রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
শ্রীমতী কলিঙ্গা তোরে আমার আশিস |
ভালমন্দ নাহি জানি ঘরের বিশেষ ||
প্রজার পালন কব়্য পুত্রের সমান |
ঘরে ঘরে থাকে যেন জৈমুনি পুরাণ ||
গৌড় কারাগারে লবে মাএর তবাস |
দেশে যেন উদাসীন না পড়ে উপাস ||
তিন সন্ধ্যা আপনে ঘোড়ার তত্ত্ব লবে |
সময় বুঝিয়া নিত্য দানা পানি দিবে ||
এথাকার বারতা লিখিব কত আর |
পশ্চিমউদয় না দেন ঠাকুর করতার ||
তপস্যা করিতে তনু হৈল অবশেষ |
তথাপি না পাই কিছু ধর্মের উদ্দেশ ||
অপরঞ্চ বারতা বিশেষ বিবরণ |
বনি বলি কানড়ারে করিবে পালন ||
গড়াইয়া গলায় পরাবে গরুড়মণি |
দশ লক্ষ টাকা দেহ কানড়া নিছনি ||
কালুকে ইনাম দিহ কস্তুরী চন্দন |
লখ্যারে পরিতে দিহ অপূর্ব বসন ||
জৈমুনি ভীন্ডারে ধন চিন্তামণি দেখ্য |
একে একে ঘরের বারতা সব লিখ্য ||
তের দিন মাসের তারিখ দিল তায় |
আপনি বান্ধিল পাতি পক্ষের গলায় ||
দুই পক্ষ লাউসেন ধরিল দুই হাথে |
উড়াইয়া দিল পক্ষ গগনের পথে ||
তালি হয়্যা শারী শুয়া উঠিল আকাশে |
উড়া শব রাম গুণে তাহার তরাসে ||
যেই পথে তরণি করএ আনাগোনা |
সেই পথ দিয়া ধায় দক্ষিণ ময়না ||
পাকা রস খাজুর পাকিয়া কত পথে |
সাধ কব়্যা পক্ষ নাঞি তুল্যা লয় বেতে ||
উল্কাপাত যেমন গগন ধরে জুতি |
ধায়্যাছে দক্ষিণ মুখে পাবক মূরতি ||
সন্ধ্যাকালে অকালে যেমন খসে তারা |
তারে ছাড়্যা পক্ষ উড়ে বিজলির পারা ||
বেগে ধায় শারী শুয়া সাক্ষাত অনিল |
চারি দন্ডে হৈল গিয়া ময়না দাখিল ||
স্বর্ণপুরী ময়না হয়্যাছে ছারখার |
চিনিতে না পারে পক্ষ করে হাহাকার ||
দুই পক্ষ অনুমানে অম্বর-আরশে |
দিশাহারা হয়্যা পারা আইল কোন দেশে ||
শুয়া বলে লঙ্কাপারা সমুদ্রের জল |
শারী বলে আইল কিবা পাটন সিংহল ||
শারী শুয়া অম্বরে উড়িছে সাবধান |
অবশেষে ঘর বাড়ী চিনিল নিদান ||
ডালিম্বের তরু রহে মন্দিরের নাছে |
দিশা করি দুই পক্ষ বৈসে সেই গাছে ||
কলিঙ্গা জননী বলি ডাকে ঘনে ঘন |
হাকন্ড হইতে আমি আন্যাছি লিখন ||
হাকন্ড হইতে আমি আন্যাছি বারতা |
দ্বিপ্রহর নিশি ডাকে নাঞি মনকথা ||
এত শুনি মনে করে কানড়া মহিষী |
নাম ধব়্যা কেবা ডাকে দ্বিপ্রহর নিশি ||
নিঃসরিল সুন্দরী কপালে হানে ঘা |
চিত্রসেন কুঙর তখন চায় মা ||
কানড়া কুমারী আইল পক্ষের সাক্ষাতে |
উদাহ হইয়া পক্ষ বৈসে দুই হাথে ||
শঙ্খের উপর বস্যা মুখপানে চায় |
কলিঙ্গা রাউতি নয় মনে লজ্জা পায় ||
দ্বিজ রূপরাম গান অনাদ্যের বর |
কলমে বসিয়া খেলা কর মায়াধর ||

শারী বলে রাধাকৃষ্ণ শুয়া বলে রাম |
কানড়া বলেন পক্ষ বল পরিণাম ||
কোন দেশে কেমনে ধর্মের অবতার |
ব্যাকুল হইয়া বলে বল সমাচার ||
কোন বারে দিল ধর্ম পশ্চিম উদয় |
কত দিনে বাড়ীকে আসিব মহাশয় ||
বল বল শারী শুয়া জুড়াকু পরাণ |
ময়না বিতথা দেখ ময়না সমান ||
শুয়া বলে নিজ মুখে কি বলিতে জানি |
গলায় লিখন আছে দেখ রাজরাণী ||
হাকন্ডের বারতা লিখনে সব পাবে |
সত্বর বিদায় দেহ মধুরসভাবে ||
এত শুনি নিল পত্র পরম যতন |
মাথায় বন্দিল প্রাণনাথের লিখন ||
পরোয়ানা পড়ে তবে অঝোর নয়ান |
প্রভুর অক্ষর দেখি জুড়াইল প্রাণ ||
লঙ্কাপুরী নিগমে দুখিনী যেন সীতা |
অশোকের বলে পাইল রামের বারতা ||
একে একে পড়িল সকল সমাচার |
পশ্চিমউদয় না দেন ঠাকুর করতার ||
দুঃখের বারতা যত পড়ে হেঁটমুখে |
অজ্ঞান হইয়া কান্দে পত্র করি বুকে ||
এতকাল পশ্চিমউদয় হাকন্ডে নহিল |
বিধাতা বৈমুখ তেঁই দুর্গতি বাড়িল ||
দূরে গেল কঙ্কণ গলার হেমহার |
একজন বিনে শূন্য সকল সংসার ||
কলিঙ্গা বিহনে শূন্য মন্দির আবাস |
মাতুলশ্বশুর দেশে কৈল সর্বনাশ ||
বিপাক পড়িল বড় না দেখি উপায় |
এত বলি কান্দে ভূমে গড়াগড়ি যায় ||
শুয়া বলে কথার না সয় বিলম্বন |
আমি গেলে পশ্চিমউদয় দিব নিরঞ্জন ||
দশ দিন সভাই পাষাণে হিয়া বান্ধ |
সত্বরে বারতা লিখ কিবা আর কান্দ ||
তবে যদি পশ্চিমউদয় হয় কদাচিত |
পরিণামে মরা প্রাণ পাইবে তুরিত ||
পক্ষের বচন শুনি কানড়া কুমারী  |
আপনি বদনে তার দিল গঙ্গাবারি ||
কানড়া লিখেন পত্র দ্বিপ্রহর রাতি  |
ধুমসী নিকটে ধরে কনকের বাতি  ||
হেঁটমুখে সুন্দরী স্বামীরে পত্র লিখে |
মনে দুঃখ বারতা চিন্তেন একে একে ||
স্বস্তি আদি প্রথম লিখন মনোহর |
গজমোতিসম কান্তি কানড়া অক্ষর ||
মহোদধি মর্যাদা মহিমা মহাশয় |
কানড়া তোমার দাসী লিখে সবিনয় ||
লক্ষ লক্ষ চরণকমলে দন্ডবত |
বিধাতা বঞ্চিল বার বত্সরের পথ ||
এ কারণ লিখি যে বিলম্ব অতিশয় |
পশ্চিমউদয় দিয়া শীঘ্র আস্য নিজালয় ||
তোমা বিনা সর্বনাশ সুবর্ণ ময়না |
মাতুলশ্বশুর আস্যা দিল রাত্রি হানা ||
বারভূঞা দলবল সকল সহিতে |
চোরা হানা ময়নায় দিল আচম্বিতে ||
সবে লখ্যা ডুমননা জিনিল এক রণ |
তের দলুই শাখা সুখা হইল নিধন ||
সত্যের কারণে কাটা গেল কালুবীর |
কাচের বদলে কান্দে কাঞ্চন মন্দির ||
তারপর কলিঙ্গা সাজিয়া গেল রণে |
আত্মঘাতী হৈল মামাশ্বশুর-বচনে ||
পাটরাণী কলিঙ্গা গেলেন যমঘর |
অন্ডির পাখর ঘোড়া মৈল তারপর ||
বিধিমতে পালিল দিদির সপিন্ডন |
শ্মশান সদৃশ হৈল ধর্মের শাসন ||
দলবল রাজার বিস্তর গেছে কাটা |
শুকিনি গিধিনি আর শৃগালের ঘটা ||
আর কত নিবেদিব দুঃখের বারতা |
হেতায় বহিয়া গেছে লঙ্কার বিতথা ||
মনে চিন্তি সদাই তোমার দুটি পা |
চিত্রসেন কুঙর সদাই চায় মা ||
বিশেষ লিখন কত দুঃখের কাহিনী |
পক্ষের গলায় পক্ষ বান্ধিল আপনি ||

.  ******************     

.                                                 
জাগরণ পালার পরের পৃষ্ঠায় . . .  
.                                                                      
পাতার উপরে . . .   


মিলনসাগর
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকু পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা     
জাগরণ পালার আগের পৃষ্ঠায় . . .
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
জাগরণ পালা
পৃষ্ঠা                    ১০  ১১  ১২  ১৩  ১৪  ১৫  ১৬  ১৭  ১৮  ১৯  ২০