| রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য |
| রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি |
| নহিলে যেরূপ হৈলে পার্জাতহরণে | সেইরূপ দেখিব ঠাকুর নিরঞ্জনে || এতেক বিনয় শুনি বাট্বার বচন | আচম্বিতে চতুর্ভূজ মূরতি তখন || আজানুলম্বিত মাল্য দুর্বাদলশ্যাম | চরণে পড়িয়া কান্দে কোটি মণিরাম || বিমুখ আছিল বাট্বা সমুখ হইল | চতুর্ভূজ রূপ দেখি কান্দিতে লাগিল || লোটাইয়া স্তব করে ব্রহ্মার মোহন | বিষম তোমার মায়া জানে কোনজন || বালক বাছুর চুরি হৈল মধুবনে | একা রূপ অনন্ত আপনি নারায়ণে || আপনি বালক হৈলে আপনি বাছুর | শিঙ্গা নড়ি বেত বাড়ি চরণে নূপুর || বিধি অগোচর মায়া আমি কোন ছার | দয়ার ঠাকুর তুমি দিনের করতার || বিষম ধর্মের মায়া কহনে না যায় | অনাদ্যমঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গায় || ঠাকুর বলেন বাট্বা মাগ্যা নহ বর | পশ্চিম উদয় দিব হাকন্ড শিখর || এত যদি বলিল ঠাকুর নিরঞ্জন | কন্দিতে কান্দিতে বাট্বা করে নিবেদন || তবে যদি বর দিবে হয়্যা অনুকুল | সংসারে করিয়া রাখ তুলসীর ফুল || এত শুনি ঠাকুর করেন হেঁটমাথা | কুক্কুর হইতে চায় তুলসীর পাতা || তুলসী হইতে যদি আমি বর দিব | দান যজ্ঞ তপস্যা সকল নিবারিব || এবর ছাড়িয়া বাট্বা অন্য় বর মাগ | তুলসীর মহিমা মুকতি মহাভাগ || রামনাম ভারথ তুলসী গঙ্গাজল | সভাকার মহিমা সমান লিখে ফল || যাহার বাড়ীতে থাকে তুলসীর গাছ | সাক্ষাত বৈকুন্ঠপুরী হয় তার নাছ || কদাচিত খসে যদি তুলসীর পাত | বিধি বিষ্ণু শঙ্কর আপনি পাতে হাত || যত আছে বৈকুন্ঠভুবনে দেবগণ | তুলসীর তলায় সভার দরশন || যবে দান দিলে কৃষ্ণে সাগরনন্দিনী | কৃষ্ণ লয়্যা চলিল নারদ মহামুনি || কান্দেন জলধি কৃষ্ণে দিয়া সুতাদান | তবে কিছু বলেন নারদ বিদ্যমান || কৃষ্ণের সমান ধন লহ মহাশয় | কৃষ্ণকে জুখিতে ধন আনে সমুদয় || সুমেরু পর্বত পারা আনে রূপা সোনা | কোন ধন না হইল কৃষ্ণের তুলনা || আনিল অব্যয় ধন যার নাঞি মূল | কোন ধন না হইল কৃষ্ণ সমতুল || সব রাখি দিল এক তুলসীর পাত | তার সম পরিমাণ হৈল জগন্নাথ || কপট তেজহ বাট্বা তোরে দিব বর | অধিকার দিব তোরে ইন্দ্রের উপর || বাট্বা বলে ফুল হৈতে মনে সাধ রাখি| দেবতার মাথায় বসিয়া যেন থাকি || মল্লিকা বকুল হৈতে মনে সাধ আছে | এই বর মাগি রাঙ্গা চরণের কাছে || নহে চাঁপা ফুল কব়্যা রাখ নিরঞ্জন | এই বর দেহ মোরে কমললোচন || পদ্মফুল কুমুদ করিয়া রাখ জলে | এই বর মাগি প্রভু চরণকমলে || চল চল বাট্বা রে তোমারে দিল বর | আকন্দ হইয়া থাক হাকন্ড ভিতর || অমর হইয়া বৃক্ষ থাক নদীতীরে | পথ ছাড়ি দেহ বাট্বা বর দিল তোরে || বাট্বা বলে ঠাকুর প্রত্যয় নাঞি মনে | আপন আকৃতি ফুল দেখিব নয়নে || এত যদি বলে শান অনাদ্যের পায় | উভ লেজ করি বাট্বা অতি বেগে ধায় || আপন আকৃতি শান দেখিল তখন | মনে কর সত্য বটে দেব নিরঞ্জন || বর দিয়া ধর্মরাজ করিল গমন | সেনের সাক্ষাতে গিয়া দিল দরশন || সিন্দুর বরণ রজঃ পথ বাহি যায় | তাহা দেখি ঠাকুর করেন হায় হায় || দেবতা অসুর কেহ সাধিতে না পারে | হেন কর্ম সাধ্য করে মনুষ্য শরীরে || অবশেষ অস্থি বাছ্যা নিল নিরঞ্জন | হাকন্ড নদীর জলে কৈল প্রক্ষালন || কুশজল জড় করি উচ্চারিল মনু | দেখিতে দেখিতে প্রাণ পাইল সর্বতনু || গায়ের বিমল আভা ধরিল উজান | দেহমধ্যে আত্মা বৈসে যার যেখা স্থান || মব়্যাছিল লাউসেন উঠিয়া বসিল | ঘুমের আলিসে যেন তথা শুয়্যাছিল || প্রাণ পাল্য লাউসেন ময়নার দুবরাজ | শূন্যভরে লুকাইল ঠাকুর ধর্মরাজ || চারিপানে চাঁয়্যা বলে রঞ্জার নন্দন | মব়্যাছিলুঁ কেবা দিল হাকন্ডে জীবন || যেইজন দিল প্রাণ সেই দিকু বর | নহে পুনরপি হত্যা তাহার উপর || হত্যা দিতে লাউসেন হাথে নিল খুর | ডানি হাথে ধরে তবে দয়ার ঠাকুর || বর মাগ লাউসেন আমি নিরঞ্জন | অনাথের নাথ আমি দুঃখীর জীবন || যেইরুপে পূজা নিল শনিবার দিনে | সেইরূপ ধরিল সেনের বিদ্যমানে || পূর্ণ অবতার যেন পৌর্ণমাসী রাতি | সেইরূপ হইল ধর্মের অঙ্গজুতি || স্তব করে লাউসেন ময়নার রাজন | বর মাগ লাউসেন বলে নিরঞ্জন || লাউসেন বলে গোসাঞি শুন মন দিয়া | ভকিতা প্রাণের ভাই দিবে জিয়াইয়া || তবে বর মাগি লব চরণকমল | এতেক শুনিল ধর্ম ভকতবত্সল || কুশজল দিল প্রভু সভাকর গায় | ঢাকে কাঠি দিলেক বাইতি হরিহর || জয়ধ্বনি শঙ্খধ্বনি হাকন্ড ভিতর | দেবতার সভা বৈসে হাকন্ড ভুবন || বার দন্ড পশিচমউদয় এহার কারণ | অতঃপর ঠাকুর বলেন মায়াছলে || বর মাগ লাউসেন চরণকমলে | যে বর মাগিবে তুমি সেই বর দিব || মনের বাসনা তোর সফল করিব | এত শুনি লাউসেন বলে জোড়কর || বার দন্ড পশ্চিমউদয় দিবে মায়াধর | ঠাকুর বলেন তোরে এই বর দিল || দেবতার সভা পুন হাকন্ডে বসিল | বরুণ বিধাতা শিব সহস্রলোচন | পরিপূর্ণ সভা হৈল হাকন্ড ভূবন || কলরব বাড়িল হাকন্ড নদীকূলে | কতক্ষণে পশ্চিমউদয় কেহ বলে || নিগম কানন মাঝে যোগী জপ করে | সাধ করে পশ্চিম উদয় দেখিবারে || অসুর দেবতা জড় হৈল একুঠাঞি | বর্ণভেদ কখন ধর্মের ঘরে নাই || কেহ জলে জপ করে তামা তিল কুশ | কেহ বলে উদ্ধারিব শতেক পুরুষ || কানাকানি যুক্তি করে দেবতা সকল | কতক্ষণে পশ্চিমউদয় হাকন্ড অচল || দেবতা সভায় কিছু বলেন গোসাঞি | সকল দেবতা দেখি সূর্য কেন নাঞি || এত শুনি বিধাতা বলেন জোড়হাথে | নিবেদন করি গোসাঞি তোমার সাক্ষাতে || পাতাল ভুবনে সূর্য আছে লুকাইয়া | পশ্চিমউদয় দিতে হব এহার লাগিয়া || . ****************** . জাগরণ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . . . পাতার উপরে . . . মিলনসাগর |
