বাড়ী ||
কি কর কি কর ঘরে সনকা সতিনী |
বিধাতা গড়িল আজি বত্সর যামিনী ||
যে ঘরে সতীন বৈসে সেথা উপনীতা |
রাম হেন গুণনিধি হারাইল সীতা ||
পাঠাইয়া দিল বীর মাথার ছত্তর |
আজি হৈতে হৈল বনি দুজনার ঘর ||
দলে বলে মহামদ গৌড়ের নাবড় |
রাত্রি হানা দিল আসি ময়নার গড় ||
আমার বচন বনি শুন মন দিয়া |
দুই জনা চল যাই হেত্যার বান্ধিয়া ||
জ্বলন্ত আগুনে যেন ঢাল্যা দিল ঘি |
সনকা বলেন কিছু সদাডোমের ঝি ||
বচন বলিতে খসে জ্বলন্ত আগুন |
খাইয়া লাজের মাথা হেথা আলি কেনি ||
ভাতারের ধন খায়্যা পাটাপারা বুক |
কোন লাজে আলি মাগী আমার সমুখ ||
গাগা গুয়া খাইলে যবে গুছিলেখা পান |
বনি বলি নাঞি দিলে চিব়্যা অর্ধখান ||
কুলা পাতি ধুচনি গড়িতে গেল হাত |
একদিন নাঞি দিলে পেট পুব়্যা ভাত ||
সখিসাধে ডোম কভু না বসিল কাছে |
সেই হৈতে মনের পুড়নি যত আছে ||
যদি মরে প্রাণনাথের সমাচার পাই |
মাছ পোড়াইয়া তবে পান্ত ভাত খাই ||
তোর দাঁতে পানবোল কানে মদনকড়ি |
আমি যাব তোর সঙ্গে বটি পারা চেড়ী ||
বিপত্তের কালে ধনী দিতে চায় ভাগ |
কার্যসিদ্ধ হৈলে কেবা পায় কার লাগ ||
তুমি নাম ধর লখ্যা সামন্ত ঝকড় |
মায়ে পোএ যুঝ্যা রাখ ময়নার গড় ||
বচন বলিতে মাগী বলে নাঞি টুটা |
সতীনের বচন বাজিল শেলকাঁটা ||
নয়ন যুগলে বহে ধারা অবিশ্রাম |
কান্দিয়া চলিল লখ্যা বড় পোয়ের ধাম ||
শাখা শাখা বলিয়া কপাটে দিল ঘা |
এত রাত্রে ডাকে তোর খোলাডাই মা ||
নিঃসরিয়া আইস বাপু নিশি অবশেষ |
হেত্যার ধরিয়া রাখ আপনার দেশ ||
কোলেতে সজাগ ছিল মউরা ডুমনী |
গা তোল কুলের চাঁদ ডাকেন গৃহিণী ||
কপাট ভাঙ্গিয়া শাখা বাহির হইল |
গলায় বসন দিয়া চরণে পড়িল ||
কেন গো জননী তুমি এত রাত্রে আইলে |
কার সনে বিসম্বাদ পরাভব পাইলে ||
ধর্মের আজ্ঞায় ধর্মের দাসে গায় |
পলাসনের বিলে যারে হৈলে বরদায় ||


লখ্যা বলে শুন বাপু সমাচার বাণী |
রণে চল সত্বর করিতে হানাহানি ||
নব লক্ষ সৈন্য সঙ্গে পাত্র মহামদ |
চারিদিগে ময়না বেড়িল নিশবদ ||
সবা আগে এক রণ দিয়াছি আপনি |
তিন লক্ষ সেনা তার কাটিল এখনি ||
মোকাম করিল পুন পদুমার বিলে |
বারভূঞা সংহতি আস্যাছে উভদলে ||
তোর বাপ আজ্ঞা দিল করিতে সমর |
রণ জিনি দিবে আজি শাখাই সুন্দর ||
এত বলি তোর পিতা রণে দিল মন |
শাখাই সুন্দর বলে মলিন বদন ||
বসিলে উঠিতে নারি মাথা ঘুব়্যা পড়ে |
নয়ন যুগলে মোর নিদ্রা নাহি ছাড়ে ||
খাত্যে শুত্যে দিন চারি মনস্তাপ পাই |
সপনে দক্ষিণ মুখে গাধা চাপ্যা যাই ||
কমল কলিকা কেন বাম আঁখি নাচে |
এত রাত্রি কালপেঁচা ডাকে কাছে কাছে ||
মাথাব্যথা গায়ে জ্বর বিমরিষ মন |
রণে যাত্যেনারি আজ প্রাণ বড় ধন ||
লখ্যা বলে ওরে বেটা হয়্যা না মরিলি |
হেন ছার কথা মুখে কেমনে আনিলি ||
এতকাল পালন করিল ভোখে পোষে |
কৌশল্যানন্দন রাম সর্বলোকে ঘোষে ||
বনবাস গেল রাম পিতার বচনে |
অদ্যাবধি এই কথা লেখে রামায়ণে ||
তুমি বল হেত্যার ধরিতে আমি নারি |
গুরুর বচন কাট এই তাপে মরি ||
হেনই সময়ে বল গায়ে আইল জ্বর |
দূর হ গোলাম বেটা গাধার জায়র ||
মায়ের বচন শুনি মনে বাজে রিষ |
শাখা বলে মরমে বাজিল কালবিষ ||
যায় যাকু জীবন জগতে রহু যশ |
যত কিছু দেখি শুনি সভে দিন দশ ||
আজি কালি মরি তবে এক লক্ষ্য বই |
জন্মিলে মরণ আছে এড়াবার নই ||
তবে কেন সহি আর পিতার বচন |
তড়বড়ি ডোমের বেটা করিছে সাজন ||
পাঁচ বেড়া পাগ বান্ধে নাম যার কসি |
হীরা নীল জড়িত মিশাল রবি শশী ||
সলম্বিত রাখে তোড়া দক্ষিণ টালনি |
দুযাম তরণি তায় উদয় আপনি ||
পাগবান্ধা ফুরাইল পরে পাটমল |
দুহাতে কোমর কসি হৈতে চায় বল ||
হাতে নিল বাজুবন্দ গলায় মাদুলি |
দড় বান্ধে কোমর তাম্বের কলকলি ||
গায়ে দিল কবচ উপরে কাল রাঙ্গি |
পাছু পাছু দুদিগ বান্ধিল রণটাঙ্গি ||
দড় বান্ধে কোমর সোনার দিয়া কড়া |
তিন হাত মাণিত নাম্বিল তিন ছড়া ||
হেত্যার যোগায় হাথে মউরা যুবতী |
একাএকি গলে বান্ধে আতর আরতি ||
দুধারে তবল বান্ধে ছুরি যমধর |
বান্ধিল যুগল অসি অতি মনোহর ||
সাঙ্গ শেল শিখর সরণি চন্দ্রবাণ |
সমরে সাজিল শাখা যমের সমান ||
আঠার হাজার শরে বান্ধিল তরকচ |
সাজিল ডোমের বেটা রণে বড় সচ ||
রাঙ্গা থোপ দুদিকে সোনার লেখা তায় |
সরস সুরঙ্গ ঝাঁপা লহরী খেলায় ||
দারুণ মহিষা ঢালে ছাইল আকার |
ধনুক ধরিতে শাখা বলে মার মার ||
সাজন করিল ডোম কবচ কেশরী |
তার মুখে দিল পান মউরা সুন্দরী ||
বদনে বসনে দিয়া বলে সবিশেষ |
শুনহ পরাণনাথ মোর উপদেশ ||
সমর সমুখে কভু না হবে বিমুখ |
রণ যুঝ্যা মরিলে গোলোকে পাবে সুখ ||
আমি বলি অনেক দিবস তুমি জিয় |
রাবণের পারা রণে বঙ্গে নাঞি দিয় ||
সুধম্বা সুরথ দুই রাজার নন্দন |
সুধন্বা সাধিল রণে প্রতিজ্ঞা বচন ||

.  ******************     

.                                                 
জাগরণ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . .  
.                                                                      
পাতার উপরে . . .   


মিলনসাগর
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকু পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা     
জাগরণ পালার আগের পৃষ্ঠায় . . .
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
জাগরণ পালা
পৃষ্ঠা                    ১০  ১১  ১২  ১৩  ১৪  ১৫  ১৬  ১৭  ১৮  ১৯  ২০