| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
ফরিকাল ধানুকী বন্দুকী শয় শয় | বেলদার নফর দক্ষিণ দিগে রয় || উভদলে উত্তরিল গৌড়ের পাতর | গোলার নিস্বনে মহী কাঁপে দিগন্তর || বাহান্ন বাজার পড়ে বিশাশয় হাট | সঙ্গে ছিল রামজনি উসারিল নাট || বারভূঞা সঙ্গে করি বৈসে দরবার | কেমন মহিম ফতে হইব এবার || বারভূঞাগণ শুন নব লক্ষ সেনা | অবিলম্বে দূর কর লস্কর বাজনা || নিচুপ সভাই থাক পদুমার বিলে | নিশিযোগে হানা দিব সূর্য অস্ত গেলে || ময়না ভিতরে আছে কালুসিংহ বল | অকস্মাৎ দেখিলে হানিব দলবল || তাকে চায়্যা বড় আছে লখিয়া ডুমনী | হাথি ঘোড়া দেখিলে করিব খানি খানি || শাখা সুখা দুই বীর মহীমেঘনাদ | সমরে পশিলে কার জীবনের সাধ || তের দলুই আছে যেন এ কালযবন | দিনে দেখা নাই দিব ময়না ভুবন || কাড়াদার বেটা যদি বাজায় নিশান | লস্কর ভিতরে তার কাটি নাক কান || শিঙ্গাদার বেটা যদি শিঙ্গায় দেই ফুক | আগুন জ্বালিয়া তার পোড়াইব মুখ || তাজনি করিয়া বলে লস্কর ভিতর | মনুষ্যের দায় থাকু ঘোড়ার নিঃস্বর || পাত্র বলে শুন ভাই ভাট গঙ্গাধর | আপনি সত্বর চল কালুর নিয়ড় || তোমা বই সংসারে কল্পনা কেবা জানে | ধন দিয়া বলিবে কালুর বিদ্যমানে || আসর সহিত ধর্ম হবে বরদায় | শ্রীধর্মমঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গায় || থানা দিল উভদলে পাত্র মহামদ বলে শুন ভাই ভাট গঙ্গাধর | কি দিব বিস্তর লেখা তুমি সর্বকাল সখা শীঘ্র যাহ কালুর নিয়ড় || পশ্চিমউদয় না হইল নব খন্ড হয়্যা মৈল [লাউসেন ] রঞ্জার নন্দন | মৈল তার পিতামাতা বলিবে এ সব কথা রাজা তুমি ময়না ভুবন || অমূল্য রতন নিবে ডুমনীর তরে দিবে ডোমসঙ্গে করিবে পিরিত | কাজে নিমন্ত্রণ দিব জ্ঞাতি বলি বসাইব আর দিব কুল পুরোহিত || লখ্যাকে বলিবে বাণী ভাগিনার ছোট রাণী দাসী দিব চরণকমলে | অপরঞ্চ শঙ্খ সোনা কালধৌত নাকচনা পাটশাড়ি অরুণ বিমলে || শাখা সুখা সঙ্গে নিব গৌউড়ে পদবী দিব বলাব ময়নার দুবরাজ | পরাইব টাড় বালা কস্তুরী কাঞ্চনমালা দেবতাসমান দিব সাজ || পরের চাকরি করে তবু অন্ন নাঞি ঘরে বলিবে এ সব বিবরণ | তুমি বন্ধু সখা ভাই সম্পদ বিপদে পাই বল দশ কড়্যা লহ ধন || বলিবে কালুর কাছে কলিঙ্গা রাউতি আছে দাসী দিব হাসন হুসনে | এ দুঃখ হইলে দূর পরাইব কর্ণপুর পরিণাম করিব সঙরণে || পাত্রের শুনিয়া বাণী ভাট বলে জোড়পাণি সবিনয় সমুখে বিশেষ | ধর্মের আদেশ পান দ্বিজ রূপরাম গান পলাসনে যারে প্রত্যাদেশ || ভাট বলে যাত্যে নারি দক্ষিণ ময়না | ক্ষেম ক্ষিতি কাজ নাঞি না চাহি মাহিনা || বীর কালু দেখিলে করিব অপমান | লখ্যা ডুমনী দেখিলে কাটিব নাক কান || ভাট যদি বলিল এ সব বিবরণ | কোপে কম্পমান পাত্র বলিছে বচন || সদর মাহিনা সভে ঘরে বস্যা খাও | রাজার মহিম হৈলে ফিব়্যা নাঞি চাও || মাহিনা লইতে সভে হরিষ বদন | কোন ছার মহিম শুনিতে ভয় মন || এত বলি দরবার ভিতরে রাখে পান | সবিনয় বচন সভার সন্নিধান || যে জন আনিব কালু ডোমের বারতা | ইনাম করিব তারে ময়নার ছাতা || ইনাম করিব ভাগিনার ছোটরাণী | খসাইয়া জামা জোড়া পরুক এখনি || এত বলি পান রাখে দরবার ভিতরে | ময়না যাইতে সভে হেঁট মাথা করে || অন্ধকার যামিনী প্রথম যামে ঘোর | পাত্রের দরবারে পান উঠাইল চোর || নিন্দা মেট্যা বলে যাব দক্ষিণ ময়না | চারি দন্ড এখনি বিলম্ব কর হানা || ময়না উপরে আমি বঞ্চিব নিন্দাটি | কি করিতে পারে লখ্যা ডোমনার বেটী || যমধর আনিব কালুর নিদর্শন | চৌবেড়ে বেড়িবে তবে ময়না ভুবন || এত বলি লইল পাত্রের ফুলপান | ময়না দেখিতে চোর নিন্দামেট্যা যান || মাথায় বান্ধিল চোর অপূর্ব বসন | কালিনী গঙ্গার ঘাটে দিল দরশন || ইন্দ্রজাল চোর বলে আর যাব কোথা | এখানে পূজিব কালী ইষ্ট দেবতা || কালিকা পূজিয়া আমি মাগ্যা নিব বর | তবে ত যাইতে পারি ময়না নগর || এত বলি আরম্ভিল ঈশ্বরীর পূজা | পরিপাটি পবিত্র আনিল পাঁচ ভাজা || কস্তুরী চন্দনে পূর্ণ কাঞ্চনের বাটি | শতদল কমল কুমুদ পরিপাটি || নানা উপহার আনে নানা আয়োজন | মুক্তাহার আতব তন্ডুল বিলক্ষণ || পাঁচকলা শর্করা সন্দেশ খন্ড চিনি | ইন্দ্রজাল দেবীপূজা করেন আপনি || কাল ধল ছাগল দিলেক বলিদান | মহাবিদ্যা জপ করে হয়্যা সাবধান || মন্ত্রের অধীন বটে সকল দেবতা | সঙরণে কালিকা হইলা উপনীতা || কাজল বরণ কালী গলে মুন্ডমালা | দুহাথে খর্পর ধরি বদন বিশালা || পরিপাটি শবের উপরে দুই পা | নিকটে শিবার শুনি বিপরীত রা || মানুষ্যের ফুল কানে চঞ্চল নয়না | জবাজুতি টসটস দীঘল রসনা || কালিকা বলেন বাছা মাগ্যা লহ বর | তোমা হেতু পরিত্যাগ কৈলাস ভূধর || যে বর মাগিবে চোর সেই বর দিব | মনের বাসনা তোর সফল করিব || বর মাগ সত্বর বিলম্ব নাঞি সয় | কান্দিয়া কান্দিয়া তবে ইন্দ্রজাল কয় || এই বর মাগি তব চরণকমল | ময়না দেখিতে যাব হবে পক্ষাবল || নিন্দাটি পেলিব রাজ্য ময়না ভুবনে | এই বর মাগি মাতা অভয় চরণে || পাষাণের রেখ মহামায়ের ভারতী | বচন বলিতে বর দিলা হৈমবতী || বর দিয়া হৈমবতী হৈলা অন্তর্ধান | ধর্মের মঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গান || পোড়ামাটি সিন্দকাঠি যতনে লইয়া | ময়নার ঈশান কোণে উত্তরিল গিয়া || বামহাথে নিল চোর ইন্দুরের মাটি | তিনবার পরশ করিল সিন্দকাঠি || . ****************** . জাগরণ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
